বৃষ্টি হলেই কপালে ভাঁজ পড়ে কৃষকের

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু হলেও স্বস্তি নেই কৃষকদের মনে। আকাশে মেঘ জমলেই বাড়ছে দুশ্চিন্তা। জলাবদ্ধতা, শ্রমিক সংকট, বৃষ্টিজনিত কাদা এবং আগাম বন্যার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে বছরের একমাত্র ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের। দিরাই উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের কৃষক রাহুল মিয়া জানান, তিনি ৪ কেয়ার জমিতে ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় দেড় কেয়ার জমির ধান ইতোমধ্যে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।  তিনি বলেন, আগে বৃষ্টি হলে উদগল হাওরের পানি দ্রুত নদীতে নেমে যেত। এখন চর জেগে ওঠায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জমিতে ডুবরা লাগে, ধান পানির নিচে চলে যায়। জানা গেছে, উপজেলার বিস্তীর্ণ ৩৯টি হাওরে এবার ৩০ হাজার ১৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৭ টন চাল। ধান কাটার জন্য ৭৩টি নিজস্ব ও ৪০টি ভাড়াচালিত কম্বাইন হারভেস্টার প্রস্তুত থাকলেও জমিতে পানি জমে থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও ধান কাটা, কোথাও মাড়াই, আবার কোথাও খলা তৈরির কাজ চলছে। তবে কৃষকদের চোখেমুখে আনন্দের চেয়ে উদ্বেগই বেশ

বৃষ্টি হলেই কপালে ভাঁজ পড়ে কৃষকের
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু হলেও স্বস্তি নেই কৃষকদের মনে। আকাশে মেঘ জমলেই বাড়ছে দুশ্চিন্তা। জলাবদ্ধতা, শ্রমিক সংকট, বৃষ্টিজনিত কাদা এবং আগাম বন্যার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে বছরের একমাত্র ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের। দিরাই উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের কৃষক রাহুল মিয়া জানান, তিনি ৪ কেয়ার জমিতে ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় দেড় কেয়ার জমির ধান ইতোমধ্যে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।  তিনি বলেন, আগে বৃষ্টি হলে উদগল হাওরের পানি দ্রুত নদীতে নেমে যেত। এখন চর জেগে ওঠায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জমিতে ডুবরা লাগে, ধান পানির নিচে চলে যায়। জানা গেছে, উপজেলার বিস্তীর্ণ ৩৯টি হাওরে এবার ৩০ হাজার ১৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৭ টন চাল। ধান কাটার জন্য ৭৩টি নিজস্ব ও ৪০টি ভাড়াচালিত কম্বাইন হারভেস্টার প্রস্তুত থাকলেও জমিতে পানি জমে থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও ধান কাটা, কোথাও মাড়াই, আবার কোথাও খলা তৈরির কাজ চলছে। তবে কৃষকদের চোখেমুখে আনন্দের চেয়ে উদ্বেগই বেশি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ধান পুরোপুরি পাকবে বলে আশা করা হলেও সময়মতো ঘরে তুলতে পারা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। কৃষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দশ কেয়ার জমিতে ভালো ফলন হয়েছে, কিন্তু জমিতে পানি থাকায় মেশিন নামানো যাচ্ছে না। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। যারা আছে তারা কেয়ারপ্রতি ৪-৫ হাজার টাকা চাচ্ছে। কীভাবে ধান কাটব বুঝতে পারছি না। চাপতির হাওরের কৃষক আব্দুল মজিদ মিয়া জানান, গত বছরের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে যেখানে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকায় কেয়ারপ্রতি ধান কাটা যেত, এখন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা লাগছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে বলেন তিনি। কালিয়াকোটা হাওরের কৃষক শামন্ত দাস বলেন, জমিতে কাদা ও পানি এত বেশি যে হারভেস্টার নামালে তলিয়ে যাবে। বাধ্য হয়ে শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, কিন্তু পর্যাপ্ত শ্রমিক নেই। ফসল ঘরে তুলতে না পারার ভয়েই রাতে ঘুম আসে না। বরাম হাওরের কৃষক জয়ন্ত দেব জানান, তার ৫ কেয়ার জমির ধান এখনও পুরোপুরি পাকেনি। জমিতে পানি জমে থাকায় সেখানে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করা সম্ভব নয়। কম্বাইন হারভেস্টারের মালিক মিজানুর রহমান জানান, এ বছর এখনও তিনি মেশিন মাঠে নামাতে পারেননি। হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন বলেন, সমস্যার মূল কারণ দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত বাঁধ, পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনের অভাবে অল্প বৃষ্টিতেই হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। শুধু বাঁধ দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়, নদী ও খাল খননসহ সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী বলেন, ১৫ এপ্রিলের পর পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। তবে জমিতে পানি থাকায় সব জায়গায় হারভেস্টার ব্যবহার সম্ভব নয়। শ্রমিক সংকটের কারণে কিছুটা দেরি হতে পারে। তবুও ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow