বিদেশে পড়তে গেলে যে কারণে আমাদের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়

বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করা এখন আর শুধু একটা একাডেমিক সিদ্ধান্ত নয়। এটা একজন মানুষের জীবন আর ক্যারিয়ার দুটোকেই নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষাবিদরা বলছেন, বিদেশে পড়তে যাওয়া একজন শিক্ষার্থীকে অনেক কিছু শেখায়। নতুন অভিজ্ঞতা দেয়, ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করে, আর পৃথিবীটাকে নতুন চোখে দেখতে শেখায়। এখনকার কর্মবাজার তো পুরোপুরি বৈশ্বিক হয়ে গেছে। আর নিয়োগদাতারাও এমন মানুষ খোঁজেন যারা বিদেশে পড়াশোনা বা কাজ করেছেন। কারণ, এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় মানুষটা নতুন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন। নিজে থেকে উদ্যোগ নিতে পারেন, আর ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভ্যাস আছে। একটা কথা প্রায়ই বলা হয় আজকের দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে যে কোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা দরকার। বিদেশে পড়তে গেলে একজন শিক্ষার্থী নতুন করে দুনিয়া দেখতে শেখেন। ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শেখেন। নানা দেশের সহপাঠীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা পান। আর নতুন ভাষায় কথা বলাও শিখে ফেলেন। আরও পড়ুন বিশ্বকাপ জিতে দেশে ফিরে টমেটো উপহার পেলেন রুইজ-গা

বিদেশে পড়তে গেলে যে কারণে আমাদের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়

বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করা এখন আর শুধু একটা একাডেমিক সিদ্ধান্ত নয়। এটা একজন মানুষের জীবন আর ক্যারিয়ার দুটোকেই নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষাবিদরা বলছেন, বিদেশে পড়তে যাওয়া একজন শিক্ষার্থীকে অনেক কিছু শেখায়। নতুন অভিজ্ঞতা দেয়, ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করে, আর পৃথিবীটাকে নতুন চোখে দেখতে শেখায়। এখনকার কর্মবাজার তো পুরোপুরি বৈশ্বিক হয়ে গেছে। আর নিয়োগদাতারাও এমন মানুষ খোঁজেন যারা বিদেশে পড়াশোনা বা কাজ করেছেন। কারণ, এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় মানুষটা নতুন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন। নিজে থেকে উদ্যোগ নিতে পারেন, আর ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভ্যাস আছে।

একটা কথা প্রায়ই বলা হয় আজকের দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে যে কোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা দরকার। বিদেশে পড়তে গেলে একজন শিক্ষার্থী নতুন করে দুনিয়া দেখতে শেখেন। ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শেখেন। নানা দেশের সহপাঠীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা পান। আর নতুন ভাষায় কথা বলাও শিখে ফেলেন।

নতুন সংস্কৃতি চেনা

বিদেশে পড়াশোনার সবচেয়ে বড় লাভ হলো, নতুন একটা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় হয় আর মানুষ আরও উদার মনের হয়ে ওঠে। বই পড়ে বা ভিডিও দেখে যতটা জানা যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি জানা যায় নিজে সেই দেশে গিয়ে থাকলে। আসলে একটা সংস্কৃতিকে বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সেখানে গিয়ে নিজেই সেই জীবনযাপনের অংশ হয়ে যাওয়া, আর সেটা শুধু সেই দেশে থাকলেই সম্ভব।

পড়াশোনা আর ক্যারিয়ারে উন্নতি

বিদেশে থাকার সময় একজন শিক্ষার্থী নতুন জিনিস শিখতে অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। আর সেই শেখাটা পরে বাস্তব জীবনে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কাজেকর্মে সহজেই কাজে লাগানো যায়। তাই বিশ্বায়নের এই যুগে এমন শিক্ষার্থীরা কর্মবাজারে অন্যদের চেয়ে একটু এগিয়ে থাকেন। এছাড়া ক্লাসের সহপাঠীরা যখন বিভিন্ন দেশ থেকে আসেন, তখন পড়াশোনার মানও বেড়ে যায়। কারণ একটা বিষয়ে নানা রকম মতামত আর অভিজ্ঞতা একসঙ্গে পাওয়া যায়।

ভাষা শেখার সুযোগ

অনেকের জন্য বিদেশে পড়াশোনা মানেই একটা নতুন ভাষা রপ্ত করার সুযোগ। সরাসরি সেই ভাষায় ক্লাস করে এবং প্রতিদিনের জীবনে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে বলে ভাষাটা রপ্ত হয়ে যায়।

বৈশ্বিক কেন্দ্র এবং দক্ষতা

কোনো একটা বিষয়ে বিশ্বের সেরা জায়গায় গিয়ে পড়ার একটা আলাদা সুবিধা আছে। সেখানে গেলে সেই বিষয়ের নামকরা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ মেলে, অতিথি বক্তাদের বক্তৃতা শোনা যায়। আর অনেক সময় দারুণ কাজের অভিজ্ঞতাও জুটে যায়। আসলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন বিষয়ে বিখ্যাত। কোনো দেশ যেমন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এগিয়ে, কোনো দেশ আবার ব্যবসা বা ব্যবস্থাপনা পড়ার জন্য সেরা। কোথাও শিল্প-নকশা আর খেলাধুলার চর্চা ভালো হয়, আবার কোনো দেশ কাজের সঙ্গে পড়াশোনা মিলিয়ে শেখার জন্য বিখ্যাত।

দুনিয়াটাকে বড় করে দেখতে শেখা

বিদেশে পড়তে গেলে মানুষ নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, নতুন ধরনের চিন্তাভাবনা আর সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই মাথায় নতুন নতুন আইডিয়া আসে, সমস্যা সমাধানের নতুন পথ খুঁজে পাওয়া যায়। আর নিজের কাজের জায়গায় এমন কিছু নতুন কিছু করার সাহস তৈরি হয়, যা অনেক মানুষের উপকারে লাগতে পারে। সহজ কথায়, বিদেশে পড়াশোনা মানুষের দেখার চোখটাকেই বড় করে দেয়। ছোট গণ্ডির বাইরে গিয়ে বড় পরিসরে, লম্বা সময় ধরে চিন্তা করার অভ্যাস তৈরি হয়।

যারা বিদেশে পড়তে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এটা শুধু একটা বিদেশি ডিগ্রি জোগাড় করা নয় এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। যা ভবিষ্যতে চাকরি পাওয়া আর নিজেকে গড়ে তোলা, দুই ক্ষেত্রেই কাজে লাগে। তবে কোন দেশে গিয়ে পড়বেন, সেটা নির্ভর করে কী বিষয়ে পড়তে চান তার ওপর। কারণ ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যবসা, নকশা বা প্রশাসনের মতো বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন দেশ ও শহরের নিজস্ব সুনাম আছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো একজন মানুষকে পৃথিবীর কঠিন কঠিন সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত করে। চাকরির বাজারে তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখে।

সূত্র: এনডিটিভি

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow