বিশ্বকাপের আগেই ছিটকে গেলেন একঝাঁক তারকা, জেনে নিন কারা তারা

ফুটবল প্রধান দেশগুলোর অসংখ্য শিশুর স্বপ্ন পেশাদার ফুটবলার হওয়া। শীর্ষ লিগে খেলা সেই পথচলার একটি অংশ হলেও, নিজের দেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করা খুব কমজনের ভাগ্যে জোটে। এটি ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ, যেখানে একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার নির্ধারিত হয়, গড়ে ওঠে তার ভবিষ্যৎ। কিন্তু দলে সুযোগ পেয়েও চোটের কারণে বিশ্বকাপ মিস করা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা। এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর হতে পারে না। এটি কঠিন এবং কষ্টকর পরিস্থিতি- যা অনেকের ধারণার চেয়েও বেশি ঘটে, এমনকি শক্তিশালী দলগুলোকেও ভোগায়। সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে গেলে শারীরিক চাপ ও ঝুঁকি থাকেই, আর অনেক সময় টুর্নামেন্টের ঠিক আগে সময়টা খেলোয়াড়ের পক্ষে থাকে না। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর এখনও ৫৪দিন বাকি। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্রীড়া আসর শুরুর আগেই চোটের হানায় ওলটপালট হচ্ছে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পরিকল্পনা। অনেক বড় বড় তারকাকে এবার মাঠের বাইরে থেকেই দেখবেন এই ফুটবলের মহারণ। ইনজুরি কেড়ে নিয়েছে তাদের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন। পেশাদার ফুটবলারদের কাছে বিশ্বকাপ মানেই ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি; কিন্তু অনেক সময় ভাগ্য সহায় থাকে না। বাছাইপর্বে ঘাম ঝরিয়ে দলকে মূল পর

বিশ্বকাপের আগেই ছিটকে গেলেন একঝাঁক তারকা, জেনে নিন কারা তারা

ফুটবল প্রধান দেশগুলোর অসংখ্য শিশুর স্বপ্ন পেশাদার ফুটবলার হওয়া। শীর্ষ লিগে খেলা সেই পথচলার একটি অংশ হলেও, নিজের দেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করা খুব কমজনের ভাগ্যে জোটে। এটি ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ, যেখানে একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার নির্ধারিত হয়, গড়ে ওঠে তার ভবিষ্যৎ।

কিন্তু দলে সুযোগ পেয়েও চোটের কারণে বিশ্বকাপ মিস করা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা। এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর হতে পারে না। এটি কঠিন এবং কষ্টকর পরিস্থিতি- যা অনেকের ধারণার চেয়েও বেশি ঘটে, এমনকি শক্তিশালী দলগুলোকেও ভোগায়। সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে গেলে শারীরিক চাপ ও ঝুঁকি থাকেই, আর অনেক সময় টুর্নামেন্টের ঠিক আগে সময়টা খেলোয়াড়ের পক্ষে থাকে না।

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর এখনও ৫৪দিন বাকি। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্রীড়া আসর শুরুর আগেই চোটের হানায় ওলটপালট হচ্ছে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পরিকল্পনা। অনেক বড় বড় তারকাকে এবার মাঠের বাইরে থেকেই দেখবেন এই ফুটবলের মহারণ। ইনজুরি কেড়ে নিয়েছে তাদের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন।

পেশাদার ফুটবলারদের কাছে বিশ্বকাপ মানেই ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি; কিন্তু অনেক সময় ভাগ্য সহায় থাকে না। বাছাইপর্বে ঘাম ঝরিয়ে দলকে মূল পর্বে তুলেও শেষ মুহূর্তে চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ার চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি একজন খেলোয়াড়ের জীবনে আর বেশি কিছু হতে পারে না। ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) বিশ্বকাপ শুরুর আগে ঠিক এমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন একঝাঁক তারকা ফুটবলার।

হুগো একিটিকে

লিভারপুল ও ফ্রান্স জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শারীরিক সমস্যায় পড়ে বিশ্বকাপের বাইরে চলে গেছেন। এতে তার জাতীয় দলে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করার সুযোগ হারিয়ে গেল।

Hugo

রদ্রিগো

ব্রাজিল ভক্তদের জন্য বড় দুঃসংবাদ রদ্রিগোকে নিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদ এবং সেলেসাওদের এই প্রধান অস্ত্র এমন এক সময়ে চোট পেয়েছেন, যখন তিনি ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে ছিলেন। ব্রাজিলের আক্রমণভাগে তার অভাব পূরণ করা কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

Rodrigo

জ্যাক গ্রিলিশ

এভারটন ও ইংল্যান্ডের হয়ে চমৎকার খেলা জ্যাক গ্রিলিশ ইনজুরি আক্রান্তদের তালিকায় নতুন নাম। বল নিয়ে দ্রুত উপরে ওঠা এবং সুযোগ তৈরির জন্য পরিচিত এই ফুটবলারের অনুপস্থিতি ইংল্যান্ডের উইংয়ের ধার কমিয়ে দেয়া এবং আক্রমণভাগের বৈচিত্র্য কমিয়ে দিয়েছে।

Grealish

লুইস মালাগন

আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকোর প্রস্তুতিতেও পড়েছে চোটের কালো ছায়া। ক্লাব আমেরিকার গোলরক্ষক লুইস মালাগন জাতীয় দলে জায়গা পাকা করার পথে ছিলেন। কিন্তু ইনজুরির কারণে তার অনুপস্থিতি মেক্সিকোর গোলরক্ষক পজিশনে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে দলকে।

ভ্যালেন্তিন কার্বোনি

রেসিং ক্লাব-সংযুক্ত আর্জেন্টিনার এই তরুণ প্রতিভা বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ হারালেন, যা তার ক্যারিয়ারের অগ্রগতিতে সাময়িক বাধা হয়ে দাঁড়াল।

হুয়ান ফয়েথ

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য রয়েছে একাধিক ধাক্কা। ভিয়ারিয়াল ডিফেন্ডার হুয়ান ফয়েথ এবং উদীয়মান প্রতিভা ভ্যালেন্তিন কার্বনি চোটের কারণে দলের বাইরে। ফয়েথের রক্ষণভাগের অভিজ্ঞতা এবং কার্বনির মতো তরুণ তুর্কির মাঝমাঠের সৃজনশীলতা মিস করবে আলবিসেলেস্তেরা। বিশেষ করে ভিয়ারিয়াল ডিফেন্ডার হুয়ান ফয়েথ আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতা ও বহুমুখিতা যোগ করতে পারতেন। তার অনুপস্থিতি দলকে কিছুটা ভারসাম্যহীন করে তুলতে পারে।

Foyeth

মার্সেল রুইজ

তোলুকার মিডফিল্ডার মার্সেল রুইজ খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। তার না থাকা মেক্সিকোর জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা।

জোয়াকিন পানিচেল্লি

আরসি স্ট্রাসবুর্গ-সংযুক্ত এই আর্জেন্টাইন তরুণ ফরোয়ার্ডের জন্য এবারের বিশ্বকাপ হতে পারত বড় মঞ্চে নিজেকে তুলে ধরার দারুণ সুযোগ। চোট সমস্যা সেই সম্ভাবনাকে থামিয়ে দিল।

স্যামু আঘেহাওয়া

এফসি পোর্তোর এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের শারীরিক সক্ষমতা স্পেনের জন্য ভিন্ন এক বিকল্প হতে পারত, যা তারা এখন মিস করবে। স্পেনের জন্য ভিন্ন ধরণের আক্রমণাত্মক অপশন হতে পারতেন তিনি, বিশেষ করে কঠিন ম্যাচগুলোতে।

Samu

মোহাম্মদ সালিসু

এএস মোনাকোর এই ডিফেন্ডার ঘানার রক্ষণভাগে ভরসার নাম ছিলেন। তার শক্তি ও ধারাবাহিকতা দলের জন্য বড় সম্পদ ছিল। কিন্তু এই ডিফেন্ডারের অনুপস্থিতি ঘানার রক্ষণভাগকে দুর্বল করে দিয়েছে।

ক্যামেরন কার্টার-ভিকার্স

সেল্টিক ডিফেন্ডার ক্যামেরন কার্টার-ভিকার্স ঘরের মাঠে আয়োজক দল যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে লড়তে পারছেন না। ইনজুরি তাকে ফেলে দিয়েছেন গভীর অনিশ্চয়তায়। তার অনুপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের গভীরতা ও স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে।

হেসুস ওরোজকো

ক্রুজ আজুলের এই মেক্সিকান তরুণ খেলোয়াড় নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে উঠে আসছিলেন। কিন্তু ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ মিস করায় তার গতি কিছুটা কমিয়ে দিল। বিশ্বকাপের আগে এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের হারানো মেক্সিকো কোচকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

তাকুমি মিনামিনো

অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মিনামিনোর আক্রমণাত্মক মুভমেন্ট এবং বড় ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞতা ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ব্লু সামুরাইদের। এএস মোনাকোর এই মিডফিল্ডার জাপানের জন্য অভিজ্ঞ ও কার্যকর একজন খেলোয়াড়। বড় ম্যাচে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

Minamino

২০২৬ বিশ্বকাপ প্রতিবারের মতো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে ঠিকই, তবে এই তারকাদের অনুপস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিল ফুটবল মাঠে ভাগ্য কতটা অনিশ্চিত। এই খেলোয়াড়দের জন্য এখন মূল লক্ষ্য সুস্থ হয়ে ফেরা। বিশ্বকাপ হয়তো হাতছাড়া হলো, তবে তাদের ক্যারিয়ার এখনও অনেক বাকি।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow