ভবন ছাড়তে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে উকিল নোটিশ

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) অস্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে বাড়িওয়ালা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ এবং তিন মাসের ভাড়া বকেয়া থাকা সত্ত্বেও ভবন খালি না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একাধিকবার উকিল নোটিশ দিয়েছেন বাড়ির মালিক। চাঁদপুর সদর উপজেলার খলিশাডুলী ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের হোল্ডিং নম্বর ০৯৩৭-০২ সংযুক্ত ভবনটির মালিক জাকির হোসেন, যিনি একজন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তিনি জানান, সাবেক উপাচার্য নাছিম আখতারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে করা চুক্তিনামার মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ৪ হাজার ৫০০ বর্গফুট আয়তনের ভবনটির একটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং অপর একটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় নভেম্বর ২০২৫। সে অনুযায়ী একটি চুক্তিতে দুই মাস এবং অপরটিতে এক মাসসহ মোট তিন মাসের ভাড়া এখনো বকেয়া রয়েছে। জাকির হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার গিয়েছি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কিন্তু প্রতিবারই আজ নয় কাল, এই অজুহাত শুনতে হয়েছে। কখনো বলা হয় ফান্ড নেই, কখনো বাজেট হয়নি, আবার কখনো সাবেক ভিসির সময় ইউজিসির সঙ্গে

ভবন ছাড়তে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে উকিল নোটিশ

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) অস্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে বাড়িওয়ালা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ এবং তিন মাসের ভাড়া বকেয়া থাকা সত্ত্বেও ভবন খালি না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একাধিকবার উকিল নোটিশ দিয়েছেন বাড়ির মালিক।

চাঁদপুর সদর উপজেলার খলিশাডুলী ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের হোল্ডিং নম্বর ০৯৩৭-০২ সংযুক্ত ভবনটির মালিক জাকির হোসেন, যিনি একজন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তিনি জানান, সাবেক উপাচার্য নাছিম আখতারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে করা চুক্তিনামার মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ৪ হাজার ৫০০ বর্গফুট আয়তনের ভবনটির একটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং অপর একটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় নভেম্বর ২০২৫। সে অনুযায়ী একটি চুক্তিতে দুই মাস এবং অপরটিতে এক মাসসহ মোট তিন মাসের ভাড়া এখনো বকেয়া রয়েছে।

জাকির হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার গিয়েছি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কিন্তু প্রতিবারই আজ নয় কাল, এই অজুহাত শুনতে হয়েছে। কখনো বলা হয় ফান্ড নেই, কখনো বাজেট হয়নি, আবার কখনো সাবেক ভিসির সময় ইউজিসির সঙ্গে কী চুক্তি হয়েছে তা দেখার কথা বলা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. পেয়ার আহমেদ ও রেজিস্ট্রার মামুন উভয়কেই একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি।

জাকির হোসেন আরও জানান, চুক্তিপত্র অনুযায়ী ভবন ছাড়তে হলে অন্তত তিন মাস আগে অবহিত করার শর্ত রয়েছে। এছাড়া সাবেক উপাচার্য নাছিম আখতারের অনুরোধে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে তিনি ভবনের ওপর আরও দুইটি ফ্লোর নির্মাণ করেন। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তখন আমিও তেমন চাপ দেইনি। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন ভিসি দায়িত্ব নিলে আমি চুক্তি অনুযায়ী কথা বলতে গেলে আর কোনো গুরুত্ব পাইনি।

সাবেক ভিসির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও করেছেন জাকির হোসেন। সেসব কাজের বিল চাইতে গিয়ে তিনি পড়েছেন নানা জটিলতায়। পাশাপাশি ভবনের উপরের দুই ফ্লোরে এখনও ছাদ ছাড়া অন্য সব কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এতো বড় ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য লিফটের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি নিজ খরচের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেখানেও কোনো সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কোনো সমাধান না পেয়ে প্রথমে নিজে গিয়ে লিখিত নোটিশ দেন ভবন খালি করার জন্য। এরপরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি মোট দু’বার উকিল নোটিশ পাঠান। কিন্তু তাতেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবন ছাড়েনি বলে অভিযোগ তার। তবে বাড়ির মালিক জাকির হোসেন স্পষ্টভাবে জানান, আমি এখন আর তাদের কাছে বাড়ি ভাড়া দিতে আগ্রহী নই। তারা অন্য কোথাও ভবন খুঁজে নিক। বহুবার সময় দিয়েছি, আর সম্ভব না।

এ বিষয়ে চাঁবিপ্রবির রেজিস্ট্রার মামুন বলেন, ভিসি স্যারের অনুমতি ছাড়া আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বিস্তারিত জানতে হলে তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।

পরবর্তীতে কথা হয় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. পেয়ার আহমেদের সঙ্গে।

তিনি জানান, আমরা গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেছি, আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আবার সিন্ডিকেট সভা হবে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো।

ভাড়া বকেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের ভাড়া আমরা দেবো। জানুয়ারি মাস তো এখনো রানিং। তবে তিনি যে হিসেব অনুযায়ী টাকা দাবি করছেন, সে হিসাবে আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow