বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া প্রাইমকোডের ওপরই পিচ ডালাই

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সদর থেকে বাহুবল-রাজাপুর বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক কোটি ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বরাদ্দকৃত সড়কটির সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দায়সারা কাজ, নিম্নমানের নির্মাণ এবং তদারকির চরম ঘাটতিতে সরকারের কোটি টাকা অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। রোববার (৭ জুন) দুপুর ১২টায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে পিচ ঢালার আগে নিয়ম অনুযায়ী যে প্রাইমকোড (স্থানীয়ভাবে ‘ভিটামিন’) দেওয়ার কথা, তা ৩-৪ দিন আগে প্রয়োগ করা হলেও এর মধ্যে টানা ভারী বৃষ্টিতে সেটি সম্পূর্ণ ধুয়ে গেছে। ফলে রাস্তার ওপর প্রাইম কোডের কোনো অস্তিত্বই নেই। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিফা ভুঁইয়া পুনরায় প্রাইমকোড না দিয়েই দীর্ঘ অংশজুড়ে পিচ ঢালাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাইমকোড ছাড়া পিচ ঢাললে তা টেকসই হয় না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে পুরো প্রকল্পই ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর নতুন সড়ক পেয়ে স্বস্তি ফিরেছিল স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে। কিন্তু শুরুতেই এমন অনিয়ম দেখে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন তারা। যে কোনো সময় এই ক্ষোভ বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসি

বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া প্রাইমকোডের ওপরই পিচ ডালাই

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সদর থেকে বাহুবল-রাজাপুর বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক কোটি ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বরাদ্দকৃত সড়কটির সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দায়সারা কাজ, নিম্নমানের নির্মাণ এবং তদারকির চরম ঘাটতিতে সরকারের কোটি টাকা অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রোববার (৭ জুন) দুপুর ১২টায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে পিচ ঢালার আগে নিয়ম অনুযায়ী যে প্রাইমকোড (স্থানীয়ভাবে ‘ভিটামিন’) দেওয়ার কথা, তা ৩-৪ দিন আগে প্রয়োগ করা হলেও এর মধ্যে টানা ভারী বৃষ্টিতে সেটি সম্পূর্ণ ধুয়ে গেছে। ফলে রাস্তার ওপর প্রাইম কোডের কোনো অস্তিত্বই নেই। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিফা ভুঁইয়া পুনরায় প্রাইমকোড না দিয়েই দীর্ঘ অংশজুড়ে পিচ ঢালাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাইমকোড ছাড়া পিচ ঢাললে তা টেকসই হয় না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে পুরো প্রকল্পই ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর নতুন সড়ক পেয়ে স্বস্তি ফিরেছিল স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে। কিন্তু শুরুতেই এমন অনিয়ম দেখে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন তারা। যে কোনো সময় এই ক্ষোভ বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জুবাঈদ আহমদ বলেন, আমরা কয়েকদিন ধরে বারবার অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোনো নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। এভাবে কাজ হলে এই রাস্তা কয়েক মাসও টিকবে না।

আরেক বাসিন্দা নুরুদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভিটামিন ছাড়া পিচ দেওয়া হচ্ছে—এটা কাজ না করে টাকা নষ্ট করার নামান্তর। এই কাজ করার চেয়ে না করাই ভালো।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাঁধনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপরদিকে, কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি, যা তদারকির ঘাটতিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

যদিও এলজিইডির সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মণ্ডল বলেন, প্রাইমকোড দেওয়ার পর যানবাহন চলাচল বা বৃষ্টির কারণে তা উঠে গেলে পুনরায় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুনরায় প্রাইম কোড দিয়ে পিচ করা উচিত ছিল। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ভোগান্তির পর পাওয়া এই সড়কটি যদি শুরুতেই অনিয়মের শিকার হয়, তবে তা সরকারের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জন-দুর্ভোগ আরও বাড়াবে।

সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং কঠোর নজরদারি না হলে এই প্রকল্প দুর্নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও উজ্জ্বল রায় কে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow