‘ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখার জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে আছি’
দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্রীড়া আসর বিশ্বকাপ ফুটবল। আর মাত্র ১৬দিন পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকলেও এই দেশের ফুটবল প্রিয় মানুষের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। লাল-সবুজের এই দেশটিতে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত। বিশ্বকাপের দিন যত ঘনিয়ে আসছে চারিদিকে উম্মাদনাও বাড়ছে। বিশ্বকাপ নিয়ে দেশের সাবেক তারকা গোলরক্ষক ছাইদ হাছান কাননের ভাবনা কী? তিনি কোন দলের সমর্থক এবং এবার কোন দলকে ফেবারিট হিসেবে এগিয়ে রাখছেন তা নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন। ছাইদ হাছান কানন মনে করেন, ‘বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী মানুষের কাছে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি আবেগের নাম। আর এই আবেগের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।’ ছাইদ হাছান কাননের ফুটবলের সাথে প্রেম শুরু ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ থেকে। তখন থেকেই ব্রাজিল তার হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। ব্রাজিলের খেলার অনন্য ছন্দ এবং দৃষ্টিনন্দন শৈলিই তাকে দলটির সমর্থক বানিয়েছে। তার মতে, ‘ব্রাজিল হলো ফুটবলের প্রকৃত প্রাণকেন্দ্র। সেখানকার শিশুরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথেই ফুটবল পায়ে মেতে থাকে।
দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্রীড়া আসর বিশ্বকাপ ফুটবল। আর মাত্র ১৬দিন পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকলেও এই দেশের ফুটবল প্রিয় মানুষের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে।
লাল-সবুজের এই দেশটিতে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত। বিশ্বকাপের দিন যত ঘনিয়ে আসছে চারিদিকে উম্মাদনাও বাড়ছে। বিশ্বকাপ নিয়ে দেশের সাবেক তারকা গোলরক্ষক ছাইদ হাছান কাননের ভাবনা কী? তিনি কোন দলের সমর্থক এবং এবার কোন দলকে ফেবারিট হিসেবে এগিয়ে রাখছেন তা নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন।
ছাইদ হাছান কানন মনে করেন, ‘বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী মানুষের কাছে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি আবেগের নাম। আর এই আবেগের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।’
ছাইদ হাছান কাননের ফুটবলের সাথে প্রেম শুরু ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ থেকে। তখন থেকেই ব্রাজিল তার হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। ব্রাজিলের খেলার অনন্য ছন্দ এবং দৃষ্টিনন্দন শৈলিই তাকে দলটির সমর্থক বানিয়েছে।
তার মতে, ‘ব্রাজিল হলো ফুটবলের প্রকৃত প্রাণকেন্দ্র। সেখানকার শিশুরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথেই ফুটবল পায়ে মেতে থাকে। এই ফুটবল সংস্কৃতি তাদের মজ্জায় মিশে আছে। তাই এই দেশটির ফুটবল অন্যদের চেয়ে আলাদা। ব্রাজিলের ফুটবলের যে ছন্দ তা দেখেই তো ফুটবলার হয়েছি।’
ছাইদ হাছান কানন বলেন, ‘বাংলাদেশে ৮০ এবং ৯০-এর দশকে সমর্থকের দিক দিয়ে ব্রাজিলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। বিশ্বকাপের সময় দেশের রাস্তাঘাটে এবং বাড়ির ছাদে ব্রাজিলের পতাকায় ছেয়ে যেতো। ওই সময়ে আজকের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বা বিদেশি কোচের সান্নিধ্য ছিল না। আমরা সেই প্রজন্মের খেলোয়াড়রা টিভিতে জিকো, সক্রেটিস, রোনালদো এবং রবার্তো কার্লোসের মতো কিংবদন্তিদের খেলা দেখেই ফুটবলের পাঠ নিয়েছিলাম। ওই সময়ের ফুটবল অত্যন্ত উঁচুমানের ছিল।’
বিশ্বকাপের দল বৃদ্ধি ও ফরম্যাট নিয়ে ছাইদ হাছান কাননের আছে মিশ্র অভিমত। ‘২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে ৪৮টি দল। দলের সংখ্যা বাড়ায় টুর্নামেন্টের পরিধি বেড়েছে। লম্বা একটা সময় ধরে খেলা হবে। প্রায় দেড় থেকে দুই মাসব্যাপি এই টুর্নামেন্টে অনেক নতুন ও অপরিচিত দল আছে। তাছাড়া একাধিক দেশে (আমেরিকা, কানাডা, মেক্সিকো) বিশ্বকাপ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করছি না। কারণ, এক দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন হলে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের বড় মিলনমেলা ঘটে। আমি জার্মানিতে হওয়া বিশ্বকাপ দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখেছি কি উৎসব! একাধিক দেশে খেলা হওয়াতে সেই আনন্দ ব্যহত হবে।’
এর বাইরেও আরো কিছু সমস্যা দেখছেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার। তিনটি দেশে খেলা হবে বিধায় দর্শকদের ক্লান্তিও বাড়বে বলে মনে করেন দেশের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক ‘এভাবে খেলা হলে খেলোয়াড় ও দর্শকদের ভ্রমণ ক্লান্তি বাড়ে। ম্যাচের সময়ের কোনো ঠিক থাকে না। এক দেশে খেলা হলে সময়ের একটা ধারাবাহিকতা থাকে। মানুষ সেভাবে খেলা দেখার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। এর বাইরে ইরান ও আমেরিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিমানের অতিরিক্ত ভাড়া এবং টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে সাধারণ সমর্থকদের মনে উৎসাহের কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী দল ইতালির অনুপস্থিতিও এবারের আসরের একটি বড় আক্ষেপ থাকছে দর্শকের মধ্যে। চারবারের চ্যাম্পিয়ন দল টানা তিনবার বিশ্বকাপে নেই। এটা ভাবনারও বাইরে।’
বাংলাদেশে এখন ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তবে ফুটবল এখনো মানুষের মনে এক নম্বর জায়গা দখল করে আছে উল্লেখ করে ছাইদ হাছান কানন বলেন,‘সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশে ক্রিকেট জায়গা করে নিলেও ফুটবল এখনো এ দেশের মানুষের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়। সময়ের পার্থক্যের কারণে এবারের ম্যাচগুলো বাংলাদেশে মধ্যরাত থেকে ভোররাতে সম্প্রচারিত হবে। যার ফলে অনেককে হয়তো সরাসরি খেলা না দেখে হাইলাইটস দেখতে হবে। তবুও ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনায় কমতি নেই। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার বিশাল ভক্তগোষ্ঠী আছে বাংলাদেশে। আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী দ্বৈরথের আবহ তৈরি করে রেখেছে। তাই বাংলাদেশে বিশ্বকাপের উম্মাদনা সব সময়ই থাকে।’
ছাইদ হাছান কাননের একটা স্বপ্ন সবচেয়ে দুই জনপ্রিয় দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখা। এটা কেবল তারই নয়, দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষেরও সেই স্বপ্ন। ছাইদ হাছান কানন বলেছেন, ‘কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের মতো আমারো স্বপ্ন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফাইনাল দেখা। ফুটবল ইতিহাসে এই দুই পরাশক্তি কখনো বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। এই দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বীর একটি মর্যাদার লড়াই দেখার জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে আছি।’
আরআই/আইএইচএস
What's Your Reaction?