ব্রাজিলের জনপ্রিয় যে জিনিসে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
টাকা লেনদেনের প্রযুক্তি সাধারণত খুব একটা আকর্ষণীয় বিষয় হয় না। তবে ব্রাজিলের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম ‘পিক্স’ (Pix)-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোপের মুখে পড়ে এই প্রযুক্তি এখন ব্রাজিলীয়দের জাতীয় গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এক বাণিজ্য তদন্তের পর একাধিক পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে তাদের বড় অসন্তোষের জায়গা হলো ব্রাজিলের এই পিক্স সেবা। পিক্স কী এবং কেন এত জনপ্রিয়? ব্রাজিলীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২০ সালে পিক্স চালু করে। মুহূর্তের মধ্যে এবং বিনামূল্যে টাকা লেনদেনের সুবিধার কারণে এটি গ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ব্রাজিলের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এই প্রযুক্তি। আরও পড়ুন বিশ্বকাপে মাতোয়ারা ট্রাম্প, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দিচ্ছেন মার্কিন সেনারা দেশটির প্রায় ১৭ কোটি মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ) পিক্স ব্যবহার করেন। বর্তমানে ব্রাজিলের অর্ধেকেরও বেশি লেনদেন হয় এই ব্যবস্থার মাধ্যমে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, পিক্সের মাধ্যমে মার্কিন পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ভ
টাকা লেনদেনের প্রযুক্তি সাধারণত খুব একটা আকর্ষণীয় বিষয় হয় না। তবে ব্রাজিলের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম ‘পিক্স’ (Pix)-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোপের মুখে পড়ে এই প্রযুক্তি এখন ব্রাজিলীয়দের জাতীয় গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এক বাণিজ্য তদন্তের পর একাধিক পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে তাদের বড় অসন্তোষের জায়গা হলো ব্রাজিলের এই পিক্স সেবা।
পিক্স কী এবং কেন এত জনপ্রিয়?
ব্রাজিলীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২০ সালে পিক্স চালু করে। মুহূর্তের মধ্যে এবং বিনামূল্যে টাকা লেনদেনের সুবিধার কারণে এটি গ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ব্রাজিলের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এই প্রযুক্তি।
দেশটির প্রায় ১৭ কোটি মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ) পিক্স ব্যবহার করেন। বর্তমানে ব্রাজিলের অর্ধেকেরও বেশি লেনদেন হয় এই ব্যবস্থার মাধ্যমে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, পিক্সের মাধ্যমে মার্কিন পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ভিসা (Visa) এবং মাস্টারকার্ডকে (Mastercard) বঞ্চিত করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবির পেছনে কোনো ভিত্তি নেই।
পিক্সের নিয়ম মার্কিন বা বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য বৈষম্যমূলক নয়। ব্রাজিলে নিবন্ধিত যে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইচ্ছে করলেই এতে যুক্ত হতে পারে। তাছাড়া ভিসা ও মাস্টারকার্ড ব্রাজিলে স্বাধীনভাবেই ব্যবসা করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পিক্স আসার আগে ব্যাংকিং সুবিধা সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে ছিল। পিক্স চালু হওয়ার পর ব্রাজিলের প্রায় সাত কোটি মানুষ নতুন করে ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসেছে। নগদ টাকা তোলার হার প্রায় ৪৬ শতাংশ কমেছে। ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন / ব্রাজিলের ওপর ৫০% শুল্ক বসিয়েও কেন সুবিধা করতে পারছেন না ট্রাম্প?
ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ওপর চাপ
পিক্স প্রযুক্তি পেমেন্ট ব্যবস্থার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লেনদেনের জন্য প্রায় দুই শতাংশ ফি দিতে হতো। পিক্স আসার পর সেই খরচ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এতে করে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মুনাফায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এর সুবিধা পাচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক ও ছোট ব্যবসায়ীরা।
রাজনীতি ও পিক্সের জনপ্রিয়তা
ট্রাম্পের এই আক্রমণের কারণে ব্রাজিলের রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। পিক্সকে রক্ষার মাধ্যমে লুলার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘পিক্স আমাদের’" (Pix is ours) প্রচারণা ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের এই বিরোধিতার ফলে ব্রাজিলীয়দের কাছে পিক্সের আবেদন ও জাতীয় গর্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
কেএএ/
What's Your Reaction?
