বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর প্রাইভেট জেট ভ্রমণ, দুইবার পৃথিবী ঘোরার সমান

  বিশ্বকাপকে ঘিরে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। জার্মান সাময়িকী ডার স্পাইজেল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন ম্যাচে উপস্থিত থাকতে গিয়ে ইনফান্তিনো প্রাইভেট জেটে এতটাই ভ্রমণ করেছেন, যা পৃথিবীকে দুইবার প্রদক্ষিণ করার সমান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট চলাকালে ইনফান্তিনো ৯৩ হাজার ৫২৪ কিলোমিটার প্রাইভেট জেটে ভ্রমণ করেছেন। এর ফলে প্রায় ৮১৩ মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়েছে। তুলনা হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের একজন সাধারণ নাগরিক বছরে গড়ে ১২ মেট্রিক টন নির্গত করেন। অথচ ইনফান্তিনো মাত্র কয়েক ঘণ্টার একটি প্রাইভেট জেট ভ্রমণেই সেই পরিমাণ নির্গমন ঘটিয়েছেন। এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারের দোহায় তার দুটি দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটের হিসাবও এই মোট নির্গমনের মধ্যে ধরা হয়নি। প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বকাপ চলাকালে শুধু ইনফান্তিনোই নন, সামগ্রিকভাবে প্রাইভেট জেট ব্যবহারের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান উইংএক্স টু

বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর প্রাইভেট জেট ভ্রমণ, দুইবার পৃথিবী ঘোরার সমান

 

বিশ্বকাপকে ঘিরে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। জার্মান সাময়িকী ডার স্পাইজেল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন ম্যাচে উপস্থিত থাকতে গিয়ে ইনফান্তিনো প্রাইভেট জেটে এতটাই ভ্রমণ করেছেন, যা পৃথিবীকে দুইবার প্রদক্ষিণ করার সমান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট চলাকালে ইনফান্তিনো ৯৩ হাজার ৫২৪ কিলোমিটার প্রাইভেট জেটে ভ্রমণ করেছেন। এর ফলে প্রায় ৮১৩ মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়েছে।

তুলনা হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের একজন সাধারণ নাগরিক বছরে গড়ে ১২ মেট্রিক টন নির্গত করেন। অথচ ইনফান্তিনো মাত্র কয়েক ঘণ্টার একটি প্রাইভেট জেট ভ্রমণেই সেই পরিমাণ নির্গমন ঘটিয়েছেন।

এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারের দোহায় তার দুটি দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটের হিসাবও এই মোট নির্গমনের মধ্যে ধরা হয়নি। প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বকাপ চলাকালে শুধু ইনফান্তিনোই নন, সামগ্রিকভাবে প্রাইভেট জেট ব্যবহারের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান উইংএক্স টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল, বিশ্বকাপ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৭৩ হাজার ২০০টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

অন্যদিকে, প্রাইভেট জেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নেটজেটস এবং সেন্টিয়েন্ট জেট-ও জানিয়েছে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে ঘিরে তাদের সেবার চাহিদা ছিল নজিরবিহীন। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ হাইনরিশ গ্রসবোঙ্গার্ট বলেন, ‘এর আগে আমরা কখনো এমন পরিস্থিতি দেখিনি।’

কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ শুরুর আগেই পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ফিফার কঠোর সমালোচনা করেছিল। গ্রিনপিস এই বিশ্বকাপকে ‘টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে জলবায়ু-বিধ্বংসী বিশ্বকাপ’ বলে আখ্যা দেয়।

তাদের মতে, এবার অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ম্যাচের সংখ্যাও বেড়েছে, আর সেটিই বিশ্বকাপের কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নিয়েও এবার নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ফিফা এবং এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো।

আরআর/আইএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow