বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন

দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি আরও কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ১০ শতাংশে। এর আগে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ছিল গত বছরের অক্টোবরে, যা ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ কমেছে। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জ্বালানি সংকটও বিনিয়োগে ধীরগতি তৈরি করেছে। ব্যাংকাররা জানান, সামগ্রিকভাবে বর্তমানে ঋণের চাহিদা কম। নির্বাচনের আগে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের অনীহা থাকাটা স্বাভাবিক বলে তারা মনে করেন। পাশাপাশি আগের সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত অনেক বড় ব্যবসায়ী বর্তমানে পলাতক বা কারাগারে রয়েছেন। তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় নতুন ঋণের চাহিদাও তৈরি হচ্ছে না। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মিলিয়ে বেসরকারি খাতে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ হ

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন

দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি আরও কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ১০ শতাংশে। এর আগে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ছিল গত বছরের অক্টোবরে, যা ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।

সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ কমেছে। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জ্বালানি সংকটও বিনিয়োগে ধীরগতি তৈরি করেছে।

ব্যাংকাররা জানান, সামগ্রিকভাবে বর্তমানে ঋণের চাহিদা কম। নির্বাচনের আগে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের অনীহা থাকাটা স্বাভাবিক বলে তারা মনে করেন। পাশাপাশি আগের সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত অনেক বড় ব্যবসায়ী বর্তমানে পলাতক বা কারাগারে রয়েছেন। তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় নতুন ঋণের চাহিদাও তৈরি হচ্ছে না। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মিলিয়ে বেসরকারি খাতে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ হচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ঋণ প্রবৃদ্ধিতে।

আরও পড়ুন
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ বছরে সর্বনিম্ন

বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি সুদহার কমানোর দাবি উঠলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনই সে পথে যেতে রাজি নয়। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না আসা পর্যন্ত নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকবে।

এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রথমে ২৯ জানুয়ারি, পরে ৩ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা পিছিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হতে পারে। নীতি সুদহার কমানো নিয়ে সরকারের সঙ্গে মতানৈক্যের কারণেই বারবার তারিখ পরিবর্তন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সুদসহ ঋণ বেড়েছে এক লাখ দুই হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা, যা প্রবৃদ্ধির হিসাবে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। আগের মাস নভেম্বরে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অথচ সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত গত দুই যুগের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর আগে কখনোই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এত নিচে নামেনি। এমনকি করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালেও বিনিয়োগ স্থবিরতা থাকলেও ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৭ শতাংশের বেশি। পরে তা আবার দুই অঙ্কে পৌঁছায়। তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসে, তখন তা ছিল ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমে বর্তমান অবস্থানে এসে ঠেকেছে।

ইএআর/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow