রাজধানীর শাহবাগে ফুলের দোকানে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, সাধারণত বেলুন ফোলাতে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করেন। শাহবাগে ফুলের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার ছিল, সেখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছিল।
শনিবার (৫ এপ্রিল) রাতে আগুন নেভানো শেষে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে কাজ শুরু করে, কিন্তু পানি সমস্যার কারণে আরও তিনটি ইউনিট ফায়ার সার্ভিসের হেডকোয়ার্টার থেকে নিয়ে আসি। এরপর পাঁচটি ইউনিট দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
আরও পড়ুন
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, এ বিষয়টি এখনই বলা যাবে না। যারা ফুলের দোকানগুলোর মালিক আমরা তাদের এখনো পাইনি। তাদের কাছ থেকে তথ্য পেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলতে পারবো।
‘তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতি অবশ্যই হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে সেটা পরে বলা যাবে। কিন্তু আগুনে হতাহতের কোনো সংবাদ এখনো আমরা পাইনি।’
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এখনো সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা বলেন, এখানে বিপজ্জনক অবস্থায় বেলুন ফোলানোর যে গ্যাস ব্যবহার করা হয় হিলিয়াম অথবা হাইড্রোজেন, সেসব গ্যাসের সিলিন্ডার ছিল। সেখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছিল এবং আগুন হচ্ছিল। আমরা অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে আগুন নিভিয়েছি। কোনো ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে নাই।
‘এছাড়া বৈদ্যুতিক তারগুলো খুব লুজ কানেকশন এবং ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ধারণা করছি, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে এ আগুনটা লেগে থাকতে পারে।’
আরও পড়ুন
ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, হাইড্রোজেন গ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। দামে কম হওয়ায় বেলুন ফোলানোর জন্য হিলিয়ামের পরিবর্তে হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করেন অনেকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যাবে গ্যাসটা কীসের ছিল।
আগুন নিভলেও গ্যাস সিলিন্ডারগুলো বিপজ্জনক অবস্থায় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেগুলো ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে হবে। সেখানে আপাতত কাউকে যেতে দেওয়া যাবে না।
টিটি/এমকেআর