উপহার পেতে ভালো লাগে না—এমন মানুষ খুব কমই আছে। জন্মদিন হোক কিংবা অন্য কোনো উপলক্ষ, উপহার মানেই আনন্দ। কিন্তু অনেকেই জানেন না, কার কাছ থেকে উপহার পেলে কর দিতে হয় আর কার কাছ থেকে পেলে করের ঝামেলা নেই। উপহার গ্রহণ বা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন সম্পর্কগুলো করমুক্ত আর কোনগুলো করের আওতায় পড়ে—এ বিষয়টি জানা থাকাও জরুরি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উপহার বা দানের ওপর কর আরোপের বিধানে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই সংশোধনের ফলে কোন ক্ষেত্রে উপহার করের আওতায় পড়বে আর কোন ক্ষেত্রে কর দিতে হবে না—তা জানা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যাদের উপহার পেলে কর বসবে না
উপহার বা দানের ক্ষেত্রে চার ধরনের পারিবারিক সম্পর্কে কোনো কর আরোপ হবে না। দাতা ও গ্রহীতা—দুজনকেই কর দিতে হবে না। এসব ক্ষেত্রে নির্বিঘ্নে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে। করমুক্ত এই চার সম্পর্ক হলো—স্বামী-স্ত্রী, মাতা-পিতা, ছেলে-মেয়ে এবং ভাই-বোন।
এর আগে স্বামী-স্ত্রী, মাতা-পিতা ও সন্তানের মধ্যে দান বা উপহার করমুক্ত থাকলেও চলতি অর্থবছর থেকে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আপন ভাই ও বোন। ফলে এখন সহোদর ভাই-বোনের মধ্যে টাকা বা সম্পদ উপহার দিলে তা আয়করের আওতায় পড়বে না।
এই স্পষ্টীকরণে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও স্বস্তি পাবেন। অনেক প্রবাসী কর্মী রেমিট্যান্সের অর্থ বা মূল্যবান উপহার ভাই-বোনের ব্যাংক হিসাবে পাঠান। রেমিট্যান্স করমুক্ত হলেও ভাই-বোনকে দেওয়া অর্থের করসংক্রান্ত বিষয়টি এতদিন পরিষ্কার ছিল না। নতুন সিদ্ধান্তে সেই বিভ্রান্তির অবসান হলো।
তবে আয়কর আইন অনুযায়ী, পাঁচ লাখ টাকার বেশি যেকোনো আর্থিক লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
এ ছাড়া শুধু নগদ অর্থ নয়, পারিবারিক জমি, ফ্ল্যাটসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দান বা উপহার দেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হবে। কারণ করমুক্ত দানের আওতায় এসব সম্পত্তির হস্তান্তরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আপনি কি জানেন কিভাবে রিটার্নে দেখাবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
বিষয়টি সহজ করে বলা যায়—ধরা যাক, আপনার ভাই আপনাকে উপহার হিসেবে দুই লাখ টাকা দিলেন এবং আপনি তা বছরের শেষে আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করলেন। এই অর্থের ওপর কোনো কর আরোপ হবে না। একইভাবে, যিনি উপহার দিচ্ছেন অর্থাৎ আপনার ভাইকেও তার আয়কর নথিতে ওই দান বা উপহারের তথ্য উল্লেখ করতে হবে।
তবে যাদের উপহারে কর দিতে হবে
শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে টাকা, গয়না কিংবা জমি–ফ্ল্যাট উপহার হিসেবে পেলে তা করযোগ্য হবে। কারণ করমুক্ত দান বা উপহারের তালিকায় শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালক-শ্যালিকা বা শ্বশুরবাড়ির অন্য আত্মীয়দের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে তাদের কাছ থেকে পাওয়া যেকোনো আর্থিক বা স্থাবর-অস্থাবর উপহার আয় হিসেবে গণ্য হয়ে করের আওতায় পড়বে।
সংক্ষেপে বলা যায়, শুধু স্বামী-স্ত্রী, মাতা-পিতা, সন্তান ও আপন ভাই-বোন—এই চার ধরনের সম্পর্কের বাইরে অন্য যে কারও কাছ থেকে উপহার পেলে তাতে কর দিতে হবে।
এ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, অনেকে কর নথিতে শ্বশুরবাড়ি থেকে উপহার দেখিয়ে সম্পদের উৎস ব্যাখ্যা করেন, অথচ যিনি উপহার দেন তিনি তার রিটার্নে সেই হস্তান্তরের তথ্য উল্লেখ করেন না। এতে অবৈধ আয়ের অর্থ বৈধ দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়। এসব অনিয়ম ঠেকাতেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে—কারা দান বা উপহার দিলে করমুক্ত থাকবে আর কোন ক্ষেত্রে তা করযোগ্য হবে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে রিটার্ন দেখাবেন
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, মা–বাবা, ভাই–বোন ও স্ত্রী–সন্তান ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে উপহার পাওয়া হলে তা বছর শেষে আয়কর রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে যিনি উপহার দিচ্ছেন, তাকেও তাঁর আয়কর নথিতে ওই উপহার দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করতে হবে।