বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণের প্রার্থনায় সনাতনী শিক্ষার্থীদের শান্তি যজ্ঞ
বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে মুখর চারপাশ, অগ্নিকুণ্ডে নিবেদিত আহুতি, ধূপের সুবাস আর প্রার্থনায় একাত্ম শতাধিক মানুষের কণ্ঠ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ এবং সম্প্রীতির প্রত্যাশাকেই সামনে রেখে রাজধানীর ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রমে অনুষ্ঠিত হলো ‘পবিত্র শান্তি যজ্ঞ-২০২৬’। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সনাতনী শিক্ষার্থীদের সংগঠন সনাতনী স্টুডেন্টস ইউনিটি ফোরাম (ডিসিইউএসইউএফ) আয়োজিত এই যজ্ঞে অংশ নেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পুরোহিত ও সাধারণ ভক্তরা। আয়োজকদের ভাষ্য, ধর্মীয় এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে একটি সহনশীল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় শুরু হওয়া মহাযজ্ঞ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে। পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে ছিল মঙ্গলঘট স্থাপন, বৈদিক যজ্ঞ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ। আয়োজকদের তথ্যমতে, অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন অংশ নেন। এর মধ্যে সাত কলেজের প্রায় ১৫০ সনাতনী শিক্ষার্থী এবং মন্দিরের অর্ধশতাধিক সাধারণ ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। যজ্ঞ পরিচালনা করেন তিন
বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে মুখর চারপাশ, অগ্নিকুণ্ডে নিবেদিত আহুতি, ধূপের সুবাস আর প্রার্থনায় একাত্ম শতাধিক মানুষের কণ্ঠ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ এবং সম্প্রীতির প্রত্যাশাকেই সামনে রেখে রাজধানীর ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রমে অনুষ্ঠিত হলো ‘পবিত্র শান্তি যজ্ঞ-২০২৬’।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সনাতনী শিক্ষার্থীদের সংগঠন সনাতনী স্টুডেন্টস ইউনিটি ফোরাম (ডিসিইউএসইউএফ) আয়োজিত এই যজ্ঞে অংশ নেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পুরোহিত ও সাধারণ ভক্তরা। আয়োজকদের ভাষ্য, ধর্মীয় এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে একটি সহনশীল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় শুরু হওয়া মহাযজ্ঞ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে। পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে ছিল মঙ্গলঘট স্থাপন, বৈদিক যজ্ঞ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ।
আয়োজকদের তথ্যমতে, অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন অংশ নেন। এর মধ্যে সাত কলেজের প্রায় ১৫০ সনাতনী শিক্ষার্থী এবং মন্দিরের অর্ধশতাধিক সাধারণ ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। যজ্ঞ পরিচালনা করেন তিন পুরোহিত। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক প্রতিমোহন বিশ্বাস।
আয়োজকদের মতে, বর্তমান সময়ে সমাজে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই ভাবনা থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বশান্তি এবং মানবকল্যাণের প্রার্থনায় এই শান্তি যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনাও করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কবি নজরুল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী সুসমিতা সরকার বলেন, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সনাতনী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সার্বিক কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় এই সমন্বিত শান্তি যজ্ঞানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, যজ্ঞ কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি শান্তি, ঐক্য, শুভবোধ ও মানবকল্যাণের এক চিরন্তন প্রতীক। আমরা প্রার্থনা করেছি, যেন পরমেশ্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিকে জ্ঞান, নৈতিকতা, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করেন এবং সবার জীবনে শান্তি, সুস্বাস্থ্য, সফলতা ও মঙ্গল বয়ে আনেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আয়োজন সনাতনী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও আধ্যাত্মিক চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করবে। ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ, সম্প্রীতিময় ও মানবিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।’
আয়োজকদের প্রত্যাশা, শান্তি যজ্ঞ শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে অনুপ্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেও এ ধরনের আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
What's Your Reaction?