বিদ্যুৎ বিল কমাতে ফোনের চার্জার সকেটে রাখবেন, নাকি খুলে রাখবেন?
স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে অনলাইন লেনদেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা কিংবা বিনোদন প্রায় সব ক্ষেত্রেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে নিয়মিত ফোন চার্জ দেওয়াও এখন আমাদের প্রতিদিনের রুটিনের অংশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতিদিন একটি স্মার্টফোন চার্জ করতে মাসে বিদ্যুৎ বিল কতটা বাড়ে? ফোন চার্জ করতে কত বিদ্যুৎ লাগে? বর্তমান সময়ের অধিকাংশ স্মার্টফোনে ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ এমএএইচ ক্ষমতার ব্যাটারি দেখা যায়। এসব ফোনের সঙ্গে সাধারণত ৪৫ থেকে ৮০ ওয়াটের চার্জার দেওয়া হয়। তবে চার্জারের গায়ে লেখা ওয়াটের পরিমাণ দেখে মনে করার কারণ নেই যে পুরো চার্জিং সময় একই হারে বিদ্যুৎ খরচ হয়। একটি ফোন শূন্য থেকে পূর্ণ চার্জ করতে সাধারণত প্রায় ১৫ থেকে ২৫ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন হতে পারে। চার্জিংয়ের সময় কিছু শক্তি তাপ ও অন্যান্য ক্ষতির কারণে নষ্ট হয়। ফলে দেয়াল সকেট থেকে নেওয়া বিদ্যুতের পরিমাণ ব্যাটারিতে জমা হওয়া শক্তির তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে। ফাস্ট চার্জিং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ সামান্য পরিবর্তিত হতে
স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে অনলাইন লেনদেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা কিংবা বিনোদন প্রায় সব ক্ষেত্রেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে নিয়মিত ফোন চার্জ দেওয়াও এখন আমাদের প্রতিদিনের রুটিনের অংশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতিদিন একটি স্মার্টফোন চার্জ করতে মাসে বিদ্যুৎ বিল কতটা বাড়ে?
ফোন চার্জ করতে কত বিদ্যুৎ লাগে?
বর্তমান সময়ের অধিকাংশ স্মার্টফোনে ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ এমএএইচ ক্ষমতার ব্যাটারি দেখা যায়। এসব ফোনের সঙ্গে সাধারণত ৪৫ থেকে ৮০ ওয়াটের চার্জার দেওয়া হয়। তবে চার্জারের গায়ে লেখা ওয়াটের পরিমাণ দেখে মনে করার কারণ নেই যে পুরো চার্জিং সময় একই হারে বিদ্যুৎ খরচ হয়।
একটি ফোন শূন্য থেকে পূর্ণ চার্জ করতে সাধারণত প্রায় ১৫ থেকে ২৫ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন হতে পারে। চার্জিংয়ের সময় কিছু শক্তি তাপ ও অন্যান্য ক্ষতির কারণে নষ্ট হয়। ফলে দেয়াল সকেট থেকে নেওয়া বিদ্যুতের পরিমাণ ব্যাটারিতে জমা হওয়া শক্তির তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে। ফাস্ট চার্জিং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
মাসে খরচ কত?
ধরা যাক, একটি স্মার্টফোন প্রতিদিন একবার সম্পূর্ণ চার্জ করতে গড়ে ২০ ওয়াট-ঘণ্টা বা ০.০২ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। ৩০ দিনে মোট খরচ দাঁড়াবে প্রায় ০.৬ কিলোওয়াট-ঘণ্টা, অর্থাৎ ০.৬ ইউনিট।
যদি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা হিসেবে ধরা হয়, তাহলে ওই ফোনটি প্রতিদিন একবার চার্জ করার জন্য মাসে খরচ হবে আনুমানিক ৬ টাকা। ইউনিটপ্রতি দাম ১২ টাকা হলে একই হিসাবে খরচ হবে প্রায় ৭ টাকা ২০ পয়সা।
অর্থাৎ একটি স্মার্টফোন প্রতিদিন চার্জ করার কারণে মাসিক বিদ্যুৎ বিল বাড়ার পরিমাণ সাধারণত খুব বেশি নয়। অবশ্য ফোনের ব্যাটারির আকার, চার্জিংয়ের হার, প্রতিদিন কতবার চার্জ দেওয়া হচ্ছে এবং চার্জারের দক্ষতার ওপর প্রকৃত খরচ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
চার্জার প্লাগে লাগিয়ে রাখলে কী হয়?
অনেকে ফোন খুলে নেওয়ার পরও চার্জারটি সকেট থেকে খুলে রাখেন না। ফোন সংযুক্ত না থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকলে চার্জার সামান্য শক্তি ব্যবহার করতে পারে। এই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিচিত নাম ‘স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার’ বা ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’।
চার্জারের ভেতরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সার্কিট সচল রাখার জন্য এই অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। আধুনিক চার্জারে স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় বিদ্যুৎ খরচ সাধারণত খুবই কম, প্রায় ০.১ থেকে ০.৫ ওয়াটের মধ্যে হতে পারে। ফলে একটি চার্জার ২৪ ঘণ্টা সকেটে লাগানো থাকলে মাসে কিছু অতিরিক্ত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে।
তবে এই খরচ সাধারণত ফোন চার্জ করার মূল বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় খুবই সামান্য। তাই শুধু চার্জার প্লাগে লাগিয়ে রাখার কারণে বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।
কেন চার্জার খুলে রাখা ভালো?
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণেও কাজ শেষে চার্জার সকেট থেকে খুলে রাখা ভালো অভ্যাস। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগে থাকার ফলে চার্জারের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক উপাদান ক্রমাগত কাজ করতে থাকে। সময়ের সঙ্গে এতে যন্ত্রাংশের ওপর চাপ পড়তে পারে এবং চার্জারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
এছাড়া বিদ্যুতের ভোল্টেজে হঠাৎ বড় ধরনের ওঠানামা হলে প্লাগে লাগানো চার্জার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বজ্রপাত বা বৈদ্যুতিক লাইনে অস্বাভাবিক ভোল্টেজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে।
তাই ফোন চার্জ হয়ে গেলে শুধু মোবাইলটি সরিয়ে রাখাই নয়, চার্জারটিও সকেট থেকে খুলে রাখা নিরাপদ। এতে বিদ্যুতের সামান্য অপচয় কমবে, পাশাপাশি চার্জারকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি থেকেও কিছুটা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
কেএসকে
What's Your Reaction?

