বড় কোনো ডিগ্রি নেই, তবু জীবনের মঞ্চে সফল যেসব তারকা

পরীক্ষার খাতায় পাওয়া নম্বরই কি জীবনের সাফল্যের শেষ মাপকাঠি? উত্তরটা যে ‘না’, তা প্রমাণ করেছেন বিশ্বের অসংখ্য সফল মানুষ। বিনোদন জগতেও এমন অনেক তারকা আছেন, যাঁদের শিক্ষাজীবন খুব বেশি দূর এগোয়নি, কেউ স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি, কেউ আবার কলেজের পড়া শেষ করেননি। অথচ পরবর্তী সময়ে তারাই হয়ে উঠেছেন বিশ্বখ্যাত অভিনেতা, নির্মাতা কিংবা বিনোদন জগতের আইকন। তবে তাদের গল্পকে ‘পড়াশোনায় ব্যর্থতার সাফল্য’ হিসেবে দেখার চেয়ে বলা যায়- একাডেমিক পথ তাদের জন্য শেষ পর্যন্ত সাফল্যের একমাত্র পথ ছিল না। প্রতিভা, পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নিজের পছন্দের ক্ষেত্রকে বেছে নেওয়ার সাহসই তাঁদের পৌঁছে দিয়েছে খ্যাতির শিখরে। আরও পড়ুন এসএসসিতে জিপিএ কত পেয়েছিলেন দীঘি ও পূজা? জনি ডেপ: ১৫ বছরেই স্কুল ছাড়েনহলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা জনি ডেপের শিক্ষাজীবন খুব বেশি দূর এগোয়নি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে দেন তিনি। তখন তার স্বপ্ন ছিল সংগীতশিল্পী হওয়া। পরবর্তী সময়ে অভিনয় জগতে প্রবেশ করে ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’, ‘এডওয়ার্ড সিজরহ্যান্ডস’সহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তারকা খ্যাতি পান ডেপ। স্কুলের পড়া শেষ না করেও যে

বড় কোনো ডিগ্রি নেই, তবু জীবনের মঞ্চে সফল যেসব তারকা

পরীক্ষার খাতায় পাওয়া নম্বরই কি জীবনের সাফল্যের শেষ মাপকাঠি? উত্তরটা যে ‘না’, তা প্রমাণ করেছেন বিশ্বের অসংখ্য সফল মানুষ। বিনোদন জগতেও এমন অনেক তারকা আছেন, যাঁদের শিক্ষাজীবন খুব বেশি দূর এগোয়নি, কেউ স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি, কেউ আবার কলেজের পড়া শেষ করেননি। অথচ পরবর্তী সময়ে তারাই হয়ে উঠেছেন বিশ্বখ্যাত অভিনেতা, নির্মাতা কিংবা বিনোদন জগতের আইকন।

তবে তাদের গল্পকে ‘পড়াশোনায় ব্যর্থতার সাফল্য’ হিসেবে দেখার চেয়ে বলা যায়- একাডেমিক পথ তাদের জন্য শেষ পর্যন্ত সাফল্যের একমাত্র পথ ছিল না। প্রতিভা, পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নিজের পছন্দের ক্ষেত্রকে বেছে নেওয়ার সাহসই তাঁদের পৌঁছে দিয়েছে খ্যাতির শিখরে।

জনি ডেপ: ১৫ বছরেই স্কুল ছাড়েন
হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা জনি ডেপের শিক্ষাজীবন খুব বেশি দূর এগোয়নি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে দেন তিনি। তখন তার স্বপ্ন ছিল সংগীতশিল্পী হওয়া। পরবর্তী সময়ে অভিনয় জগতে প্রবেশ করে ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’, ‘এডওয়ার্ড সিজরহ্যান্ডস’সহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তারকা খ্যাতি পান ডেপ।

স্কুলের পড়া শেষ না করেও যে আন্তর্জাতিক তারকা হওয়া সম্ভব, ডেপের ক্যারিয়ার তার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ।

জিম ক্যারি: স্কুল ছাড়লেও থামেনি স্বপ্ন
হলিউডের কমেডি কিং হিসেবে পরিচিত জিম ক্যারিও স্কুলের পড়া শেষ করতে পারেননি। কৈশোরেই পারিবারিক ও আর্থিক নানা সংকটের মুখোমুখি হন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্কুল ছেড়ে কাজ শুরু করতে হয় তাকে।


জিম ক্যারি এক সাফল্যে মুড়ানো অভিনেতার নাম

কিন্তু সেই কঠিন সময় তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। স্ট্যান্ডআপ কমেডি থেকে অভিনয়ে এসে ‘দ্য মাস্ক’, ‘ডাম্ব এন্ড ডাম্বার’, ‘দ্য ট্রুম্যান শো’সহ একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করেন ক্যারি। স্কুলের গণ্ডি শেষ না করেও তিনি হয়ে ওঠেন হলিউডের সবচেয়ে পরিচিত কমেডি অভিনেতাদের একজন।

রাসেল ক্রো: পড়াশোনার বদলে অভিনয়ের পথে
অস্কারজয়ী অভিনেতা রাসেল ক্রোও কৈশোরেই স্কুল ছেড়ে শোবিজে মনোযোগ দেন। অস্ট্রেলিয়ায় শিশুশিল্পী হিসেবে টেলিভিশনে কাজ করার পর অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘গ্লাডিয়েটর’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে অস্কার জেতেন ক্রো। আজ তিনি হলিউডের অন্যতম সম্মানিত অভিনেতা।

মাইকেল কেইন: ১৫ বছরেই স্কুল শেষ
দুইবারের অস্কারজয়ী ব্রিটিশ অভিনেতা মাইকেল কেইনও মাত্র ১৫ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে কাজে যোগ দেন। পরে সামরিক জীবন পার করে অভিনয়ে আসেন তিনি। শিক্ষাজীবন খুব অল্প বয়সেই শেষ হয়ে গেলেও অভিনয়ের জগতে তাঁর পথ ছিল দীর্ঘ ও সফল। কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে কিংবদন্তি অভিনেতাদের কাতারে নিয়ে যান তিনি।

নিকোল কিডম্যান: অভিনয়ের জন্য পড়াশোনায় বিরতি
অস্কারজয়ী অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যানও প্রচলিত শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই অভিনয়ের দিকে পুরোপুরি মনোযোগ দেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্কুল ছাড়ার পর অল্প বয়সেই মঞ্চ ও অভিনয়ের জগতে পেশাগতভাবে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘দ্য হর্স’, ‘মুলাঁ রুজ!’সহ বহু প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন কিডম্যান।

সিলভেস্টার স্ট্যালোন: অসম্পূর্ণ পড়াশোনা, পূর্ণ সফলতা
‘রকি’ ও ‘র‌্যাম্বো’খ্যাত সিলভেস্টার স্ট্যালোনের শিক্ষাজীবনও ছিল খানিকটা ব্যতিক্রমী। তিনি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন এবং পরে মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্য বিষয়ে পড়েন। তবে ডিগ্রি সম্পন্ন না করেই অভিনয়ের জগতে পা রাখেন। মজার বিষয় হলো, বহু বছর পর ১৯৯৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় তার অভিনয় ও জীবনের অভিজ্ঞতাকে একাডেমিক ক্রেডিট হিসেবে গ্রহণ করে তাকে স্নাতক ডিগ্রি দেয়। অর্থাৎ যে পড়াশোনা একসময় অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটিও পূর্ণতা পায়।


সিলভার স্ট্যালোন আজও সুপারস্টার

আমির খান: পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলা ও সিনেমায় ঝোঁক
বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানকে আজ কেউ একাডেমিক ব্যর্থতার সঙ্গে ভাববেন না। তবে ছাত্রজীবনে পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলা ও অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল বেশি। তিনি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন এবং পরে কলেজে ভর্তি হলেও দুই বছর পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন। এরপর চলচ্চিত্র নির্মাণ ও অভিনয়কেই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন। যে মানুষটি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শেষ করেননি, তিনিই পরবর্তী সময়ে ‘লাগান’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘দঙ্গল’-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেন।

সালমান খান: পড়াশোনা শেষ হয়নি, তারকা খ্যাতি আকাশছোঁয়া
বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খানও কলেজের পড়া শেষ করেননি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পর তিনি মুম্বাইয়ের ন্যাশনাল কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কলেজের পড়া আর এগোয়নি। পড়াশোনা শেষ না করলেও অভিনয়ের জগতে তার সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন নেই। কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে ভারতের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠেছেন সালমান।

অক্ষয় কুমার: কলেজ ছেড়ে মার্শাল আর্ট, পরে বলিউড
অক্ষয় কুমারের গল্পটা আরও আলাদা। মুম্বাইয়ের ডন বস্কো স্কুলে পড়াশোনার পর কলেজে ভর্তি হলেও তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন দীর্ঘ হয়নি। পরে ব্যাংককে মার্শাল আর্ট শেখার জন্য চলে যান। সেই মার্শাল আর্টের দক্ষতাই পরবর্তী সময়ে তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে বড় ভূমিকা রাখে। অ্যাকশন হিরো হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর ধীরে ধীরে কমেডি, সামাজিক ও ঐতিহাসিক নানা ধরনের চরিত্রেও নিজেকে প্রমাণ করেন অক্ষয়।


বলিউডে দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন অক্ষয় কুমার

রণবীর কাপুর: স্কুল পাস, কলেজে আর যাওয়া হয়নি
কাপুর পরিবারের অনেকের মতো রণবীর কাপুরও ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের আবহে বড় হয়েছেন। তিনি দশম শ্রেণি পাস করলেও এরপর কলেজে ভর্তি হননি। পড়াশোনা থেমে গেলেও অভিনয়ে তার যাত্রা থামেনি। ‘রকস্টার’, ‘বরফি’, ‘সাঞ্জু’, ‘অ্যানিমেল’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে তিনি বলিউডের শীর্ষ অভিনেতাদের একজন হয়ে উঠেছেন।

ঢাকাই শোবিজ: সাফল্যের পথ সবার এক নয়
বাংলাদেশের শোবিজেও অনেক তারকা আছেন, যাদের ক্যারিয়ার প্রচলিত শিক্ষাজীবনের পথে এগোয়নি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় রাজ্জাক, শাবানা, ববিতা, কবরী, রোজিনা, ফারুক, সালমান শাহ, শাবনূর, মৌসুমী, শাকিব খানদের নাম। সংগীতাঙ্গনেও অনেকে আছেন যারা একাডেমিক শিক্ষায় নিজেদের ততোটা আলোকিত করতে পারেননি। তবে ব্যক্তি জীবনে সাফল্যের আকাশ ছুঁয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখ করা যায় রুনা লায়লা, কনক চাঁপা, জেমসসহ আরও অনেক সুপারস্টারদের নাম। যারা একাডেমিক শিক্ষায় চূড়ান্ত সাফল্য না পেলেও নিজেদের মেধার বিকাশে আলোকিত করেছেন নিজের ও দেশের নাম।


একাডেমিক বড় কোনো ডিগ্রি ছাড়াই ঢাকাই সিনেমার নায়করাজ হয়েছেন রাজ্জাক

পরীক্ষার খাতায় একটি সংখ্যা, একটি গ্রেড বা একটি সার্টিফিকেট মানুষের সামর্থ্যের পুরোটা বলে দিতে পারে না। জনি ডেপ, জিম ক্যারি, রাসেল ক্রো, মাইকেল কেইন থেকে আমির খান, সালমান খান, অক্ষয় কুমার কিংবা রুনা লায়লা, শাকিব খানেরা তারই প্রমাণ। মানুষের জীবনে জরুরি সুশিক্ষা। সেটা অর্জন হলেই সাফল্যের স্বাদ মেলে।

 

এলআইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow