বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের ‘হুংকার’
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সালমান আলী আঘা-বাবর আজমদের বিশ্বকাপ বর্জন নিয়েই কথাবার্তা চলছে। এমন আলোচনার মধ্যেও নিজেদের প্রস্তুতি ঠিকই সেরে নিচ্ছে পাকিস্তান। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে আজ ২২ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে সালমান আঘার দল। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান ১৬৮ রানের সংগ্রহ গড়ে তুলে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া লড়াই করলেও নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি। ফলে পাকিস্তান ২২ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। অথচ, পাকিস্তানের ইনিংস শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম বলেই সাহিবজাদা ফারহান শূন্য রানে আউট হয়ে গেলে চাপ তৈরি হয়। তবে সেই চাপকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেন তরুণ ওপেনার সাইম আইয়ুব। আগ্রাসী মানসিকতায় খেলতে নেমে তিনি মাত্র ২২ বলে ৪০ রান করেন, যেখানে ছিল তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। বিশেষ করে অ্যাডাম জামপাকে একাধিক আক্রমণাত্মক শট ম্যাচের গতি বদলে দেয়। সাইমের বিদায়ের পর দায়িত্ব নেন অধিনায়ক সালমান আলী
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সালমান আলী আঘা-বাবর আজমদের বিশ্বকাপ বর্জন নিয়েই কথাবার্তা চলছে। এমন আলোচনার মধ্যেও নিজেদের প্রস্তুতি ঠিকই সেরে নিচ্ছে পাকিস্তান। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে আজ ২২ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে সালমান আঘার দল।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান ১৬৮ রানের সংগ্রহ গড়ে তুলে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া লড়াই করলেও নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি। ফলে পাকিস্তান ২২ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।
অথচ, পাকিস্তানের ইনিংস শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম বলেই সাহিবজাদা ফারহান শূন্য রানে আউট হয়ে গেলে চাপ তৈরি হয়। তবে সেই চাপকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেন তরুণ ওপেনার সাইম আইয়ুব। আগ্রাসী মানসিকতায় খেলতে নেমে তিনি মাত্র ২২ বলে ৪০ রান করেন, যেখানে ছিল তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। বিশেষ করে অ্যাডাম জামপাকে একাধিক আক্রমণাত্মক শট ম্যাচের গতি বদলে দেয়।
সাইমের বিদায়ের পর দায়িত্ব নেন অধিনায়ক সালমান আলী আঘা ও বাবর আজম। এই জুটি ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে স্থিরতা আনে। সালমান ২৭ বলে ৩৯ রানের ইনিংসে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের ওপর চাপ ধরে রাখেন।
অন্যদিকে বাবর আজম তুলনামূলক সংযত ব্যাটিং করে ২০ বলে ২৪ রান করেন। যদিও বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল, তবু মাঝের ওভারগুলোতে স্কোরবোর্ড সচল রাখাই ছিল তার মূল অবদান। মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নামেন ফখর জামান। ফখর কিছুটা ধীরগতির ইনিংস খেলে বিদায় নেন। ফখর করেন ১৬ বলে মাত্র ১০ রান। উড়তে থাকা পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে লাগাম লেগে যায় এ সময়ই। উসমান খানের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৮ রান।
শেষ দিকে মোহাম্মদ নওয়াজ করেন ১৪ বলে ১৫ রান এবং সালমান মির্জা ২ বলে ৪ রান করে পাকিস্তানকে লড়াকু ১৬৮ রানে পৌঁছে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অ্যাডাম জাম্পা ছিলেন সবচেয়ে কার্যকর, ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের রান আরও বড় হতে দেননি। এছাড়া জেভিয়ার বার্টলেট ও মাহলি বিয়ার্ডম্যান দুইটি করে উইকেট নেন।
১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল দ্রুত, কিন্তু স্থায়ী নয়। ম্যাথু শর্ট মাত্র ৫ রান করে ফিরে যান। এরপর অধিনায়ক ট্রাভিস হেড ১৩ বলে ২৩ রান করে কিছুটা ঝাঁজ দেখালেও সাইম আইয়ুবের বলেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। পাওয়ারপ্লেতেই দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়া চাপে পড়ে।
ক্যামেরন গ্রিন মাঝের ওভারগুলোতে লড়াই চালান। ৩১ বলে ৩৬ রানের ইনিংসে তিনি ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ম্যাট রেনশ ও মিচেল ওয়েন ছোট ছোট ইনিংস খেললেও কেউই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো বড় অবদান রাখতে পারেননি। এখানেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়, যখন আবরার আহমেদ আক্রমণে এসে নিজের স্পিন জাদু দেখান। ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়া কার্যত থামিয়ে দেন।
শেষ দিকে জেভিয়ার বার্টলেট ২৫ বলে ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেও প্রয়োজনীয় রান রেট তখন অনেকটাই নাগালের বাইরে। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া থামে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানে। পাকিস্তানের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন আবরার ও সাইম। একটি করে উইকেট নেন শাদাব ও নওয়াজ। দুই ফাস্ট বোলার শাহীন শাহ আফ্রিদি ও সালমান মির্জা কোনো উইকেট পাননি। ২২ রানের জয় দিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচও লাহোরেই অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩১ জানুয়ারি।
ব্যাট হাতে পাকিস্তানের ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের পাশাপাশি বল হাতেও এদিন নিজেকে মেলে ধরেন সাইম আইয়ুব। যার ফলে ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও নিজের শোকেসে তুলেন এই অলরাউন্ডার।
যদিওবা পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে কীনা সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। তবে প্রতিনিধিত্ব করলে এবারের আসরে যে কারও বিপক্ষে জ্বলে উঠতে পারেন তার হুংকার আজ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েই অন্যদের দিয়ে রাখল সাবেক চ্যাম্পিয়ন দলটি।
What's Your Reaction?