বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের খোঁজে আয়োজক কানাডা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশ হিসেবে মাঠে নামছে কানাডা। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে বিশ্বকাপ খেলেছিল কানাডা। তবে এখনও বিশ্বকাপে জয়হীন ‘লে রুজ’রা। এবার ঘরের মাঠে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে মরিয়া জেসি মার্শের দল। বিশেষ করে আলফন্সো ডেভিস, জোনাথন ডেভিড, সাইল লারিনদের নিয়ে কানাডার বর্তমান প্রজন্মকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান দলগুলোর একটি মনে করা হচ্ছে। জেসি মার্শের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা ২০২৫ সালের মে মাসে কানাডা দলের দায়িত্ব নেন মার্কিন কোচ জেসি মার্শ। খেলোয়াড়ি জীবনে ১৯৯৬ সালে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) উদ্বোধনী মৌসুমে খেলেছিলেন তিনি। উত্তর আমেরিকার শীর্ষ লিগে ৩০০’র বেশি ম্যাচ খেলার পর কোচিংয়ে আসেন মার্শ। মন্ট্রিয়ল ইমপ্যাক্ট ও নিউইয়র্ক রেড বুলসের দায়িত্ব পালনের পর ইউরোপে সালজবুর্গ, লাইপজিগ ও লিডস ইউনাইটেডের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। এবার বিশ্বকাপে কানাডাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তার কাঁধে। গ্রুপ ‘বি’-তে কানাডা ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’-তে খেলবে কানাডা। এই গ্রুপে প্রতিপক্ষ

বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের খোঁজে আয়োজক কানাডা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশ হিসেবে মাঠে নামছে কানাডা। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশটি।

এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে বিশ্বকাপ খেলেছিল কানাডা। তবে এখনও বিশ্বকাপে জয়হীন ‘লে রুজ’রা। এবার ঘরের মাঠে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে মরিয়া জেসি মার্শের দল।

বিশেষ করে আলফন্সো ডেভিস, জোনাথন ডেভিড, সাইল লারিনদের নিয়ে কানাডার বর্তমান প্রজন্মকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান দলগুলোর একটি মনে করা হচ্ছে।

জেসি মার্শের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা

২০২৫ সালের মে মাসে কানাডা দলের দায়িত্ব নেন মার্কিন কোচ জেসি মার্শ। খেলোয়াড়ি জীবনে ১৯৯৬ সালে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) উদ্বোধনী মৌসুমে খেলেছিলেন তিনি।

উত্তর আমেরিকার শীর্ষ লিগে ৩০০’র বেশি ম্যাচ খেলার পর কোচিংয়ে আসেন মার্শ। মন্ট্রিয়ল ইমপ্যাক্ট ও নিউইয়র্ক রেড বুলসের দায়িত্ব পালনের পর ইউরোপে সালজবুর্গ, লাইপজিগ ও লিডস ইউনাইটেডের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। এবার বিশ্বকাপে কানাডাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তার কাঁধে।

গ্রুপ ‘বি’-তে কানাডা

২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’-তে খেলবে কানাডা। এই গ্রুপে প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা পেয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কাতার এবং সুইজারল্যান্ডকে।

কানাডার গ্রুপ পর্বের সূচি:

* ১২ জুন: কানাডা বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা- টরন্টো স্টেডিয়াম
* ১৮ জুন: কানাডা বনাম কাতার- বিসি প্লেস, ভ্যাঙ্কুভার
* ২৪ জুন: সুইজারল্যান্ড বনাম কানাডা- বিসি প্লেস, ভ্যাঙ্কুভার

আলফন্সো ডেভিসকে ঘিরেই আশা

বর্তমান কানাডা দলে সবচেয়ে বড় তারকা আলফন্সো ডেভিস। যদিও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তাকে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবে তাকে ঘিরেই সাজানো হচ্ছে কানাডার পরিকল্পনা। আক্রমণভাগে আছেন জোনাথন ডেভিড ও সাইল লারিনের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জেসি মার্শ কয়েকজন দ্বৈত নাগরিক খেলোয়াড়কে দলে এনেছেন। তাদের মধ্যে ডিফেন্ডার আলফি জোনস, লুক ডি ফুজেরোলস, নিকো সিগুর এবং ফরোয়ার্ড প্রমিজ ডেভিড উল্লেখযোগ্য।

স্বাগতিক হিসেবেই নিশ্চিত বিশ্বকাপ

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সঙ্গে সহ-আয়োজক হওয়ায় সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে কানাডা। ৪৮ দলের সম্প্রসারিত এই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হতে যাচ্ছে।

কানাডার বিশ্বকাপ ইতিহাস

* কনফেডারেশন: কনকাকাফ
* প্রথম বিশ্বকাপ: মেক্সিকো ১৯৮৬
* সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২
* সেরা সাফল্য: গ্রুপ পর্ব
* মোট অংশগ্রহণ: ৩ বার (১৯৮৬, ২০২২, ২০২৬)
* স্বাগতিক: ২০২৬

বিশ্বকাপে কানাডার সামগ্রিক রেকর্ড:

* ম্যাচ: ৬
* জয়: ০
* ড্র: ০
* হার: ৬
* গোল করেছে: ২
* গোল হজম: ১২

এখনও বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের অপেক্ষায় কানাডা।

১৯৮৬: প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা

মেক্সিকো ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ছিল কানাডার প্রথম বৈশ্বিক আসর। বাছাইপর্বে গুয়াতেমালা ও হাইতিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিল তারা। মূল আসরে তাদের গ্রুপে ছিল ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।

প্রথম ম্যাচে জ্যঁ-পিয়ের পাপাঁর গোলে ফ্রান্সের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারার পর হাঙ্গেরি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছেও ২-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় কানাডা।

কাতার বিশ্বকাপে সাহসী লড়াই

২০২২ বিশ্বকাপে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে ফেরে কানাডা। কনকাকাফ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে তারা।

কাতারে কঠিন গ্রুপে পড়েছিল কানাডা- বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর সঙ্গে। প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে দারুণ খেলেও ১-০ ব্যবধানে হারতে হয়।

পরের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করে ইতিহাস গড়েন আলফন্সো ডেভিস। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম গোল। যদিও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে হারে তারা। শেষ ম্যাচে মরক্কোর কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় কানাডা।

বিশ্বকাপে কানাডার একমাত্র গোলদাতা

বিশ্বকাপে কানাডার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একমাত্র গোলদাতা আলফন্সো ডেভিস। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তার শক্তিশালী হেডে করা গোলটি কানাডার ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তবে বর্তমান স্কোয়াডের আক্রমণভাগের শক্তি বিবেচনায় ভবিষ্যতে এই তালিকায় আরও নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড

বিশ্বকাপে কানাডার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনেক। মোট ২৩ জন ফুটবলারের বিশ্বকাপে ৩টি করে ম্যাচ খেলার রেকর্ড রয়েছে। বর্তমান দলের কয়েকজন ফুটবলার এবার সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন।

কানাডার সবচেয়ে স্মরণীয় বিশ্বকাপ মুহূর্ত

২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর, কাতারের খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ১ মিনিট ৭ সেকেন্ডে ইতিহাস গড়েন আলফন্সো ডেভিস। গোলকিপার মিলান বোরজানের লম্বা বল থেকে আক্রমণ শুরু হয়। সাইল লারিন বল বাড়িয়ে দেন তাজন বুকানানকে। ডান দিক থেকে বুকানানের ক্রসে ডেভিস হেড করে বল জালে জড়ান।

এতেই আসে বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম গোল। গ্যালারিতে থাকা কানাডিয়ান সমর্থকেরা তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। যদিও শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচটি হারে কানাডা, তবুও ডেভিসের সেই গোল দেশটির ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেছে।

এখনও প্রথম জয়ের অপেক্ষা

বিশ্বকাপে এখনও কোনো জয় নেই কানাডার। তবে বর্তমান স্কোয়াডের শক্তি, অভিজ্ঞতা এবং ঘরের মাঠের সমর্থন- সব মিলিয়ে এবার ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে ‘লে রুজ’রা। কানাডিয়ান ফুটবল সমর্থকদের বিশ্বাস, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে তাদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মোড় ঘোরানো আসর।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow