ব্রাজিল না ছাড়লে প্রেমিকা থাকবে না
সামছুল আলম শিমুল তিনু এক মহাসংকটে পড়েছে। সে ব্রাজিলের ডাই-হার্ড ফ্যান। গত বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সমর্থনে এই এলাকাতে যে বিশাল মিছিল বের হয়েছিল তার প্রধান সমন্বয়ক ছিল সে। বাপের পকেট কেটে পুরো এক লাখ টাকা খরচ করেছিল মিছিলে। সেই তাকেই ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় চলে আসতে। নইলে ব্রেকআপ। তিন বছর আগে যখন সুমনার সঙ্গে তিনুর প্রেম হয়, তখন যদি তিনু জানত আজকে এই অবস্থা এসে দাঁড়াবে, তাহলে হয়তো বিকল্প কিছু ভাবত। এখন প্রেমের জন্য দল ছাড়লেও লোকে খ্যাঁপাবে, আবার দলের জন্য প্রেম ছাড়লেও লোকে নিষ্ঠুর, পাষণ্ড বলে গালাগাল দেবে। উভয়সংকট! এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে সে কী না করেছে! পাড়ার বড় ভাই থেকে শুরু করে গুগল মামা, চ্যাটজিপিটি কার কাছে যায়নি। কিন্তু কেউ পারফেক্ট সমাধান দিতে পারেনি। কেউ বলেছে দল ছাড়, আবার কেউ বলেছে প্রেম ছাড়ো। কিন্তু তিনু একটাও ছাড়তে চায় না। সুমনা যদি হৃদপিণ্ড হয়, তবে ব্রাজিল ফুসফুস! সে দুটো নিয়েই বেঁচে থাকতে চায়। শেষমেশ মজনু চাচার পরামর্শে সে মঘা কবিরাজের কাছে গিয়ে উপস্থিত। চাচা বলছে, পৃথিবীর হেন সমস্যা নাই যার সমাধান এই কবিরাজের কাছে নাই। টাকা একটু বেশি লাগে, তবে কাজ ভা
সামছুল আলম শিমুল
তিনু এক মহাসংকটে পড়েছে। সে ব্রাজিলের ডাই-হার্ড ফ্যান। গত বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সমর্থনে এই এলাকাতে যে বিশাল মিছিল বের হয়েছিল তার প্রধান সমন্বয়ক ছিল সে। বাপের পকেট কেটে পুরো এক লাখ টাকা খরচ করেছিল মিছিলে। সেই তাকেই ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় চলে আসতে। নইলে ব্রেকআপ।
তিন বছর আগে যখন সুমনার সঙ্গে তিনুর প্রেম হয়, তখন যদি তিনু জানত আজকে এই অবস্থা এসে দাঁড়াবে, তাহলে হয়তো বিকল্প কিছু ভাবত। এখন প্রেমের জন্য দল ছাড়লেও লোকে খ্যাঁপাবে, আবার দলের জন্য প্রেম ছাড়লেও লোকে নিষ্ঠুর, পাষণ্ড বলে গালাগাল দেবে। উভয়সংকট!
এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে সে কী না করেছে! পাড়ার বড় ভাই থেকে শুরু করে গুগল মামা, চ্যাটজিপিটি কার কাছে যায়নি। কিন্তু কেউ পারফেক্ট সমাধান দিতে পারেনি। কেউ বলেছে দল ছাড়, আবার কেউ বলেছে প্রেম ছাড়ো। কিন্তু তিনু একটাও ছাড়তে চায় না। সুমনা যদি হৃদপিণ্ড হয়, তবে ব্রাজিল ফুসফুস! সে দুটো নিয়েই বেঁচে থাকতে চায়।
শেষমেশ মজনু চাচার পরামর্শে সে মঘা কবিরাজের কাছে গিয়ে উপস্থিত। চাচা বলছে, পৃথিবীর হেন সমস্যা নাই যার সমাধান এই কবিরাজের কাছে নাই। টাকা একটু বেশি লাগে, তবে কাজ ভালো। ছোটখাটো কাজ যেমন প্রেমে বাধা, স্বামী বশীভূত, পরীক্ষায় পাস এসবে দশ হাজার। আর মৃতকে দশ মিনিটের জন্য জীবিত করা, বান মারা এই রকম কাজে পনেরো থেকে বিশ। চাচা বলেছে, তার সমস্যাটা ছোটখাটোই মনে হচ্ছে, তবুও হাজার পনেরো টাকা কাছে রাখতে। তিনু পনেরো না, পঁচিশ নিয়ে এসেছে।
সমস্যাটা মনযোগ দিয়ে শোনার পর মঘা কবিরাজ গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, সমস্যা গুরুতর...
অমনি তিনুর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। সে কাচুমাচু করে অনুনয় করলো, এভাবে বলবেন না। যা চান তাই দিব।
কবিরাজ লাল চোখ বিস্ফোরিত করে বললেন, তুই আমাকে টাকার লোভ দেখাচ্ছিস!
তিনু শুকনো মুখে বললো, আমি আসলে ওইসব বোঝাইনি। খুব বিপদে আছি। আপনি যা বলবেন তাই করব। তবুও কোনো একটা সমাধান দিন।
মঘা কবিরাজ কিছুটা প্রসন্ন হলেন। এরপর বললেন, তোর সমস্যা গুরুতর হলেও সমাধান একটা আছে। আর সমাধানটা ভীষণ...
মুখের কথা কেড়ে নিল তিনু। যত কঠিন কাজই হোক, আমি করতে এক পায়ে না, দুই পায়ে না, চার পায়ের উপর খাড়া।
মঘা কবিরাজ বললেন, না জেনে বেশি বোঝা তোর অভ্যাস। আমি কি বলেছি এর সমাধান খুব কঠিন? সমাধান সহজ রে পাগলা, সহজ...
তিনুর মুখে একটা খুশির দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ল। কী সেই সমাধান?
কবিরাজ বলে চললেন, তোকে একটা ওষুধ দেব। সেটা খেলে ৪০ দিন প্যারালাইসিস রোগীর মতো পড়ে থাকবি। হাত-পা অবশ, কিন্তু মন সরস। সবকিছু দেখবি, বুঝবি। প্রেমিকাও সহানুভূতি জানাবে, ব্রাজিলের সাপোর্টাররাও জানাবে। মাঝখান থেকে তুই খেলা দেখবি আর মনের হাত-পা নেড়ে আনন্দ করবি। ব্যস, হয়ে গেল...
তিনুর মুখে চিন্তার ভাঁজ। কিন্তু প্যারালাইসিস যদি কখনো আর ভালো না হয়?
মঘা কবিরাজ বললেন, পাগলা, বিশ্বাসে মেলে শান্তি, তর্কে বহুদূর...
ফ্রিতে ওষুধটা পেয়েছে সে। এরকম একটা আবিষ্কার পরীক্ষার জন্য তো গিনিপিগ লাগে। তিনু মঘা কবিরাজের গিনিপিগ হতেও রাজি, তবু তার ব্রাজিলিয়ান ফ্যানডম আর প্রেম-কোনোটাই ছাড়তে রাজি না।
অবশেষে সাহস করে ওষুধটা খেয়ে ফেলল সে।
পরদিন থেকেই সে বিছানায় শুয়ে। হাত-পা অবশ, কিন্তু চোখ-কান খোলা। খবর পেয়ে সুমনা কাঁদতে কাঁদতে দেখতে এলো। ব্রাজিল সাপোর্টার বন্ধুরাও এলো। সবাই তিনুর জন্য সমবেদনা জানাচ্ছে।
তিনু মনে মনে খুশি। পরিকল্পনা সফল। কিন্তু তৃতীয় দিনেই বিপদ।
সুমনা তার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, তোমার জন্য একটা সুসংবাদ ও একটা দুঃসংবাদ আছে। দুঃসংবাদ হলো আমার বিয়ে আগামী সপ্তাহে। সুসংবাদটা হলো আমার হবু স্বামীকে বলেছি, বিয়ের পরও আমি যেন তোমার ভালো বন্ধু হয়ে থাকতে পারি। মাসে অন্তত একবার তোমাকে দেখতে আসতে পারি। উনি রাজি হয়েছেন।
বলে সে চলে গেল।
তিনু মনে মনে চিৎকার দিল, না-আ-আ! কিন্তু মুখ দিয়ে বের হলো না একটা শব্দও। তারও দুই ঘণ্টা পর ব্রাজিল সাপোর্টার বন্ধুরা এসে বললো, তিনু ভাই, আপনি যেহেতু অসুস্থ, তাই এবারের মিছিলের প্রধান সমন্বয়ক করা হয়েছে রনিকে।
তিনুর বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।
সন্ধ্যায় মঘা কবিরাজ দেখতে এসে খুশিয়াল গলায় বললেন, দেখলি পাগলা, ওষুধ কাজ করছে।
প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।
কেএসকে
What's Your Reaction?