বিপৎসীমার ওপরে দক্ষিণের ৯ নদীর পানি, শহরে জলাবদ্ধতা
দুই দিনের ব্যাবধানে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বেড়েছে। ফলে কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত, কঁচাসহ নয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার আরও ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে বুধবার পর্যন্ত ৮ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এ কারণে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি জেলার উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এমনকি নদীর পানি ঢুকে পড়েছে বরিশালের প্রাণকেন্দ্র সদররোডসহ আশপাশের এলাকায়। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ।
পানি বিজ্ঞান বিভাগ বলছে, একদিনের ব্যবধানে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার এক মিটার পর্যন্ত বেড়েছে। এ কারণে পানি নদী ছাপিয়ে গ্রামাঞ্চলে ঢুকে পড়ছে। শুক্রবার জোয়ারের সময় নদীর পানি আর বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন, পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার পর নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী পলাশপুর, ধানগবেষনা রোড, কালিজিরার জাগুয়া এলাকা, নগরীর সদর রোড, আগরপুর রোড, পুলিশ লাইন্স রোডের এন হোসেন এভিনিউ, সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ, চন্দ্রমোহন এবং চরকাউয়া ইউন
দুই দিনের ব্যাবধানে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বেড়েছে। ফলে কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত, কঁচাসহ নয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার আরও ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে বুধবার পর্যন্ত ৮ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এ কারণে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি জেলার উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এমনকি নদীর পানি ঢুকে পড়েছে বরিশালের প্রাণকেন্দ্র সদররোডসহ আশপাশের এলাকায়। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ।
পানি বিজ্ঞান বিভাগ বলছে, একদিনের ব্যবধানে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার এক মিটার পর্যন্ত বেড়েছে। এ কারণে পানি নদী ছাপিয়ে গ্রামাঞ্চলে ঢুকে পড়ছে। শুক্রবার জোয়ারের সময় নদীর পানি আর বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন, পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার পর নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী পলাশপুর, ধানগবেষনা রোড, কালিজিরার জাগুয়া এলাকা, নগরীর সদর রোড, আগরপুর রোড, পুলিশ লাইন্স রোডের এন হোসেন এভিনিউ, সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ, চন্দ্রমোহন এবং চরকাউয়া ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী এলাকা পানিতে ভাসছে। নদীর তীরবর্তী অনেক ঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। এ কারণে সীমাহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বসবাসকারীদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম জানান, তারা দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি নদীর ১৬টি পয়েন্টের পানি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেছেন। এতে দেখা যায় গত মঙ্গলবার থেকে নদীর পানি জোয়ারের সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করছে।
তিনি জানান, গত তিনদিন ধরে জোয়ারের সময় ৯টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ বরিশাল নগরঘেষা কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ১ অতিক্রম করে করে ২ দশমিক ২৪ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এ ছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী/সুগন্ধা নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৫৯ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া নদীর ভোলা খেয়াঘাট এলাকায় বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ অতিক্রম করে ২ দশমিক ২২ মিটার, সুরমা-মেঘনা নদীর দৌলতখান উপজেলাধীন নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ৯৫ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ৩৬ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা পূর্বের দিনের থেকে বেশি।
অন্যদিকে- সুরমা-মেঘনার নদীর তজুমদ্দিন উপজেলার পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ২২ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৯ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৯ মিটার অতিক্রম ১ দশমিক ৭০ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বরগুনার বিষখালী/খাকদান নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯৭ অতিক্রম করে ২ দশমিক ২৬ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এ ছাড়া বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলাধীন বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৮৫ অতিক্রম করে ২ দশমিক ১৭ মিটার, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলাধীন পায়রা/শ্রীমন্ত নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৮ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৯৪ মিটার, কঁচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টের পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৬৫ অতিক্রম করে ১ দশমিক ৮৬ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আমতলী উপজেলাধীন বুড়িশ্বর/পায়রা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ০৭ অতিক্রম করে ২ দশমিক ১৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া, উজিরপুরের সন্ধ্যা এবং কাঠিপাড়ার লোহালিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ছুইছুই।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যার প্রভাব বরিশাল অঞ্চলে নেই। তবে অমাবশ্যা এবং বাতাসের গতিবেগ বেশি হওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে নয়টি নদীর পানি অন্যান্য দিনের তুলনায় জোয়ারের সময় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অমাবশ্যা আর দুইদিন আছে। এই সময়ে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার জানান, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ চলছে। এজন্য মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার দিনে বরিশালের কোথাও বৃষ্টি হয়নি। লঘুচাপ ঘুর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নদ-নদীর পানি কয়েক ফুট বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।