বিপদে অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করায় ভাড়া নিলেন না অটোচালক!

সকালবেলা তাড়াহুড়ো করে বোনকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল এক কিশোর। রাস্তায় দেখল, একই স্কুলের আরেকটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারও স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। চেনা নেই, জানা নেই—তবুও মেয়েটিকে একা ফেলে রেখে যেতে মন সায় দিল না ছেলেটির। নিজের বোনের পাশাপাশি সেই অচেনা মেয়েটিকেও সে পরম যত্নে তুলে নিল নিজেদের অটোতে। তিনজন মিলে অটোর পেছনের সিটে বসে গল্প করতে করতে পৌঁছে গেল স্কুলের গেটে। গাড়ি থামতেই দুই বোন হুড়মুড় করে নেমে দৌড় দিল স্কুলের দিকে। কিন্তু ছেলেটি নামল ধীরেসুস্থে। পকেট থেকে টাকা বের করে সে দাঁড়াল চালকের সামনে, সবার ভাড়া মিটিয়ে দেবে বলে। কিন্তু টাকা নেওয়ার আগে অটোচালক একটু থামলেন। কৌতুহলী চোখে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দুইজনই কি তোমার বোন?’ আরও পড়ুন পরীক্ষা ভারতে, কেন্দ্র আমিরাত: পরীক্ষার্থীর মাথায় হাত! ছেলেটি মিষ্টি করে হেসে বিনয়ের সঙ্গে জবাব দিল, ‘না, শুধু একজন আমার বোন। অন্য মেয়েটির স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছিল, তাই ওকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে এলাম।’ ছোট্ট এই উত্তরটি যেন তীরের মতো গিয়ে লাগল চালকের বুকে। এতটুকু একটা ছেলের এমন দায়িত্বশীলতা আর পরোপকারী মনোভাব দেখে তিনি ভীষণ মুগ্ধ হলেন

বিপদে অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করায় ভাড়া নিলেন না অটোচালক!

সকালবেলা তাড়াহুড়ো করে বোনকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল এক কিশোর। রাস্তায় দেখল, একই স্কুলের আরেকটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারও স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। চেনা নেই, জানা নেই—তবুও মেয়েটিকে একা ফেলে রেখে যেতে মন সায় দিল না ছেলেটির। নিজের বোনের পাশাপাশি সেই অচেনা মেয়েটিকেও সে পরম যত্নে তুলে নিল নিজেদের অটোতে।

তিনজন মিলে অটোর পেছনের সিটে বসে গল্প করতে করতে পৌঁছে গেল স্কুলের গেটে। গাড়ি থামতেই দুই বোন হুড়মুড় করে নেমে দৌড় দিল স্কুলের দিকে। কিন্তু ছেলেটি নামল ধীরেসুস্থে। পকেট থেকে টাকা বের করে সে দাঁড়াল চালকের সামনে, সবার ভাড়া মিটিয়ে দেবে বলে।

কিন্তু টাকা নেওয়ার আগে অটোচালক একটু থামলেন। কৌতুহলী চোখে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দুইজনই কি তোমার বোন?’

ছেলেটি মিষ্টি করে হেসে বিনয়ের সঙ্গে জবাব দিল, ‘না, শুধু একজন আমার বোন। অন্য মেয়েটির স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছিল, তাই ওকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে এলাম।’

ছোট্ট এই উত্তরটি যেন তীরের মতো গিয়ে লাগল চালকের বুকে। এতটুকু একটা ছেলের এমন দায়িত্বশীলতা আর পরোপকারী মনোভাব দেখে তিনি ভীষণ মুগ্ধ হলেন।

অটোচালক পরম স্নেহে ছেলেটির ভাড়ার টাকা ফিরিয়ে দিলেন। জানালেন, এই যাত্রার কোনো ভাড়া তিনি নেবেন না। উল্টো ছেলেটিকে দোয়া করে বললেন, ‘এই টাকাটা তোমার কাছেই রাখো। তোমরা দুই ভাই-বোন মিলে এটা দিয়ে ভালো কিছু কিনে খেও। ’

টাকা না নেওয়ার পেছনে চালকের নিজেরও একটা গল্প ছিল। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বললেন, ছোটবেলায় যখন তার নিজেরও এমন তাড়া থাকত, তিনি কত মানুষের কাছে একটু লিফটের জন্য হাত পেতেছেন। আজ এই শিশুদের মুখে হাসি দেখে তার নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে গেছে। এই হাসির আনন্দ দুনিয়ার সব টাকার চেয়ে অনেক বড়।

সম্প্রতি এক্সে (সাবেক টুইটার) এই পুরো ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। আর তা দেখেই আবেগে ভাসছেন নেটিজেনরা। ছোট্ট ছেলেটির ভদ্রতা আর অটোচালকের বিশাল মন—দুই-ই এখন মানুষের মুখে মুখে।

ভিডিওর নিচে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ছেলেটি এত ছোট, অথচ এখনই সে একজন সত্যিকারের ভদ্রলোক!’ আরেকজন লিখেছেন, ‘দৃশ্যটি দেখে আমার নিজের ফেলে আসা শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল।’

সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow