বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাস-বিয়ের আনন্দের উত্তেজনায় হতে পারে হার্টের ক্ষতি
বিয়েবাড়ির আনন্দ, অনেকদিনের কাঙ্ক্ষিত সুখবর, সন্তানের সাফল্য, লটারিতে জেতা কিংবা প্রিয় দলের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে আত্মহারা হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু জানেন কি, অতিরিক্ত আনন্দও কখনো কখনো হৃদযন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে? চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থার নাম হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম। চিকিৎসকদের ভাষায় একে বলা হয় টাকোৎসুবো কার্ডিওমায়োপ্যাথি। অন্যদিকে গভীর শোক, প্রিয়জনকে হারানো বা মানসিক আঘাত থেকেও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে, যা ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোম নামে পরিচিত। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনের কাজের চাপের পর ছুটিতে গিয়ে অতিরিক্ত আনন্দ, পার্টি কিংবা অতিরিক্ত কারণেও দেখা দিতে পারে হলিডে হার্ট সিন্ড্রোম, যা হৃদস্পন্দনের অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়। কী এই হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম? হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম এমন একটি হৃদরোগ, যেখানে অতিরিক্ত ইতিবাচক আবেগের কারণে হৃদপেশি সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। উপসর্গগুলো অনেকটাই হার্ট অ্যাটাকের মতো-হঠাৎ বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে পার্থক্য হলো, সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের মতো এখানে হৃদযন্ত্রের ধমনি ব্লক হয়ে যায় না। বরং অতিরিক্ত আবে
বিয়েবাড়ির আনন্দ, অনেকদিনের কাঙ্ক্ষিত সুখবর, সন্তানের সাফল্য, লটারিতে জেতা কিংবা প্রিয় দলের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে আত্মহারা হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু জানেন কি, অতিরিক্ত আনন্দও কখনো কখনো হৃদযন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে? চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থার নাম হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম। চিকিৎসকদের ভাষায় একে বলা হয় টাকোৎসুবো কার্ডিওমায়োপ্যাথি।
অন্যদিকে গভীর শোক, প্রিয়জনকে হারানো বা মানসিক আঘাত থেকেও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে, যা ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোম নামে পরিচিত। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনের কাজের চাপের পর ছুটিতে গিয়ে অতিরিক্ত আনন্দ, পার্টি কিংবা অতিরিক্ত কারণেও দেখা দিতে পারে হলিডে হার্ট সিন্ড্রোম, যা হৃদস্পন্দনের অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়।
কী এই হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম?
হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম এমন একটি হৃদরোগ, যেখানে অতিরিক্ত ইতিবাচক আবেগের কারণে হৃদপেশি সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। উপসর্গগুলো অনেকটাই হার্ট অ্যাটাকের মতো-হঠাৎ বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
তবে পার্থক্য হলো, সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের মতো এখানে হৃদযন্ত্রের ধমনি ব্লক হয়ে যায় না। বরং অতিরিক্ত আবেগের কারণে শরীরে স্ট্রেস হরমোন, বিশেষ করে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এর প্রভাবে হৃদযন্ত্রের বাম নিলয় বা লেফট ভেন্ট্রিকল সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে ফুলে বেলুনের মতো আকার ধারণ করে। ফলে হৃদযন্ত্র ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না।
ব্রোকেন হার্ট আর হ্যাপি হার্ট-দুটির পার্থক্য কোথায়?
দুটি অবস্থার শারীরিক পরিবর্তন প্রায় একই হলেও পার্থক্য রয়েছে আবেগের উৎসে। ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোম সাধারণত গভীর দুঃখ, মানসিক আঘাত, সম্পর্ক ভাঙা, প্রিয়জনের মৃত্যু বা বড় ধরনের মানসিক ধাক্কার পরে দেখা দেয়।
অন্যদিকে হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম হয় অতিরিক্ত আনন্দ, উত্তেজনা বা সুখবরের পর। যেমন-বিয়ে, নাতি-নাতনির জন্ম, বড় পুরস্কার পাওয়া, বহুদিন পর পরিবারের সঙ্গে দেখা হওয়া কিংবা জীবনের বড় কোনো অর্জনের মুহূর্ত।
ছুটির আনন্দও কখনো বিপদ ডেকে আনতে পারে
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিনের কর্মব্যস্ততার পর হঠাৎ ছুটিতে গিয়ে অতিরিক্ত পার্টি, রাত জাগা, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন থেকেও দেখা দিতে পারে হলিডে হার্ট সিন্ড্রোম।
এক্ষেত্রে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে, যা পরবর্তীতে আরও জটিল হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আনন্দের সময়ও শরীরের সীমাবদ্ধতার কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
তীব্র ইতিবাচক আবেগও শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়াতে পারে
বাস্তব ঘটনাই দিচ্ছে সতর্কবার্তা
সম্প্রতি ব্রিটেনের ৬৫ বছর বয়সী এক নারী এই বিরল সমস্যার কারণে আলোচনায় আসেন। মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে কয়েকদিন ধরে আনন্দ-উদযাপনে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। বিয়ের মাত্র তিন দিন পর হঠাৎ তার বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং হৃদস্পন্দনের অনিয়ম শুরু হয়।
পরিবার দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রথমে চিকিৎসকদেরও সন্দেহ হয়েছিল, তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায়, হৃদযন্ত্রের কোনো ধমনিই ব্লক হয়নি।
পরবর্তীতে ইকো কার্ডিওগ্রামে দেখা যায়, তার হৃদযন্ত্রের বাম ভেন্ট্রিকল অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেছে এবং রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে গেছে। চিকিৎসকেরা তাকে ‘হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম’ হিসেবে শনাক্ত করেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই ঘটনাটি অক্সফোর্ড মেডিক্যাল কেস রিপোর্টসে প্রকাশিত হয়েছে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগ খুবই বিরল। বিশ্বজুড়ে হার্ট অ্যাটাকের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের মধ্যে আনুমানিক ১ থেকে ৩ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে পরে টাকোৎসুবো কার্ডিওমায়োপ্যাথি ধরা পড়ে।
মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের মধ্যে এই রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে পুরুষ এবং কম বয়সীরাও আক্রান্ত হতে পারেন।
কোন উপসর্গ দেখলে দেরি করবেন না?
হঠাৎ বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
উপসর্গের ধরন হার্ট অ্যাটাকের মতো হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। কারণ সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে অধিকাংশ রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।
আনন্দও হোক নিয়ন্ত্রিত
চিকিৎসকদের মতে, আনন্দ অবশ্যই জীবনের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে যেকোনো চরম আবেগ-সেটি সুখ হোক বা দুঃখ-শরীরে বড় ধরনের হরমোনগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
তাই হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে অতিরিক্ত উত্তেজনা, রাত জাগা, অতিরিক্ত পার্টি এড়িয়ে চলা উচিত। মনে রাখতে হবে, সব সময় লাফটার ইজ নট দ্য বেস্ট মেডিসিন কথাটি সব পরিস্থিতিতে সমানভাবে সত্য নাও হতে পারে। সুস্থ হৃদয়ের জন্য প্রয়োজন আনন্দের পাশাপাশি সংযমও।
সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ, এনডিটিভি, আমেরিকান লাইব্রেরি অব মেডিসিন
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?

