বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু সাঈদ যেন ফুল হয়ে ফুটেছে

4 hours ago 6

সবুজের মায়ায় জড়ানো, পাখির কিচিরমিচির শব্দ, প্রাণ জুড়ানো দখিনা বাতাস, ফুলের সুগন্ধ আর স্নিগ্ধ হওয়ায় প্রকৃতির কোমল মায়ার চাদরে জড়িয়ে রয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আবু সাইদের ক্যাম্পাস হওয়ায় সবার আবেগের জায়গা বেরোবি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পথ চলতে চলতে নানান বৃক্ষ আর ফুলের সমারোহ দেখে মনে হয় এ যেন শহীদ আবু সাঈদ ফুল হয়ে ফুটেছে। ৭৫ একরের এই ক্যাম্পাসে রয়েছে চারশত প্রজাতিরও বেশি প্রায় ৩৭ হাজার গাছ এবং বাহারি রকমের ফুল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন দর্শনার্থীদের কাছে এক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।

ঋতু পরিক্রমায় এসেছে বসন্তকাল। মৃদু ঠান্ডা, শীত যায় যায় ভাব। এরই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাহারি রঙের নতুন ফুলে সেজেছে ক্যাম্পাস। চারদিকে ফুলের সমারোহ। মৃদু বাতাসে বাহারি ফুলের মিষ্টি গন্ধ, ফুলের সুবাস মাতিয়ে তোলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মন। ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা পুরো ক্যাম্পাস। যা ক্যাম্পাসের পরিবেশে-প্রকৃতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন।

ক্যাম্পাসের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি জারুলগাছ। ক্যাম্পাসের প্রথম গেট (আবু সাঈদ গেট) দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে দেবদারু সুশোভিত সড়ক। রাস্তার দুই ধারে দেখা মিলবে হরেক রকমের ফুল গাছ। ক্যাম্পাসের সর্বোচ্চ সুন্দরতম সড়ক হলো- বিজয় সড়ক যা কৃষ্ণচূড়া ও দেবদারু সড়কে সংযোগ করে থাকে। প্রতি বিকেলে বিজয় সড়ক আর প্রশাসনিক ভবনের প্রাঙ্গণ যেন সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের ছবি তোলার হটস্পট হয়ে ওঠে।

পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে পরিচিত গাছের পাশাপাশি পরিচয় মিলবে বিভিন্ন অপরিচিত গাছেরও। কোনোটা পরিণত, কোনোটা চারা অবস্থা থেকে মাত্রই ছোটো ডাল মেলে, কোনোটা আবার শরীর ভর্তি সবুজ-কোমল-কচি পাতা নিয়ে বেড়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসে ফল-ফুল, ঔষধি ও সৌন্দর্য বর্ধক গাছও রয়েছে। যেমন- শাল, দেবদারু, পলাশ, কাউফল, আঁশফল, সফেদা, আলুবোখারা, আমলকী, বট, পাকুড়, হরীতকী, বহেরা, অর্জুন, কাইজেলিয়া, রাবার, সোনালু, বিলাতি গাব, জাত, নিম, বুদ্ধ নারিকেল, কাঠবাদাম।

ফুলগাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে- নীলমণি লতা, ঝুমকো লতা, লাল কাঞ্চন, শ্বেত কাঞ্চন, কাঠগোলাপ, চেরি, জবা, রজনিগন্ধা ও মাধবীলতা। দুর্লভ গাছের মধ্যে রয়েছে- গ্লিরিসিডিয়া, জয়তুন, পারুল, হৈমন্তী, জয়ত্রি, ঢাকি, জাম, তেলসুর, পুত্রঞ্জীব, কানাইডিঙা, হলুদ, দইবোটা, পুকুর, মহুয়া, পানিয়াল, পেস্তাবাদাম, কাজুবাদাম এবং নাগেশ্বর গাছ।

বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের বাগান। বিশেষ করে প্রশাসনিক ভবনের উভয় পাশ, কৃষ্ণচূড়া সড়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ গেট সংলগ্ন দেবদারু সড়ক, আবাসিক হলের পাশে ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি স্থানে ফুলের বাগান করা হচ্ছে। তবে অন্যসব স্থানকে ছাপিয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উত্তর এবং দক্ষিণ গেটের সামনের অংশ। পুরো অংশ জুড়ে হলুদ, লাল, গোলাপি আর সবুজের সমারোহ ভালোলাগা সৃষ্টি করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে। এসব বাগানে ফুটেছে নানান প্রজাতির ফুল। গাঁদা, জাম্বু গাঁদা, ক্যালেন্ডুলা, পিটুনিয়া, ভাররবিনা, দেশি সিলভিয়া, হাইব্রিড গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, ড্যামথাস, ডালিয়া, গোলাপ, মোরগ ঝুঁটি, সূর্যমুখীসহ নানা প্রজাতির ফুল। 

সৌন্দর্যের টানে অবসরে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে ক্যাম্পাসে আসছেন অনেকে। ছবি তুলছেন ফুলের সঙ্গে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে বেরোবির সবুজ ক্যাম্পাস। তবে বিকেল হলে দর্শনার্থীদের পদচারণা বাড়ে কয়েক গুণ। মাঝে মাঝে নতুন দম্পতিরা ক্যাম্পাসে ঘুরতে এসে ফুলের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের স্মৃতিকে ফ্রেমবন্দি করে রাখেন। 

ফুল সবারই প্রিয়। ফুল মানুষের মনকে সতেজ করে প্রকৃতিতে যোগ করে এক নতুন মাত্রা। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী যোগদানের পর বিশ্ববিদ্যালয়কে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তার সুদক্ষ পরিচালনায় ক্যাম্পাস সুশোভিত হয়েছে। তিনি কোনো রকম বিতর্কে না জড়িয়ে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ধরে রাখার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবেন, এটাই সবার প্রত্যাশা।

Read Entire Article