ব্যবসায়ীকে অপহরণ, আ.লীগ নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রামের রাউজানে আজম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আজম উদ্দিন (৪১) বাদী হয়ে চট্টগ্রামের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেলে রাউজান থানাধীন কদলপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের বসতবাড়িতে অবস্থান করছিলেন আজম উদ্দিন। এ সময় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে তাকে অপহরণ করেন। পরে তাকে আশরাফ শাহ মাজারের পূর্ব পাশের একটি গহিন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে অপহরণকারীরা আজম উদ্দিনের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন এবং এক ঘণ্টার মধ্যে টাকা দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একজন আসামি বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা তার বুকের বাম পাশে লাগে। অন্য আসামিরা লোহার রড ও অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করেন। মামলায় আরও বলা হয়েছে, অপহরণকারীরা তাকে অস্ত্রের মুখ
চট্টগ্রামের রাউজানে আজম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আজম উদ্দিন (৪১) বাদী হয়ে চট্টগ্রামের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেলে রাউজান থানাধীন কদলপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের বসতবাড়িতে অবস্থান করছিলেন আজম উদ্দিন। এ সময় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে তাকে অপহরণ করেন। পরে তাকে আশরাফ শাহ মাজারের পূর্ব পাশের একটি গহিন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে অপহরণকারীরা আজম উদ্দিনের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন এবং এক ঘণ্টার মধ্যে টাকা দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একজন আসামি বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা তার বুকের বাম পাশে লাগে। অন্য আসামিরা লোহার রড ও অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করেন।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, অপহরণকারীরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে তাকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় করা মামলায় ৯ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- জানে আলম, মো. রুবেল, মো. ইকরাম, মো. মামুন, মো. মান্নান, মো. আজগর, মো. আজিজ, মো. আসাদ ও মো. তারেক। এ ছাড়া মামলায় আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এজাহারে উল্লিখিত আসামি আজিজ বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হওয়া সরোয়ার বাবলার ভাই। এছাড়া পতিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার গুঞ্জন উঠেছে। আরও অভিযোগ আছে সরোয়ার বাবলার মৃত্যুর পর নিজের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছেন তিনি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা চেয়ে অপহরণের অভিযোগ ও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আজিজ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
ভুক্তভোগী আজম উদ্দিন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে তিনি থানায় সহায়তা চাননি এমন নয়। তবে সে সময় যথাযথ ব্যবস্থা না পাওয়ায় তিনি আতঙ্কে ছিলেন। বর্তমানে তিনি আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চান বলে জানান।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
রাউজান থানার ডিউটি অফিসার এসআই হুমায়ন কালবেলাকে বলেন, এই মুহূর্তে বিষয়টা আমার জানা নেই। আদালত থেকে কোনো কাগজপত্র এসেছে কিনা বিস্তারিত বের করে জানাতে পারবো। তবে আদালতের নির্দেশনা পেলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
What's Your Reaction?