বেশি দামে বিক্রির লোভে ছাগলের মুখে পাইপ, ভিডিওতে তোলপাড়

অতিরিক্ত লাভের নেশা মানুষকে কতটা নিষ্ঠুর ও অমানবিক করে তুলতে পারে, তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ দেখা গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে। হাটে বিক্রির আগে ওজন কয়েক কেজি বেশি দেখিয়ে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার আশায়, একটি নিরীহ ছাগলকে জোরপূর্বক পাইপ দিয়ে পানি খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার (২৪ জুন) সকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।  ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছাগলকে কয়েকজন মিলে শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে। প্রাণীটি ছটফট করে মুক্ত হওয়ার আকুল চেষ্টা করছে, কিন্তু তার সেই যন্ত্রণার আকুতি যেন কারও মনে দাগ কাটেনি। ওজন বাড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্যে একটি মোটা পাইপ ছাগলটির মুখে জোর করে ঢুকিয়ে অনবরত পানি ঢালা হচ্ছে। এমন দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর নাম চাঁন বাদশা। তিনি উপজেলার কড়ইকান্দি গ্রামের মো. সাবুদ্দিনের ছেলে।  ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে লোকলজ্জা ও আইনি ব্যবস্থার ভয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন চাঁন

বেশি দামে বিক্রির লোভে ছাগলের মুখে পাইপ, ভিডিওতে তোলপাড়

অতিরিক্ত লাভের নেশা মানুষকে কতটা নিষ্ঠুর ও অমানবিক করে তুলতে পারে, তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ দেখা গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে। হাটে বিক্রির আগে ওজন কয়েক কেজি বেশি দেখিয়ে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার আশায়, একটি নিরীহ ছাগলকে জোরপূর্বক পাইপ দিয়ে পানি খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত বুধবার (২৪ জুন) সকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছাগলকে কয়েকজন মিলে শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে। প্রাণীটি ছটফট করে মুক্ত হওয়ার আকুল চেষ্টা করছে, কিন্তু তার সেই যন্ত্রণার আকুতি যেন কারও মনে দাগ কাটেনি। ওজন বাড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্যে একটি মোটা পাইপ ছাগলটির মুখে জোর করে ঢুকিয়ে অনবরত পানি ঢালা হচ্ছে। এমন দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর নাম চাঁন বাদশা। তিনি উপজেলার কড়ইকান্দি গ্রামের মো. সাবুদ্দিনের ছেলে। 

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে লোকলজ্জা ও আইনি ব্যবস্থার ভয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন চাঁন বাদশা। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনাটি হাতেনাতে প্রকাশ না পেলে হয়তো এই অতিরিক্ত ওজনের ছাগলটি চড়া দামে কিনে প্রতারিত হতেন কোনো সাধারণ ক্রেতা।

স্থানীয় প্রবাসী তওফিকুর রহমান বলেন, এটি একটি অমানবিক কাজ। কারণ একটি পশুকে বিক্রি করে অল্প কিছু টাকা লাভের জন্য যেভাবে নির্যাতন চালিয়েছে এটা না করলেও পারতো। এটা যদি মানুষ হতো তাহলে কথা বলতে পারতো কিন্তু এই প্রাণীটা তো কথা বলতে পারে না। এটা খুবই খারাপ হয়েছে, তার শাস্তি হওয়া দরকার। 

মনিরুল হাসান নামের এক স্থানীয় শিক্ষার্থী জানান, ভিডিওটি দেখার পর থেকেই মনটা খারাপ হয়ে আছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। শুধু আমি নই, বাঞ্ছারামপুরের সর্বস্তরের মানুষ এই ঘটনাকে ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যেই আমাদের নজরে এসেছে। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, একটি নির্বাক প্রাণীর ওপর এমন আচরণ অত্যন্ত অমানবিক। এই নিষ্ঠুরতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow