ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে আবারও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীরে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও সেই একই জায়গায় ৪০ মিটার স্থানে ভাঙন শুরু হয়। তীব্র ভাঙনের ফলে নদের তীরবর্তী মানুষের মাঝে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে চিলমারীকে রক্ষার জন্য প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে নদের ডান তীর ব্লক ডাম্পিং ও পিচিং এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট এলাকা থেকে রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছহাট বাজারের ভাটি পর্যন্ত এলাকার কাজ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়।  ওই প্রকল্পে কয়েক দফায় ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে তা মেরামত করা হয়েছিল। গত দুই সপ্তাহে আগে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিলে সামান্য জিও ব্যাগ ফেলে তা রক্ষার চেষ্টা করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে একই এলাকায় প্রায় ৪০ মিটার জায়গার আবারও তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। তীব্র ভাঙনের ফলে নদের তীরবর্তী মানুষের

ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে আবারও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীরে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও সেই একই জায়গায় ৪০ মিটার স্থানে ভাঙন শুরু হয়। তীব্র ভাঙনের ফলে নদের তীরবর্তী মানুষের মাঝে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে চিলমারীকে রক্ষার জন্য প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে নদের ডান তীর ব্লক ডাম্পিং ও পিচিং এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট এলাকা থেকে রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছহাট বাজারের ভাটি পর্যন্ত এলাকার কাজ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়।  ওই প্রকল্পে কয়েক দফায় ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে তা মেরামত করা হয়েছিল। গত দুই সপ্তাহে আগে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিলে সামান্য জিও ব্যাগ ফেলে তা রক্ষার চেষ্টা করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে একই এলাকায় প্রায় ৪০ মিটার জায়গার আবারও তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। তীব্র ভাঙনের ফলে নদের তীরবর্তী মানুষের মধ্যে ভাঙন ও বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কটারী মসজিদ সংলগ্ন বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার জায়গার ব্লক ধসে পড়ে গেছে। বাঁধের ওই এলাকার ভাটিতে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা হুমকির মধ্যে রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাতযাপন করছেন নদের তীরবর্তী মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় ধসের ঘটনা ঘটলেও তা স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আতঙ্কে থাকতে হয় ভাঙনকবলিত মানুষদের। কাঁচকোল সড়কটারী এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান, ফুল বাবু, মতিয়ার রহমান, খতিব উদ্দিন, মঞ্জু মিয়া বলেন, ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর আমরা নদীভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বারবার ধসের ঘটনায় আমরা আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারেনি। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা সর্বস্ব হারিয়ে আবারও ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়ব বলে জানান তারা। একই এলাকার নুর ছলিমা, নুরজাহান বেগম ও স্বপ্না বেগম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে পার হলেও বর্ষা মৌসুম এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। এবারও বাঁধে ধসের খবর শুনে দিন-রাত উদ্বেগে কাটছে তাদের বলে দাবি করেন তারা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলে, আমি সেখানে যাইনি। তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আমার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া আছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ওই ভাঙন এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য ১২ হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থায়ী মেরামতের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে স্থায়ীভাবে মেরামত করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow