বিবাহিত শিক্ষার্থীদের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল কলেজ প্রশাসন
বিবাহিত শিক্ষার্থীদের সিট বাতিলসহ অনার্স ১ম থেকে ২য় বর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা কলেজ প্রশাসন। এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া সভায় একাডেমিক বিষয়ে মোট সাতটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একাডেমিক কাউন্সিল সভাপতি ও ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস স্বাক্ষরিত একাডেমিক কাউন্সিল সভার কার্যবিবরণী পত্রে ‘একাডেমিক সিদ্ধান্ত’-এর ‘ঙ’ নম্বরে ইয়ার ড্রপ এবং ফেইল করলে সেই শিক্ষার্থীর জন্য কোনো বিভাগ সুপারিশ করতে পারবেনা এবং বিবাহিত সকল শিক্ষার্থীদের সিট বাতিল বলে গণ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ‘ঘ’ নম্বরে অনার্স ১ম থেকে ২য় বর্ষ পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্দ না পাওয়া এবং মাস্টার্স শেষপর্ব পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ছাত্রাবাসে আর কোনো সিট বরাদ্দ থাকবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসাথে মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা এক বছরের জন্য সিট বরাদ্দ পাবে বলে বলা হয়। সদ্য বিয়ে করা ঢাকা কলেজের আবাসি
বিবাহিত শিক্ষার্থীদের সিট বাতিলসহ অনার্স ১ম থেকে ২য় বর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা কলেজ প্রশাসন। এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া সভায় একাডেমিক বিষয়ে মোট সাতটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একাডেমিক কাউন্সিল সভাপতি ও ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস স্বাক্ষরিত একাডেমিক কাউন্সিল সভার কার্যবিবরণী পত্রে ‘একাডেমিক সিদ্ধান্ত’-এর ‘ঙ’ নম্বরে ইয়ার ড্রপ এবং ফেইল করলে সেই শিক্ষার্থীর জন্য কোনো বিভাগ সুপারিশ করতে পারবেনা এবং বিবাহিত সকল শিক্ষার্থীদের সিট বাতিল বলে গণ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ‘ঘ’ নম্বরে অনার্স ১ম থেকে ২য় বর্ষ পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্দ না পাওয়া এবং মাস্টার্স শেষপর্ব পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ছাত্রাবাসে আর কোনো সিট বরাদ্দ থাকবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসাথে মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা এক বছরের জন্য সিট বরাদ্দ পাবে বলে বলা হয়।
সদ্য বিয়ে করা ঢাকা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থী হানিফ সরকার বলেন, কলেজ প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত একেবারেই অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক।
একজন শিক্ষার্থী বিবাহিত হলেই কেন তার আবাসনের অধিকার হারাতে হবে? শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, আর বৈধভাবে জীবনযাপন করা কোনো অপরাধ নয়। আমি মনে করি, নিয়ম হওয়া উচিত— শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনে চলবে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের কারণে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা ন্যায়সঙ্গত নয়।
অনার্সের প্রথম থেকে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসনের ব্যাপারে আর কী বলবো। প্রথম বর্ষ থেকে হলের জন্য ট্রাই করছি এখন ২য় বর্ষে কিন্তু এখন পর্যন্ত সিট পেলাম না। আমার মনে হয় আমাদের কলেজে জোরপূর্বক নিজের অধিকার নিজে বুঝে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তাও পাব কিনা সন্দেহ। তারা যে আমাদের ব্যাপারে কোনো চিন্তা করে না এটা প্রশাসনের বক্তব্য দ্বারাই বোঝা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, বিবাহিতরা হলে থাকতে পারবে এরকম কোনো বিধান আমার জানা নেই, জানতে হবে আমার। এটা অনেক আগে থেকেই কার্যকর আছে। কেউ যদি বিবাহ করে থাকে তাহলে আমরা খোঁজ নিবো।
অনার্স প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা অনেক আগে থেকেই কার্যকর ছিল। প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থীকে হলে সিট বরাদ্দ দিলে সে সাত-আট বছর হলে থাকে। এটার নীতিমালা অনেক আগে থেকেই আছে কাজেই এটা নতুন না।
শিক্ষক পরিষদের যুগা সাধারণ সম্পাদক জনাব রেবেকা সুলতানা লিপি, বিবাহিতদের হলে থাকার বিষয়টা কে কিভাবে দেখছে সেটি আপেক্ষিক কারণ আমরা তো জানিও না যে- কোন ছেলে বিবাহিত বা কোন ছেলে বিবাহিত নয়। সেটা তো আমাদের জানার কথা না তবে কেউ যদি কোনো সমস্যায় পড়ে বা কোনো মেয়ে বা তার ওয়াইফ যদি কমপ্লেইন করে বা কোনো ধরনের অসংগতি দেখা দিলে সেটি হয়তো কলেজ প্রশাসন ভেবে দেখবে।
তিনি আরো বলেন, হলে সিট পাওয়া ছাত্রদের অধিকার। যারা সুবিধাবঞ্চিত তাদের জন্য সিট বেশি দরকার। বিবাহিতদের জন্য সবাই চাচ্ছে না যে তারা হলে থাকুক। তারা বাহিরে থেকে অন্যদের থাকার সুযোগ করে দিক।
অনার্স প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা কেন সিট পাবে সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়টি একান্তই কলেজ প্রশাসনের। এটি আগে নিয়মই ছিল যে ফার্স্ট এবং সেকেন্ড ইয়ার হলের সিট পাবে না। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি আমিও সিট পাইনি। ফার্স্ট ইয়ারে একটা ছেলে সিট পেয়ে গেলে সে অনেক বছর থাকতে পারবে এতে অন্যরা বঞ্চিত হবে বিষয়টা এইরকম।
What's Your Reaction?