বিড়ালের ৭ আচরণ বলে দেবে, সে আপনাকে কতটা ভালোবাসে
বিড়ালকে অনেকেই স্বাধীনচেতা প্রাণী হিসেবে জানেন। কুকুরের মতো সবসময় মানুষের পিছু নেওয়া কিংবা প্রকাশ্যে আনন্দ প্রকাশ করার বদলে বিড়াল অনেক সময় নীরবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে। তাই তাদের ভালোবাসার ধরনও কিছুটা আলাদা। মানুষের সঙ্গে বসবাসের দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও বিড়ালকে পুরোপুরি মানুষের ওপর নির্ভরশীল প্রাণী হিসেবে দেখা যায় না। বরং নিজের ইচ্ছা ও স্বাধীনতা বজায় রেখেই মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে তারা। আর এই কারণেই বিড়ালের ভালোবাসা বোঝার জন্য তার ছোট ছোট আচরণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবসে জেনে নিন, আপনার পোষ্য বিড়ালটি আপনাকে বিশ্বাস করে ও ভালোবাসে কি না বোঝার সাতটি লক্ষণ। চোখের দিকে তাকিয়ে ধীরে চোখ বন্ধ করা আপনার দিকে তাকিয়ে বিড়াল যদি ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করে আবার খোলে, সেটি সাধারণত স্বস্তি ও বিশ্বাসের ইঙ্গিত হতে পারে। বিড়ালের এই আচরণকে অনেক সময় ‘ক্যাট কিস’ বলা হয়। আপনার বিড়াল এমন করলে আপনিও ধীরে চোখ বন্ধ করে আবার খুলতে পারেন। এতে তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু এই একটি আচরণের ওপর ভিত্তি করে বিড়ালের অনুভূতি বিচার না করাই ভালো। গা ঘেঁষে বা মাথা দিয়
বিড়ালকে অনেকেই স্বাধীনচেতা প্রাণী হিসেবে জানেন। কুকুরের মতো সবসময় মানুষের পিছু নেওয়া কিংবা প্রকাশ্যে আনন্দ প্রকাশ করার বদলে বিড়াল অনেক সময় নীরবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে। তাই তাদের ভালোবাসার ধরনও কিছুটা আলাদা। মানুষের সঙ্গে বসবাসের দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও বিড়ালকে পুরোপুরি মানুষের ওপর নির্ভরশীল প্রাণী হিসেবে দেখা যায় না। বরং নিজের ইচ্ছা ও স্বাধীনতা বজায় রেখেই মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে তারা। আর এই কারণেই বিড়ালের ভালোবাসা বোঝার জন্য তার ছোট ছোট আচরণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবসে জেনে নিন, আপনার পোষ্য বিড়ালটি আপনাকে বিশ্বাস করে ও ভালোবাসে কি না বোঝার সাতটি লক্ষণ।
চোখের দিকে তাকিয়ে ধীরে চোখ বন্ধ করা
আপনার দিকে তাকিয়ে বিড়াল যদি ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করে আবার খোলে, সেটি সাধারণত স্বস্তি ও বিশ্বাসের ইঙ্গিত হতে পারে। বিড়ালের এই আচরণকে অনেক সময় ‘ক্যাট কিস’ বলা হয়। আপনার বিড়াল এমন করলে আপনিও ধীরে চোখ বন্ধ করে আবার খুলতে পারেন। এতে তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু এই একটি আচরণের ওপর ভিত্তি করে বিড়ালের অনুভূতি বিচার না করাই ভালো।
গা ঘেঁষে বা মাথা দিয়ে আদর করা
বিড়াল আপনার পায়ের সঙ্গে গা ঘষছে, মাথা দিয়ে আলতো ধাক্কা দিচ্ছে কিংবা শরীর ঘেঁষে হাঁটছে? এটি তার সামাজিক বন্ধন ও পরিচিতির প্রকাশ হতে পারে। বিড়ালের শরীরে বিভিন্ন ধরনের গন্ধ-গ্রন্থি থাকে। গা ঘেঁষার মাধ্যমে তারা পরিচিত গন্ধের আদান-প্রদান করে। অন্য বিড়ালের সঙ্গেও তারা এমন আচরণ করতে পারে। ফলে আপনার শরীরে নিজের গন্ধ রেখে এবং আপনার গন্ধ গ্রহণ করে বিড়াল আপনাকে তার পরিচিত ও নিরাপদ পরিসরের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
আপনার পাশে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়া বিড়ালের আস্থার অন্যতম প্রকাশ
আপনার কাছেই ঘুমাতে চায়
ঘুমের সময় বিড়াল নিজেকে তুলনামূলকভাবে অসহায় অবস্থায় রাখে। তাই আপনার পাশে, পায়ের কাছে কিংবা একই ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়া তার কাছে জায়গাটিকে নিরাপদ মনে হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে ব্যস্ততার মধ্যেও যদি সে নিয়মিত আপনার কাছে এসে বিশ্রাম নেয়, তাহলে আপনার সঙ্গ তার কাছে স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
আপনাকে অনুসরণ করে
আপনি রান্নাঘরে গেলে সে পিছু পিছু গেল, অন্য ঘরে ঢুকলে সেও সঙ্গে গেল-এমন আচরণ অনেক বিড়ালের মধ্যেই দেখা যায়। এর অর্থ সবসময় শুধু ভালোবাসা নয়। কৌতূহল, খাবারের প্রত্যাশা, খেলতে চাওয়া কিংবা অভ্যাসও এর কারণ হতে পারে। তবে নিয়মিত আপনার সঙ্গ খোঁজা সামাজিক বন্ধনের একটি লক্ষণ হতে পারে।
আপনার কাছে খেলনা নিয়ে আসে
প্রিয় খেলনা মুখে করে আপনার কাছে এনে রাখছে? এটিও সামাজিক যোগাযোগের একটি উপায় হতে পারে। বিড়াল কখনো খেলনা নিয়ে এসে আপনার সঙ্গে খেলতে চাইতে পারে। আবার নিজের পছন্দের কোনো জিনিস আপনার কাছে নিয়ে আসা তার পরিচিতি ও সামাজিক বন্ধনের অংশও হতে পারে।
পাশে বসে গরগর শব্দ করে
আপনার পাশে বসে আদর নেওয়ার সময় বিড়াল যদি গরগর শব্দ করে, সেটি অনেক ক্ষেত্রে স্বস্তি ও সন্তুষ্টির প্রকাশ। তবে সব পরিস্থিতিতে এই শব্দকে সুখের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। উদ্বেগ, অস্বস্তি কিংবা অসুস্থতার সময়ও কিছু বিড়াল গরগর করতে পারে। তাই তার শরীরী ভাষা, আচরণ ও পরিস্থিতি একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
আপনাকে চেটে দেয়
বিড়াল নিজের শরীর পরিষ্কার করার পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ সামাজিক বন্ধনের সদস্যদেরও চেটে দিতে পারে। তাই আপনার হাত বা শরীর চেটে দিলে সেটি পরিচর্যা ও সামাজিক বন্ধনের আচরণ হতে পারে। বিশেষ করে বিড়াল যদি আপনার কাছে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং নিয়মিত এমন আচরণ করে, তাহলে এটি তার ঘনিষ্ঠতার প্রকাশ হতে পারে।
ভালোবাসা মানে শুধু আদর নয়
বিড়ালের ভালোবাসা মানুষের মতো করে প্রকাশ পায় না। কোনো বিড়াল হয়তো সারাক্ষণ মালিকের পাশে থাকবে, আবার কোনোটি কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেও নিজের মতো করে সঙ্গ দেবে। কেউ আদর পছন্দ করবে, কেউ আবার একই ঘরে বসে থাকাকেই যথেষ্ট মনে করবে। তাই একটি আচরণ দেখেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে তার সামগ্রিক শরীরী ভাষা ও দৈনন্দিন অভ্যাস লক্ষ্য করা ভালো।
বিড়ালের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার ব্যক্তিগত সীমা ও পছন্দকে সম্মান করা। সে যখন কাছে আসতে চায়, তখন আদর করুন,; আবার একা থাকতে চাইলে তাকে সময় দিন। জোর করে কোলে নেওয়া বা বিরক্ত করা এড়িয়ে চললে আপনার প্রতি তার আস্থা আরও বাড়তে পারে।

কোন বয়সের পর টিভি দেখা কমানো উচিত
৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস তাই শুধু পোষ্যকে আদর করার উপলক্ষ নয়, বরং তার নীরব ভাষা বোঝারও সুযোগ। আপনার বিড়াল হয়তো মুখে কিছু বলতে পারে না, কিন্তু চোখের ভাষা, গা ঘেঁষে থাকা, পাশে ঘুমিয়ে পড়া কিংবা আপনাকে অনুসরণ করার মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে তার মনের কথা।
সূত্র: পেটএমডি, দ্য গার্ডিয়ান
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?
