বিয়েবার্ষিকীর দিনেই জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে তালাকের নোটিশ
বিয়েবার্ষিকীর দিনেই তালাকের নোটিশ পেয়েছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে নিজের দুঃখ ও আইনি লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জানান, ১৫তম বিয়েবার্ষিকীর দিনই স্বামী পিটার হাগ তাকে ডিভোর্স নোটিশ দেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে তিনি তার তিন সন্তানের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সেলিনা জেটলি তার স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে সাংসারিক সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। মুম্বাইয়ের আন্ধেরির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা ওই মামলায় তিনি ৫০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য দাবি তোলেন। মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ছবি শেয়ার করে সেলিনা লেখেন, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর রাত ১টায় আমি প্রতিবেশীদের সহায়তায় অস্ট্রিয়া ছাড়তে বাধ্য হই। আমি যে নিরবচ্ছিন্ন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম, তা থেকে বাঁচতেই এ সিদ্ধান
বিয়েবার্ষিকীর দিনেই তালাকের নোটিশ পেয়েছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে নিজের দুঃখ ও আইনি লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জানান, ১৫তম বিয়েবার্ষিকীর দিনই স্বামী পিটার হাগ তাকে ডিভোর্স নোটিশ দেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে তিনি তার তিন সন্তানের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সেলিনা জেটলি তার স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে সাংসারিক সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। মুম্বাইয়ের আন্ধেরির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা ওই মামলায় তিনি ৫০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য দাবি তোলেন।
মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ছবি শেয়ার করে সেলিনা লেখেন, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর রাত ১টায় আমি প্রতিবেশীদের সহায়তায় অস্ট্রিয়া ছাড়তে বাধ্য হই। আমি যে নিরবচ্ছিন্ন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম, তা থেকে বাঁচতেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অল্প কিছু অর্থ নিয়ে আমাকে ভারতে ফিরে আসতে হয় এবং নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করতে হয়।
তিনি জানান, ভারতে ফিরে নিজের বাড়িতে ঢুকতেও তাকে আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে। ওই বাড়িটি তিনি বিয়ের বহু আগে ২০০৪ সালে কিনেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সম্পত্তির ওপর এখন তার স্বামী দাবি করছেন। এসব আইনি প্রক্রিয়া চালাতে তাকে বড় অঙ্কের ঋণও নিতে হয়েছে।
সেলিনা আরও জানান, অস্ট্রিয়ান ফ্যামিলি কোর্টের যৌথ অভিভাবকত্বের আদেশ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে আমাকে আমার তিন সন্তানের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এটি আমাকে ভেঙে দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, তার সন্তানদের সঙ্গে তার যোগাযোগে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু মিডিয়া বর্ণনার মাধ্যমে সন্তানদের প্রভাবিত করা হচ্ছে। এমনকি তাদের মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে মানসিক চাপ ও ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পোস্টে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরে সেলিনা লেখেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে, আমাদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতে উপহারের কথা বলে আমাকে স্থানীয় পোস্ট অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আমাকে ডিভোর্স নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর শুধুমাত্র সন্তানদের কল্যাণের কথা ভেবে শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এর বদলে বিবাহপূর্ব সম্পত্তি নিয়ে দাবি ও অসম্মানজনক শর্ত আরোপ করা হয়, যা তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার শামিল।
উল্লেখ্য, সেলিনা জেটলি ২০১০ সালে অস্ট্রিয়ান উদ্যোক্তা ও হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হাগকে বিয়ে করেন। তাদের তিন ছেলে রয়েছে। তারা হলো ২০১২ সালে জন্ম নেওয়া যমজ উইনস্টন ও ভিরাজ এবং ২০১৭ সালে জন্ম নেওয়া আর্থার। এছাড়া তাদের আরেক সন্তান শামশের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
What's Your Reaction?