বিসিএস প্রশ্নফাঁস মামলায় পিএসসি প্রোগ্রামারের জামিন নাকচ

  বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বহুল আলোচিত মামলায় আত্মসমর্পণের পর জামিন পাননি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথ। তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কৌশিক দেবনাথ এদিন নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম। শুনানিতে কৌশিকের আইনজীবী দাবি করেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে কৌশিক দেবনাথের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও আদালতে দাবি করা হয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে কৌশিক দেবনাথকে কারাগারে নেওয়া হয়। যেভাবে প্রশ্নফাঁসের মামলা

বিসিএস প্রশ্নফাঁস মামলায় পিএসসি প্রোগ্রামারের জামিন নাকচ

 

বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বহুল আলোচিত মামলায় আত্মসমর্পণের পর জামিন পাননি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথ। তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কৌশিক দেবনাথ এদিন নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম।

শুনানিতে কৌশিকের আইনজীবী দাবি করেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে কৌশিক দেবনাথের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও আদালতে দাবি করা হয়।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে কৌশিক দেবনাথকে কারাগারে নেওয়া হয়।

যেভাবে প্রশ্নফাঁসের মামলা

বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে দায়ের করা ওই মামলায় শুরুতে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৮ মে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, আবেদ আলীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহ করতেন। নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে তাদের প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানোর পর পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তদন্তে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চক্রটির বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

হাইকোর্টের নির্দেশে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ

এর আগে গত ৭ জুলাই হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন কৌশিক দেবনাথ। সে সময় হাইকোর্ট তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেই সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান কৌশিক। তবে শেষ পর্যন্ত তার আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এমডিএএ/এসএনআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow