বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যর্থ, তবু সর্বকালের সেরা মেসিই

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা গিয়েছিল এক আবেগঘন দৃশ্য। চোখ ভেজা লিওনেল মেসি ধীরে ধীরে মাঠ ছাড়ছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ম্যাচ শেষে তাকে কাঁদতে দেখা নতুন কিছু নয়। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সেই কান্নায় যেন ছিল অন্যরকম এক বেদনা। হয়তো অপূর্ণতার, হয়তো বিদায়েরও। যদি এটাই হয়ে থাকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ, তাহলে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটির সমাপ্তি হলো শিরোপা দিয়ে নয়, বরং অশ্রু দিয়ে। ফাইনালে হারিয়ে গিয়েছিলেন মেসি পুরো টুর্নামেন্টে ৩৯ বছর বয়সেও যেন সময়কে হার মানিয়েছিলেন মেসি। আট গোল করে দলকে টেনে তুলেছিলেন ফাইনালে। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, নকআউটে একের পর এক অনুপ্রেরণাদায়ী পারফরম্যান্স- সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা। কিন্তু ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে সেই মেসিকেই যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ১২০ মিনিটে মাত্র ৫৪ বার বল স্পর্শ করেন তিনি। পুরো ম্যাচে সতীর্থদের জন্য একটি গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারেননি। প্রথম ও একমাত্র শটটি নেন ম্যাচের ১১৭তম মিনিটে। স্পেনের সংগঠিত

বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যর্থ, তবু সর্বকালের সেরা মেসিই

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা গিয়েছিল এক আবেগঘন দৃশ্য। চোখ ভেজা লিওনেল মেসি ধীরে ধীরে মাঠ ছাড়ছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ম্যাচ শেষে তাকে কাঁদতে দেখা নতুন কিছু নয়। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সেই কান্নায় যেন ছিল অন্যরকম এক বেদনা। হয়তো অপূর্ণতার, হয়তো বিদায়েরও।

যদি এটাই হয়ে থাকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ, তাহলে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটির সমাপ্তি হলো শিরোপা দিয়ে নয়, বরং অশ্রু দিয়ে।

ফাইনালে হারিয়ে গিয়েছিলেন মেসি

পুরো টুর্নামেন্টে ৩৯ বছর বয়সেও যেন সময়কে হার মানিয়েছিলেন মেসি। আট গোল করে দলকে টেনে তুলেছিলেন ফাইনালে। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, নকআউটে একের পর এক অনুপ্রেরণাদায়ী পারফরম্যান্স- সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা। কিন্তু ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে সেই মেসিকেই যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

১২০ মিনিটে মাত্র ৫৪ বার বল স্পর্শ করেন তিনি। পুরো ম্যাচে সতীর্থদের জন্য একটি গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারেননি। প্রথম ও একমাত্র শটটি নেন ম্যাচের ১১৭তম মিনিটে। স্পেনের সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগের সামনে কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই মহাতারকা।

Messi

যে খেলোয়াড় পুরো বিশ্বকাপে সময়কে উল্টো দিকে হাঁটিয়েছিলেন, ফাইনালে এসে শেষ পর্যন্ত বয়স যেন তাকে ধরেই ফেলল।

রূপকথা লিখতে দেয়নি স্পেন

মেসি নিশ্চয়ই চেয়েছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে অমরত্বের গল্প আরও উজ্জ্বল করতে। কিন্তু সামনে ছিল স্পেনের এমন একটি দল, যারা আবেগ দিয়ে নয়, ফুটবল খেলে নিয়ন্ত্রণ আর শৃঙ্খলার ওপর ভর করে।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল প্রতিপক্ষকে দৌড় করায় বলের পেছন পেছন। তারা আবেগ নয়, বলের দখল দিয়ে ম্যাচ জেতে। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে গড়েছে পুরুষ ফুটবলের নতুন বিশ্বরেকর্ড।

আর্জেন্টিনা যেখানে লড়াই, আবেগ আর শেষ পর্যন্ত হাল না ছাড়া মানসিকতায় ফাইনালে পৌঁছেছিল, স্পেন সেখানে ঠান্ডা মাথার নিয়ন্ত্রণে পুরো ম্যাচ নিজেদের দখলে রেখেছিল। এমনকি মেসির মতো ফুটবলারের পক্ষেও সেই ছন্দ ভাঙা সম্ভব হয়নি।

একটি ম্যাচ নয়, যেন একটি যুগের গল্প

ফাইনালের হতাশাজনক পারফরম্যান্স কখনোই মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে সংজ্ঞায়িত করতে পারবে না। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল ও ৬৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার চেয়ে বেশি গোল রয়েছে শুধু ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর।

Messi

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লাউতারো মার্তিনেজের জয়সূচক গোলেও ছিল মেসির অসাধারণ অ্যাসিস্ট। সেই জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও তাকে চোখের জল ফেলতে দেখা গিয়েছিল- যদিও সেটি ছিল আনন্দের কান্না।

একসময় জাতীয় দল ছাড়তে চেয়েছিলেন

আজকের এই মেসিকে দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন, একসময় আর্জেন্টিনার জার্সি ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে এই একই নিউ জার্সির মাটিতে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হেরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তখন টানা চারটি বড় ফাইনালে হেরে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। অনেকেই বলতেন, দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিতে পারেন না মেসি।

কিন্তু মাত্র এক মাস পর সিদ্ধান্ত বদলান তিনি। তারপরই বদলে যায় ইতিহাস।

Messi

২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে ফাইনালিসিমা, একই বছরে বিশ্বকাপ- সবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও ফাইনাল। সমালোচকেরা চুপ হয়ে যান, আর মেসি হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক।

কাতারে কিংবদন্তি, আমেরিকায় অমরত্ব

২০২২ কাতার বিশ্বকাপেই মেসি নিজেকে ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স অনেকের চোখে তাকে আরও উঁচু আসনে বসিয়েছে।

৩৯ বছর বয়সে আট গোল করে পুরো টুর্নামেন্টে আধিপত্য দেখানো, একটি তুলনামূলক সীমিত সামর্থ্যের দলকে আবারও ফাইনালে তুলে আনা- এগুলোই তার অসাধারণত্বের প্রমাণ। ফাইনালে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন ঠিকই। কিন্তু পুরো বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন একাই।

গোল্ডেন বল রদ্রির, হৃদয় জিতলেন মেসি

ফাইনালে হেরে গেলেও সবার ধারণা ছিল, যেভাবে পুরো টুর্নামেন্টে খেলেছেন, তাতে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার গোল্ডেন বল মেসির হাতেই উটবে। কিন্তু ফাইনাল শেষ হওয়ার পর টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল মেসি নয়, জিতলেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত দেখে সবাই অবাক।

কিন্তু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখনও ধ্বনিত হচ্ছিল একটাই নাম- ‘মেসি, মেসি, মেসি...।’ হয়তো রদ্রির হাতে ছিল ট্রফি। মেসির হাতে ছিল না কোনো নতুন পুরস্কার। কিন্তু দর্শকদের হৃদয়ে ছিলেন একমাত্র তিনিই।

আগেই দুটি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল (২০১৪ ও ২০২২) এবং একটি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নিয়েছেন তিনি। এবার ট্রফি না পেলেও, পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে স্মরণীয় চরিত্র হয়েই বিদায় নিলেন।

কেন মেসিই ‘গোট বা গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’?

পেলের তিনটি বিশ্বকাপ আছে। ম্যারাডোনা একাই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। ব্রাজিলের রোনালদোও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা। তবু মেসিকে আলাদা করে তোলে একটি বিষয়- তিনি সাধারণ একটি দলকেও অসাধারণ করে তুলতে পারেন।

২০১৪ সালে প্রায় একক প্রচেষ্টায় ফাইনালে তুলেছিলেন। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। ২০২৬ সালে আবারও প্রায় একক প্রচেষ্টায় আবারও ফাইনালে তুলেছেন। আর ফাইনালে যখন তাকে থামিয়ে দেওয়া গেছে, তখন পুরো আর্জেন্টিনাও কার্যত নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছে। এটাই হয়তো প্রকৃত মহানদের পরিচয়।

Messi

মেসি শুধু গোল করেন না, তিনি পুরো দলের মান বদলে দেন। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনি ব্যর্থ হলেও, ইতিহাসের বিচারে তার অবস্থান বদলায়নি।

বরং এই বিশ্বকাপও প্রমাণ করেছে, ট্রফি না জিতেও লিওনেল মেসিই ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় (GOAT)। কারণ একজন ফুটবলারের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল একটি ফাইনাল দিয়ে নয়; পুরো ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা, অর্জন, পরিসংখ্যান, প্রভাব এবং ফুটবলকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েই বিচার করা হয়।

সংখ্যার ভাষায় অনন্য

মেসির ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানই তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তিনি গোল করেছেন এক হাজারের কাছাকাছি, অ্যাসিস্ট করেছেন কয়েক শতাধিক। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এত দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে গোল করা, সুযোগ তৈরি করা এবং ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার নজির ফুটবল ইতিহাসে খুব কমই আছে।

শুধু গোলদাতা নন, তিনি একই সঙ্গে প্লেমেকার, সৃজনশীল মিডফিল্ডার এবং ম্যাচ উইনার। ইতিহাসের খুব কম ফুটবলারই এই তিনটি ভূমিকা একসঙ্গে এত সফলভাবে পালন করতে পেরেছেন। বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩৪টি ম্যাচ খেলা চাট্টিখানি কথা নয়, সঙ্গে করেছেন ২১টি গোল এবং ১২টি অ্যাসিস্ট। গোল সংখ্যায় এমবাপের (২২টি) পেছনে। তবে গোলে অবদানে (সরাসরি ও অ্যাসিস্ট) মেসি অন্য যে কারও চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে।

ক্লাব ফুটবলে এক যুগের রাজত্ব

বার্সেলোনায় মেসির ১৭ বছরের ক্যারিয়ার আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে সফল অধ্যায়গুলোর একটি। তিনি ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ট্রফিজয়ী ফুটবলার।

বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন

১০টি লা লিগা
৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
৭টি কোপা দেল রে
৩টি ক্লাব বিশ্বকাপ
৩টি উয়েফা সুপার কাপ
একাধিক স্প্যানিশ সুপার কাপ

Messi

এরপর প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) গিয়েও লিগ জয় করেছেন। এরপর ইন্টার মিয়ামিতে গিয়ে মেজর লিগ সকারের জনপ্রিয়তাকেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। যে ক্লাবে গেছেন, সেই ক্লাবের ইতিহাসই বদলে দিয়েছেন।

জাতীয় দলের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক

একসময় মেসিকে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা শুনতে হয়েছে জাতীয় দলের সাফল্য না পাওয়ার জন্য। ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনাল হারের পর তিনি একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেই অবসর নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ফিরে আসেন। তারপর বদলে যায় ইতিহাস।

কোপা আমেরিকা ২০২১, ফাইনালিসিমা ২০২২, বিশ্বকাপ ২০২২ জয়ের পর ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও ফাইনাল। অর্থাৎ আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সময়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন লিওনেল মেসি।

ব্যক্তিগত পুরস্কারে অতুলনীয়

মেসির ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকা ফুটবল ইতিহাসেই সবচেয়ে সমৃদ্ধ। তার ঝুলিতে রয়েছে-

* রেকর্ডসংখ্যক ৮টি ব্যালন ডি'অর
* একাধিক ফিফা দ্য বেস্ট
* ইউরোপীয় গোল্ডেন শু
* বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল (২০১৪, ২০২২)
* কোপা আমেরিকার সেরা খেলোয়াড়
* চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার একাধিক পুরস্কার
* লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ের অসংখ্য স্বীকৃতি

ব্যক্তিগত পুরস্কারের দিক থেকে ইতিহাসে তার সমকক্ষ আর কেউ নেই। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ (মতান্তরে ৪৮টি) শিরোপা জয় করেছেন তিনি।

Messi

শুধু গোল নয়, ফুটবলের শিল্প

মেসিকে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। তিনি ফুটবলকে শিল্পে পরিণত করেছেন। তার ড্রিবলিং, পাস, ফ্রি-কিক, ভিশন, বল নিয়ন্ত্রণ এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তাকে অন্য সব মহান ফুটবলারের চেয়ে আলাদা করেছে। তিনি এমন একজন ফুটবলার, যিনি একাই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। অসংখ্য সাধারণ খেলোয়াড়কে নিজের পাশে নিয়ে অসাধারণ দল বানানোর ক্ষমতাও তার অন্যতম বড় শক্তি।

ম্যারাডোনা, পেলে না মেসি?

দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল—পেলে, ম্যারাডোনা না মেসি? পেলের তিনটি বিশ্বকাপ আছে, কিন্তু তিনি খেলেছেন একাধিক কিংবদন্তিতে ভরা ব্রাজিল দলে। ম্যারাডোনা ১৯৮৬ সালে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। অন্যদিকে মেসি, ক্লাব ফুটবলে প্রায় দুই দশক সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজত্ব করেছেন।

আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন যুগে ধারাবাহিকভাবে সেরা থেকেছেন। বিশ্বকাপ জিতেছেন। কোপা আমেরিকা জিতেছেন। সব ধরনের বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছেন। গোল ও অ্যাসিস্ট- দুই বিভাগেই ইতিহাসের সেরাদের একজন। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন এবং দুইবার ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এমন পূর্ণাঙ্গ ক্যারিয়ার ফুটবল ইতিহাসে আর কারও নেই।

একটি ফাইনাল নয়, একটি যুগের নাম

স্পেনের বিপক্ষে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়তো মেসির সেরা ম্যাচ ছিল না। কিন্তু সেটি তার উত্তরাধিকার বদলে দেয় না।

যে ফুটবলার প্রায় ২০ বছর ধরে বিশ্বের সেরা লিগে আধিপত্য করেছেন, অগণিত রেকর্ড গড়েছেন, বার্সেলোনাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা দলে পরিণত করেছেন, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন, অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত সম্মান জিতেছেন এবং কোটি কোটি মানুষের কাছে ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন- তাকে একটি ম্যাচ দিয়ে বিচার করা যায় না।

ফুটবল ইতিহাসে হয়তো আরও অনেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আসবে, নতুন নতুন সুপারস্টারও জন্ম নেবে। কিন্তু ধারাবাহিকতা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, পরিসংখ্যান, ট্রফি এবং ফুটবলের ওপর প্রভাব- সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করলে লিওনেল মেসির মতো পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার আর দেখা যায়নি।

তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি স্পেনের হাতে উঠলেও, ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরার আসনে এখনও অটল আছেন একজনই- লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow