বিশ্বকাপের শীর্ষ গোলদাতা হয়েও যে জায়গায় মুলারের পিছনে মেসি!

তাঁর ফুটবল মেধা ও প্রতিভা অনেক। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যকে মানদণ্ড ধরলে লিওনেল মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন আগেই। সমসাময়িকদের পিছনে ফেলে তিনি এখন ফুটবল সম্রাট পেলে ও ম্যারাডোনার পাশেই জায়গা করে নিয়েছেন। অসামান্য ড্রিবলিং ক্ষমতা ও লক্ষ্যভেদী প্রচণ্ড শট নেওয়ার কারণে মেসির পারদর্শিতা, দক্ষতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। পায়ের কাজ, শরীরের ঝাঁকুনিতে প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের প্রতিনিয়ত পরাস্ত করায় তার জুড়ি মেলা ভার। তার সৃজনশীলতা ও সৃষ্টিশীলতায় সম্ভবত সবাইকে ছাপিয়ে মেসি। ম্যান মার্কিং, জোনাল মার্কিং তথা কড়া মার্কিং, হার্ড ট্যাকল উপেক্ষা করেও অল্প জায়গায় চোখের পলকে জায়গা তৈরি এবং শরীর ও পায়ের কাজে মুহূর্তের মধ্যে গোলের উৎস রচনা এবং একটু সুযোগ পেলেই গোলে শট নেওয়ার দক্ষতায় মেসি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। ৩৯ বছর বয়সেও বল পায়ে মেসির ক্ষিপ্রতা, চপলতা ও দক্ষতা অবাক হওয়ার মতো। এ আর্জেন্টাইন ফুটবলারের গোলক্ষুধাও প্রচণ্ড। এবারের বিশ্বকাপে তার ২টি গোল সবার চোখে লেগে আছে, হয়তো থাকবে বহুকাল। প্রথম ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে প্রথম গোল আর গতকাল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় গোল—দুটি মেসির মেধা, স্কিলের পাশা

বিশ্বকাপের শীর্ষ গোলদাতা হয়েও যে জায়গায় মুলারের পিছনে মেসি!

তাঁর ফুটবল মেধা ও প্রতিভা অনেক। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যকে মানদণ্ড ধরলে লিওনেল মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন আগেই। সমসাময়িকদের পিছনে ফেলে তিনি এখন ফুটবল সম্রাট পেলে ও ম্যারাডোনার পাশেই জায়গা করে নিয়েছেন। অসামান্য ড্রিবলিং ক্ষমতা ও লক্ষ্যভেদী প্রচণ্ড শট নেওয়ার কারণে মেসির পারদর্শিতা, দক্ষতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। পায়ের কাজ, শরীরের ঝাঁকুনিতে প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের প্রতিনিয়ত পরাস্ত করায় তার জুড়ি মেলা ভার। তার সৃজনশীলতা ও সৃষ্টিশীলতায় সম্ভবত সবাইকে ছাপিয়ে মেসি। ম্যান মার্কিং, জোনাল মার্কিং তথা কড়া মার্কিং, হার্ড ট্যাকল উপেক্ষা করেও অল্প জায়গায় চোখের পলকে জায়গা তৈরি এবং শরীর ও পায়ের কাজে মুহূর্তের মধ্যে গোলের উৎস রচনা এবং একটু সুযোগ পেলেই গোলে শট নেওয়ার দক্ষতায় মেসি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। ৩৯ বছর বয়সেও বল পায়ে মেসির ক্ষিপ্রতা, চপলতা ও দক্ষতা অবাক হওয়ার মতো। এ আর্জেন্টাইন ফুটবলারের গোলক্ষুধাও প্রচণ্ড। এবারের বিশ্বকাপে তার ২টি গোল সবার চোখে লেগে আছে, হয়তো থাকবে বহুকাল। প্রথম ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে প্রথম গোল আর গতকাল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় গোল—দুটি মেসির মেধা, স্কিলের পাশাপাশি গোল করার অসামান্য ক্ষমতারও বহিঃপ্রকাশ। কেন তিনি বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক?

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দুটি ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ ৫ গোলই বলে দিচ্ছে তার জবাব। কালকে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে পেনাল্টি শট বাইরে না মারলে হয়তো পরপর দুই খেলায় হ্যাটট্রিকের বিরল ও দুর্লভ কৃতিত্বের অধিকারী হতেন এই আর্জেন্টাইন গ্রেট। গতকাল ২২ জুন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার পরও ২ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬) আর ব্রাজিলের রোনাল্ডোকে (১৫) টপকে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক ১৮ গোলের নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। তার ফুটবল মেধা ও প্রতিভায় মুগ্ধ কোটি ফুটবল অনুরাগী। একজন ফুটবলারের পক্ষে যত ভালো খেলা সম্ভব, যতটা স্কিল থাকা বাঞ্ছনীয়—তার সবটুকুই আছে মেসির। তবে গোল করার দক্ষতা ও সামর্থ্যও যে তার অনেক বেশি, অবশেষে সেই সত্যও প্রতিষ্ঠিত হলো। তাইতো এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করার কৃতিত্বটাও তার দখলে। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গতকাল সোমবার অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ম্যাচটি সহ ৬ বার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মেসি ২৮ ম্যাচে ১৮ গোলের কৃতিত্ব দেখালেন। এর মধ্যে ২০০৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে একটি মাত্র গোল করেছিলেন। ৪ বছর পর ২০১০ সালে কোনো গোল করতে পারেননি। ২০১৪ সালে তার গোল ছিল ৪টি। ২০১৮ তে আবার মেসি গোলখরায় ভুগেছেন, সেবার তার পা থেকে আসে একটি মাত্র গোল। ২০২২ এ গিয়ে মেসি করেন ৭ গোল। আর এবার ২ ম্যাচের প্রথমটিতে হ্যাটট্রিকসহ ৫ গোল করে ফেলেছেন। অর্জন ও কৃতিত্ব অনেক বড়। তাইতো মেসি এখন ভক্ত, সমর্থক ও ফুটবল অনুরাগীদের প্রশংসার সাগরে ভাসছেন।

কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন সর্বাধিক গোলের কৃতিত্বের অধিকারী হলেও ম্যাচ পিছু গোলের হিসেবে মেসি কিন্তু এক নম্বর নন। ম্যাচ পিছু গোল করার কৃতিত্বে সবার ওপরে আছেন জার্মানির দুর্দান্ত স্ট্রাইকার গার্ড মুলার। ১৯৭০ ও ১৯৭৪ সালে মাত্র ২টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৩ ম্যাচে ১৪ গোল করে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির বিশ্বকাপ বিজয়ের অন্যতম রূপকার গার্ড মুলার। এর মধ্যে ১৯৭০ সালে মুলার ১০ গোল করে হৈচৈ ফেলে দেন। আর ৭৪ সালে তার গোল ছিল ৪টি। ম্যাচ পিছু গোল করার কৃতিত্বে গার্ড মুলারের পরপরই আছেন ফরাসি স্ট্রাইকার এমবাপে। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা ফ্রান্সের এই অসাধারণ প্রতিভাবান বল প্লেয়ার ও তুখোড় স্কোরার ম্যাচ পিছু ১টি করে গোল দিয়ে ১৬ খেলায় করেছেন ১৬ গোল। আসর অনুযায়ী ৩ বিশ্বকাপে এমবাপের ১৬ গোল—২০১৮ (৪টি), ২০২২ (৮টি) ও ২০২৬ (২ খেলায় ৪ গোল)। ম্যাচ পিছু গোল করায় গার্ড মুলার ও এমবাপের পর তৃতীয় স্থানে আছেন ব্রাজিলের স্ট্রাইকার রোনাল্ডো। ৪ বার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৯ খেলায় ১৫ গোল করেছেন রোনাল্ডো। আসর অনুযায়ী তার গোলের হিসাব: ১৯৯৪ সালে কোনো গোল নেই, ১৯৯৮ সালে ৪টি, ২০০২ সালে ৮টি ও ২০০৬ সালে ৩টি। এছাড়া জার্মানির দুর্দান্ত স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসা বিশ্বকাপে ১৬ গোল করতে খেলেছেন ২৪ ম্যাচ। মোট বিশ্বকাপ: ৪টি, ম্যাচ খেলেছেন: ২৪টি, গোল: ১৬টি। এর মধ্যে ২০০২ এ ৫টি, ২০০৬ এ ৫টি, ২০১০ এ ৪টি, ২০১৪ তে ২টি। তাই দেখা যাচ্ছে, বিশ্বকাপের মাঠে সর্বাধিক গোলদাতার আসনে আসীন হলেও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি কিন্তু ম্যাচ পিছু গোল করায় এখনো বেশ পিছনে। কাজেই ফুটবলার মেসিকে পেলে ও ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করা গেলেও স্কোরার মেসি এখনো সবচেয়ে দক্ষ ও সেরা—তা বলার অবকাশ নেই। বরং সেই কৃতিত্বে গার্ড মুলারই সবার সেরা।

এআরবি/এসকেডি/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow