ব্রাজিল সমর্থকের ভয়ংকর প্রতারণা, অবশেষে গ্রেপ্তার

নিজেকে কখনও সিআইডির এসপি, কখনও ডিসি, আবার কখনও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নাঈম হোসেন (২৮) নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। স্থানীয়ভাবে তিনি ব্রাজিল ফুটবল দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবেও পরিচিত। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার বাজার এলাকা থেকে নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন এবং ৩৮টি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মে নাঈম নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবসায়ীকে ফোন করেন। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যবসায়ীর ওষুধ সেবনে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং মামলা এড়াতে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। ভয় পেয়ে ব্যবসায়ী নগদে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। এর কয়েকদিন পর, ৩০ মে তিনি নিজেকে সিআইডির এক এসপি পরিচয় দিয়ে এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন করেন। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়ার লেনদেনের অভিযোগ তুলে মা

ব্রাজিল সমর্থকের ভয়ংকর প্রতারণা, অবশেষে গ্রেপ্তার

নিজেকে কখনও সিআইডির এসপি, কখনও ডিসি, আবার কখনও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নাঈম হোসেন (২৮) নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। স্থানীয়ভাবে তিনি ব্রাজিল ফুটবল দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবেও পরিচিত।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার বাজার এলাকা থেকে নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন এবং ৩৮টি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মে নাঈম নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবসায়ীকে ফোন করেন। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যবসায়ীর ওষুধ সেবনে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং মামলা এড়াতে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। ভয় পেয়ে ব্যবসায়ী নগদে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন।

এর কয়েকদিন পর, ৩০ মে তিনি নিজেকে সিআইডির এক এসপি পরিচয় দিয়ে এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন করেন। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়ার লেনদেনের অভিযোগ তুলে মামলা করার ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও আইসিটি টিম তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। কখনও ওসি, কখনও এসপি বা ডিসি, আবার কখনও রাজনৈতিক নেতার পরিচয়ে প্রতারণা চালাতেন। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow