বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনেও বাড়লো সূচক, কমেছে লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে দুই বাজারেই কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর আগে, গত ৩১ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করে সরকার। স্কিমের ধরন অনুযায়ী মুনাফার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয় ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত। যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১ শতাংশের ওপরে কমানো হয়। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর পর নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবস (১ জানুয়ারি ও ৪ জানুয়ারি) শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। সেই সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় পর ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে উঠে আসে। কিন্তু ৪ জানুয়ারি বিকেলের দিকে সঞয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকার। এরপর সোমবার ও মঙ্গলবার টানা দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। তবে বুধবার ফের ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মেলে। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ডিএসইত

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনেও বাড়লো সূচক, কমেছে লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে দুই বাজারেই কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এর আগে, গত ৩১ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করে সরকার। স্কিমের ধরন অনুযায়ী মুনাফার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয় ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত। যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১ শতাংশের ওপরে কমানো হয়।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর পর নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবস (১ জানুয়ারি ও ৪ জানুয়ারি) শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। সেই সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় পর ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে উঠে আসে। কিন্তু ৪ জানুয়ারি বিকেলের দিকে সঞয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকার। এরপর সোমবার ও মঙ্গলবার টানা দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। তবে বুধবার ফের ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মেলে।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মেলে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় লেনদেনের এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে বাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠা দাম কমার তালিকায় নাম লেখায়। এতে এক পর্যায়ে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে, লেনদেনের শেষ দিকে বড় মূলধনের কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ে। এতে দাম কমার তালিকা বড় হলেও প্রধান মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৩টির। আর ৮৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০২টির দাম কমেছে এবং ৪০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ৩৫টির দাম কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৬টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০টির দাম কমেছে এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এরপরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯১৪ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

সবকটি প্রধান মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪২৯ কোটি ১১ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬৫ কোটি ৬৮ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকার। ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- লাভেলো আইসক্রিম, উত্তরা ব্যাংক, ফাইন ফুডস, যমুনা ব্যাংক, রবি, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৯টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এমএএস/এএমএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow