বিশ্বকাপে হারের ক্ষোভে প্যারাগুয়েতে পোড়ানো হলো এমবাপের কুশপুত্তল

কিলিয়ান এমবাপের কাছে বিশ্বকাপে হারের হতাশা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি প্যারাগুয়ে। ফ্রান্সের বিপক্ষে পরাজয়ের পর দেশটির সমর্থকদের ক্ষোভের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন ফরাসি অধিনায়ক। প্যারাগুয়ের একটি প্রধান শহরের চত্বরে জড়ো হয়ে সমর্থকরা একটি প্রাণীর আকৃতির কুশপুত্তুলে ‘এমবাপে’ লেখা সাইন লাগিয়ে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। তবে এই ঘটনা শুধুই ফুটবল-সংক্রান্ত প্রতিবাদ নয়; এটি প্যারাগুয়ের বহু বছরের একটি ঐতিহ্যের অংশ। দেশটির সান হুয়ান (San Juan) উৎসবে জুদাস কাই (Judas Kai) নামে একটি প্রথা রয়েছে, যার অর্থ ‘জুদাসকে পুড়িয়ে ফেলা।’ ঐতিহ্যগতভাবে, এই অনুষ্ঠানে জুদাস ইসকারিওত (Judas Iscariot)–এর কুশপুত্তল তৈরি করে আগুনে পোড়ানো হতো। যিশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক হিসেবে এই আচার পালন করা হয় এবং বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে সমাজ থেকে অশুভ ও দুর্ভাগ্য দূর হয়। সময়ের সঙ্গে এই প্রথার রূপ বদলেছে। এখন অনেক ক্ষেত্রে জুদাসের পরিবর্তে এমন কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি, অজনপ্রিয় রাজনীতিক বা জনরোষের শিকার ব্যক্তির কুশপুত্তল তৈরি করে পোড়ানো হয়, যিনি সেই সময়ে মানুষের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এবারের বিশ্বকাপে সেই

বিশ্বকাপে হারের ক্ষোভে প্যারাগুয়েতে পোড়ানো হলো এমবাপের কুশপুত্তল

কিলিয়ান এমবাপের কাছে বিশ্বকাপে হারের হতাশা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি প্যারাগুয়ে। ফ্রান্সের বিপক্ষে পরাজয়ের পর দেশটির সমর্থকদের ক্ষোভের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন ফরাসি অধিনায়ক।

প্যারাগুয়ের একটি প্রধান শহরের চত্বরে জড়ো হয়ে সমর্থকরা একটি প্রাণীর আকৃতির কুশপুত্তুলে ‘এমবাপে’ লেখা সাইন লাগিয়ে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।

তবে এই ঘটনা শুধুই ফুটবল-সংক্রান্ত প্রতিবাদ নয়; এটি প্যারাগুয়ের বহু বছরের একটি ঐতিহ্যের অংশ। দেশটির সান হুয়ান (San Juan) উৎসবে জুদাস কাই (Judas Kai) নামে একটি প্রথা রয়েছে, যার অর্থ ‘জুদাসকে পুড়িয়ে ফেলা।’

ঐতিহ্যগতভাবে, এই অনুষ্ঠানে জুদাস ইসকারিওত (Judas Iscariot)–এর কুশপুত্তল তৈরি করে আগুনে পোড়ানো হতো। যিশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক হিসেবে এই আচার পালন করা হয় এবং বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে সমাজ থেকে অশুভ ও দুর্ভাগ্য দূর হয়।

সময়ের সঙ্গে এই প্রথার রূপ বদলেছে। এখন অনেক ক্ষেত্রে জুদাসের পরিবর্তে এমন কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি, অজনপ্রিয় রাজনীতিক বা জনরোষের শিকার ব্যক্তির কুশপুত্তল তৈরি করে পোড়ানো হয়, যিনি সেই সময়ে মানুষের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এবারের বিশ্বকাপে সেই প্রতীকী চরিত্রে পরিণত হন এমবাপে।

এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে আরেকটি বিতর্কও সামনে এসেছে। সম্প্রতি আমারলিয়া নামের এক প্যারাগুইয়ান সিনেটর বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে সমালোচিত হন। পরে নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, তিনি এমন একটি প্রজন্মের মানুষ, যেখানে বর্ণবাদী গালি ব্যবহারকে একসময় "স্বাভাবিক" হিসেবে দেখা হতো।

যদিও এমবাপের কুশপুত্তল পোড়ানোটি ঐতিহ্যগত *জুদাস কাই* অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তবুও বিশ্বকাপ-পরবর্তী উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক বর্ণবাদ-সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরআর/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow