বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা
বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা। বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং মিথ্যা ঘোষণায় রাজস্ব ফাঁকি বাড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি বাণিজ্য সংশিষ্টদের। তবে কাস্টম কর্তৃপক্ষ বছর শেষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন। বেনাপোল আমদানি, রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, দেশের চলমান ১৪টি বন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি, রপ্তানি হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতি অর্থবছর শুরুতেই আমদানি পণ্য থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয় ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। আর অর্থবছরটির প্রথম ৬ মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। তবে ৬ মাসে মাত্র আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ দশমিক ৫ কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে দেখা গেছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি হয়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা। আমদানিকারক হাবিবুর রহমান জানান, বেনাপোল বন্দর দ
বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা। বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং মিথ্যা ঘোষণায় রাজস্ব ফাঁকি বাড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি বাণিজ্য সংশিষ্টদের। তবে কাস্টম কর্তৃপক্ষ বছর শেষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন।
বেনাপোল আমদানি, রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, দেশের চলমান ১৪টি বন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি, রপ্তানি হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতি অর্থবছর শুরুতেই আমদানি পণ্য থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয় ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। আর অর্থবছরটির প্রথম ৬ মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। তবে ৬ মাসে মাত্র আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ দশমিক ৫ কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে দেখা গেছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি হয়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা।
আমদানিকারক হাবিবুর রহমান জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি রাজস্ব আয় হওয়ার কথা। তবে ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাণিজ্যর নিরাপত্তা ঘাটতির সুযোগে আমদানি পণ্য পাচার করে শুল্কফাঁকি এবং আমদানি বাণিজ্যে বেশকিছু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞায় রাজস্ব ঘাটতির কবলে পড়ে কাস্টম হাউস।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী সংঠনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, বৈধ সুবিধা না পেয়ে বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কমিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। এ ছাড়া বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণেও আমদানি কমেছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দ্রুত পণ্য খালাস ও বৈধ সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হলে এ পথে আমদানি ও রাজস্ব আয় বাড়বে।
বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী জানান, বন্দরে আমদানি কমায় বেকার হয়ে পড়েছে শ্রমিকরা। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দুই দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দীন বলেন, বন্দরে আমরাও নিরাপত্তা চাই। তবে নিরাপত্তার নামে দীর্ঘক্ষণ ধরে ট্রাক আটকে তল্লাশিতে এ পথে ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়েছেন। যদি ভারতের মতো বেনাপোল বন্দরে পণ্য প্রবেশ দ্বারে স্ক্যানিং মেশিন থাকে তবে হয়রানি কমবে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, বেনাপোল কাস্টম হাউসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেন ৫০৮ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৫৪৪.০৪ কোটি টাকা। আগস্ট মাসের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৯৩ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৪৪৭.৯৩ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০১ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৫১৩.৫৮ কোটি টাকা।
অক্টোবর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৪৫ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৪৪৯.২৮ কোটি টাকা। নভেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫৫ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৫৬৪.৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ডিসেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৬০০.৮১ কোটি টাকা।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রথম ৬ মাসে বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। এই ছয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ দশমিক ৫ কোটি টাকা। যারা শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে জরিমানাসহ কাস্টমস আইনে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব কমলে ও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতে আশা করছি।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানান, সবশেষ ১০ জানুয়ারি বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৫৬ মাত্র ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য এবং রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮০ ট্রাক। অথচ স্বাভাবিক সময়ে আমদানি হতো ৬ থেকে ৭০০ ট্রাক পণ্য এবং রপ্তানি ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক। বাণিজ্যে নিরাপত্তা বাড়াতে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে অনেকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
What's Your Reaction?