বিশ্ববাজারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে জ্বালানি তেলের মূল্য!

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ এখন আর কেবল সীমান্তের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এর আঁচ লেগেছে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের পকেটে। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) বিশ্ব দেখল জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন রেকর্ড। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফেই ১৬.৫% বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭.৯৭ ডলারে ঠেকেছে। পিছিয়ে নেই মার্কিন তেলের বাজারও; সেখানে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বিক্রি হচ্ছে ১০৬.২২ ডলারে। গত এক সপ্তাহেই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ! গবেষণা সংস্থা ‘রাইস্ট্যাড এনার্জি’ বলছে, বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশই ঘোরে এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই রুট এখন কার্যত অচল। একদিকে রপ্তানি বন্ধ থাকায় কুয়েত, ইরাক ও আরব আমিরাতের স্টোরেজ ট্যাঙ্ক উপচে পড়ছে, অন্যদিকে

বিশ্ববাজারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে জ্বালানি তেলের মূল্য!
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ এখন আর কেবল সীমান্তের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এর আঁচ লেগেছে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের পকেটে। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) বিশ্ব দেখল জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন রেকর্ড। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফেই ১৬.৫% বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭.৯৭ ডলারে ঠেকেছে। পিছিয়ে নেই মার্কিন তেলের বাজারও; সেখানে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বিক্রি হচ্ছে ১০৬.২২ ডলারে। গত এক সপ্তাহেই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ! গবেষণা সংস্থা ‘রাইস্ট্যাড এনার্জি’ বলছে, বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশই ঘোরে এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই রুট এখন কার্যত অচল। একদিকে রপ্তানি বন্ধ থাকায় কুয়েত, ইরাক ও আরব আমিরাতের স্টোরেজ ট্যাঙ্ক উপচে পড়ছে, অন্যদিকে হামলার ভয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে দেশগুলো। ইরান-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় ধ্বংস হচ্ছে একের পর এক তেল ও গ্যাস স্থাপনা। তেলের এই অগ্নিমূল্যের প্রভাব সরাসরি পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহেই গ্যাসের দাম গ্যালন প্রতি ৪৭ সেন্ট বেড়ে ৩.৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডিজেলের দাম তো আকাশছোঁয়া—এক সপ্তাহেই বেড়েছে ৮৩ সেন্ট! বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, তেলের দাম যদি এভাবে ১০০ ডলারের ওপরেই থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা তখন অসম্ভব হয়ে পড়বে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার (৮ মার্চ) ভোরে তেহরানের তেলের ডিপো এবং একটি পেট্রোলিয়াম ট্রান্সফার টার্মিনালে ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই ডিপোগুলো ইরানি সামরিক বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছিল।  এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেল শিল্পের ওপর যুদ্ধের এই প্রভাব আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। বিশেষ করে চীন যদি ইরান থেকে তেল না পায়, তবে তারা অন্য বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়বে, যা তেলের দামকে নিয়ে যাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদিও মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট আশার বাণী শুনিয়েছেন, তেলের দাম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার স্বাভাবিক হবে, কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই আশার প্রতিফলন ঘটাবে কি না—তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন। ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই যায় চীনে। ইরানের রপ্তানি ব্যাহত হলে চীনকে অন্য উৎস খুঁজতে হতে পারে, যা জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে। যুদ্ধের কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে, যদিও তা তেলের মতো অতটা নয়। রোববার প্রতি ১ হাজার ঘনফুট গ্যাস প্রায় ৩.৩৩ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবারের সমাপনী মূল্য ৩.১৯ ডলারের চেয়ে ৪.৬% বেশি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow