ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা

দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল তদারকির কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটে পড়েছে। বর্তমানে এই খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যার পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় নানা অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংকিং খাতে গুরুতর আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার এই খাতে সুশাসন, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জানান, দুর্বল ও মূলধন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য চলতি অর্থবছরেই প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ বা বিদেশে পাচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের সম্পদ বাজে

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা

দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল তদারকির কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটে পড়েছে। বর্তমানে এই খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যার পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় নানা অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংকিং খাতে গুরুতর আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার এই খাতে সুশাসন, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি জানান, দুর্বল ও মূলধন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য চলতি অর্থবছরেই প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ বা বিদেশে পাচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের অর্থ উদ্ধার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন জোরদার করা এবং ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আর্থিক খাতে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, খেলাপি ঋণের বিশাল চাপ একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছেছে।

ইএআর/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow