বুড়িচংয়ে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের আত্মপ্রকাশ, আতঙ্কে স্থানীয়রা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে একটি কিশোর গ্যাং। ‘র স্কোয়াড’ (Raw Squad) নামের এ গ্রুপের সদস্যরা বুড়িচং আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অস্ত্র প্রদর্শন করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন ‘কঙ্কাল সামির’ নামের একটি টিকটক আইডি থেকে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয় কয়েক ডজন কিশোর। এ সময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায় এবং তারা মাঠজুড়ে দৌড়ঝাঁপ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। এতে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘র স্কোয়াড’-এর নেতৃত্বে রয়েছেন জগতপুর ভুইয়া বাড়ির সামির নামে এক যুবক। গ্রুপটির অধিকাংশ সদস্যও একই এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে এসব কিশোরকে ব্যবহার করছেন এবং তাদের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বুড়িচং বাজারের কয়েকজন

বুড়িচংয়ে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের আত্মপ্রকাশ, আতঙ্কে স্থানীয়রা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে একটি কিশোর গ্যাং। ‘র স্কোয়াড’ (Raw Squad) নামের এ গ্রুপের সদস্যরা বুড়িচং আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অস্ত্র প্রদর্শন করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন ‘কঙ্কাল সামির’ নামের একটি টিকটক আইডি থেকে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয় কয়েক ডজন কিশোর। এ সময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায় এবং তারা মাঠজুড়ে দৌড়ঝাঁপ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। এতে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘র স্কোয়াড’-এর নেতৃত্বে রয়েছেন জগতপুর ভুইয়া বাড়ির সামির নামে এক যুবক। গ্রুপটির অধিকাংশ সদস্যও একই এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে এসব কিশোরকে ব্যবহার করছেন এবং তাদের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বুড়িচং বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক বছর ধরে ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী দলবদ্ধভাবে বাজারে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে আসছে। শুক্রবারের মহড়ায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেও ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা ছিল বলে তারা দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বড় ভাইদের সঙ্গে চলাফেরা করতে গিয়ে অনেক কিশোর পথভ্রষ্ট হচ্ছে। কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে এসব গ্রুপ গড়ে তুলে মাঠে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।”

এ বিষয়ে ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ আবু তাহের বলেন, “উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে গত ২১ মে দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরও দুইজনকে বুড়িচং থানায় সোপর্দ করা হয়েছিল। পরে তারা মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। আমরা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। তবে বাইরের কিছু লোক তাদের ব্যবহার করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, “অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়লে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা সহজ হবে। আমরা চাই সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসুক।”

এদিকে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার না করায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, “শুক্রবার দুপুরে স্কুল মাঠে কিশোর গ্যাংয়ের অস্ত্র প্রদর্শনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রুপটির বেশিরভাগ সদস্য পৌর এলাকার জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা। কয়েকজন তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। খুব শিগগিরই তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের এমন প্রকাশ্য তৎপরতা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও উদ্বেগজনক। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow