বিশ্বকাপ ফাইনালে বিটিএসের পোশাকে কোরিয়ান ফুটবল সংস্কৃতি

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল মানেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চের শেষ মহারণ। কোটি কোটি দর্শকের চোখ থাকে মাঠে, আর সেই আবেগকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক হাফটাইম শো। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতিতে আয়োজন করা হয় পূর্ণাঙ্গ মিউজিক পারফরম্যান্স, যেখানে শাকিরা, বার্না বয়, ম্যাডোনা ও জাস্টিন বিবারের পাশাপাশি মঞ্চ মাতায় বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা লড়াইয়ের মাঝখানে মাত্র ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের পারফরম্যান্স করলেও বিটিএস যেন পুরো স্টেডিয়ামের আলো নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। চার বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেই আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাংকুক আবারও প্রমাণ করেন, তারা শুধু সঙ্গীত নয়, স্টাইলেও বিশ্বমঞ্চে আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তাদের লাইভ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে সাত সদস্যের পোশাক ও স্টাইলিং নিয়ে। ছবি: এএফপি লাল-কালো-সাদায় ফুটে উঠল ‘রেড ডেভিলস’-এর প্রতি শ্রদ্ধা এবারের হাফটাইম শোয়ে বিটিএসের পুরো স্টাইলিং সাজানো হয়েছিল লাল, কালো ও সাদা রঙকে কেন্দ্র করে। এই রঙের ব্যবহার ছিল শুধুই ফ্যাশনের জন্য নয়

বিশ্বকাপ ফাইনালে বিটিএসের পোশাকে কোরিয়ান ফুটবল সংস্কৃতি

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল মানেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চের শেষ মহারণ। কোটি কোটি দর্শকের চোখ থাকে মাঠে, আর সেই আবেগকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক হাফটাইম শো। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতিতে আয়োজন করা হয় পূর্ণাঙ্গ মিউজিক পারফরম্যান্স, যেখানে শাকিরা, বার্না বয়, ম্যাডোনা ও জাস্টিন বিবারের পাশাপাশি মঞ্চ মাতায় বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস।

আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা লড়াইয়ের মাঝখানে মাত্র ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের পারফরম্যান্স করলেও বিটিএস যেন পুরো স্টেডিয়ামের আলো নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। চার বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেই আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাংকুক আবারও প্রমাণ করেন, তারা শুধু সঙ্গীত নয়, স্টাইলেও বিশ্বমঞ্চে আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তাদের লাইভ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে সাত সদস্যের পোশাক ও স্টাইলিং নিয়ে।

jagoছবি: এএফপি

লাল-কালো-সাদায় ফুটে উঠল ‘রেড ডেভিলস’-এর প্রতি শ্রদ্ধা

এবারের হাফটাইম শোয়ে বিটিএসের পুরো স্টাইলিং সাজানো হয়েছিল লাল, কালো ও সাদা রঙকে কেন্দ্র করে। এই রঙের ব্যবহার ছিল শুধুই ফ্যাশনের জন্য নয়; বরং দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থক গোষ্ঠী ‘রেড ডেভিলস’-এর প্রতি সম্মান জানানোর একটি প্রতীকী উপস্থাপনা।

লাল রং পোশাকে নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের সঙ্গেও মিল রেখেছে। পারফরম্যান্সের আগে ভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘যাই ঘটুক না কেন, সে এখনও একজন রেড ডেভিল।’ সেই বার্তাই যেন পুরো স্টাইলিংয়ের মূল দর্শন হয়ে ওঠে।

jagoছবি: এএফপি

সাত সদস্য, সাত রকম স্টাইল

প্রত্যেক সদস্যের পোশাকে ছিল নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ছাপ, তবে পুরো দলকে একত্রে দেখলে মনে হয়েছে একটি সুপরিকল্পিত ফ্যাশন কনসেপ্ট।

জাংকুক পরেছিলেন ব্রিটিশ ডিজাইনার কোর্টনি এমসি-র তৈরি কাস্টম ডার্ট লেদার রাইডার জ্যাকেট। বাইকার স্টাইলের এই জ্যাকেট তার পারফরম্যান্সে যোগ করেছে আধুনিক রকস্টার আবহ।

jagoছবি: এএফপি

ভি-ও কালো চামড়ার রাইডার জ্যাকেট বেছে নেন। তার লুক ছিল একই সঙ্গে মিনিমাল, এজডি এবং ক্যারিশম্যাটিক। জিমিনের জার্সিতে ছিল ৭ নম্বর, যা দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক সন হিউং-মিনের জার্সি নম্বরের প্রতি শ্রদ্ধা। তার বেল্টে ধাতব স্টাড দিয়ে লেখা ছিল ‘হাফটাইম’, যা পুরো লুককে আরও ব্যতিক্রমী করেছে। সুগা পরেছিলেন রেড ডেভিলস লোগোযুক্ত উইন্ডব্রেকার, যা ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করেছে।

jago

জিন হাজির হন সম্পূর্ণ লাল ট্র্যাকস্যুটে। অন্যদিকে জে-হোপের লুকে ছিল লাল জার্সি, মানানসই ট্রাউজার্স, ডাবল বেল্ট এবং কালো চামড়ার গ্লাভস-যা পুরো লুককে দিয়েছে স্ট্রিট ফ্যাশনের স্পর্শ। আরএমের চারকোল ধূসর ট্র্যাকস্যুটে লাল অ্যাকসেন্ট স্ট্রাইপ পুরো দলের রঙের ভারসাম্য বজায় রেখেছে।

jagoছবি: এএফপি

ছোট অ্যাকসেসরিতেই বড় স্টাইল

বিটিএসের লুকে নজর কেড়েছে ছোট ছোট অ্যাকসেসরিও। ফুটবল সমর্থকদের রেড ডেভিলস স্কার্ফ বেল্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সঙ্গে ছিল রুপার ঝুমকা, বাঁশির লকেট, ধাতব স্টাড, চামড়ার বেল্ট এবং লেদার জ্যাকেট।
এই স্টাইলিং প্রমাণ করেছে, বড় কোনো অলংকার ছাড়াও ছোট ছোট ডিটেইল পুরো লুককে আলাদা মাত্রা দিতে পারে। কনসার্ট ফ্যাশন আর ফুটবল সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধন আগে খুব কমই দেখা গেছে।

‘ব্লোককোর’ ট্রেন্ডে নতুন মাত্রা

বিটিএসের এই উপস্থিতি বিশ্ব ফ্যাশনে ‘ব্লোককোর’ ট্রেন্ডকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। ব্রিটিশ ফুটবল সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত এই ধারায় ফুটবল জার্সি, সমর্থকদের স্কার্ফ, ট্র্যাকস্যুট, লেদার জ্যাকেট এবং রেট্রো স্পোর্টসওয়্যারকে দৈনন্দিন স্টাইলের অংশ করে তোলা হয়।

বিশ্বকাপের মঞ্চে বিটিএস দেখিয়ে দিয়েছে, স্পোর্টস ফ্যাশনও হতে পারে হাই-ফ্যাশনের ভাষা। মাত্র কয়েক মিনিটের পারফরম্যান্সেই তারা শুধু গান নয়, বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য নতুন স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করেছে।

সূত্র: ফোর্বস, বিবিসি, দ্য কোরিয়া টাইমস

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow