ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলা, ক্ষোভে মার্কিন কূটনীতিককে তলব দিল্লির
ওমান উপকূলের কাছে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক বহনকারী একটি জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করেছে ভারত। মঙ্গলবারের (৯ জুন) ওই হামলার পর তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন জেসন মিকসকে তলব করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় ইরানি তেল বহনকারী ‘সেত্তেবেলো’ নামের একটি জাহাজ ওমান উপসাগর অতিক্রম করার সময় তারা একটি ‘নির্ভুল’ হামলা চালায়। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটির ক্রুরা মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি জানিয়েছে, জাহাজটি ছিল একটি রাসায়নিক ও তেলপণ্যবাহী ট্যাংকার। এটি ওমানের সোহার বন্দরের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৩৭ কিলোমিটার) দূরে অবস্থানকালে ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগার খবর দেয়। ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, সেত্তেবেলোর পাঠানো বিপদসংকেতের
ওমান উপকূলের কাছে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক বহনকারী একটি জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করেছে ভারত। মঙ্গলবারের (৯ জুন) ওই হামলার পর তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন জেসন মিকসকে তলব করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় ইরানি তেল বহনকারী ‘সেত্তেবেলো’ নামের একটি জাহাজ ওমান উপসাগর অতিক্রম করার সময় তারা একটি ‘নির্ভুল’ হামলা চালায়। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটির ক্রুরা মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি জানিয়েছে, জাহাজটি ছিল একটি রাসায়নিক ও তেলপণ্যবাহী ট্যাংকার। এটি ওমানের সোহার বন্দরের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৩৭ কিলোমিটার) দূরে অবস্থানকালে ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগার খবর দেয়।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, সেত্তেবেলোর পাঠানো বিপদসংকেতের জবাবে ওমানের নৌবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২১ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে ও অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওমানে আমাদের দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং চলমান অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করছে। অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।
জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অরগানাইজেশন -এর মহাসচিব আরসেনিও ডমিংগেজ বুধবার এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে কোনো পক্ষের এমন কর্মকাণ্ড, যা নাবিকদের জীবন ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, তা নিন্দনীয়।
তিনি আরও বলেন, এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমার চিন্তা এখন নিখোঁজ তিন নাবিকের পরিবারের সঙ্গে ও সেই সব মানুষের সঙ্গে, যারা ক্রুদের খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে, এই ঘটনা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে ঘিরে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের মিত্রদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে এটি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচু অবস্থানে রয়েছে।
বিরোধীদের চাপের মুখে ভারত সরকার
এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী দলের চাপের মুখে পড়ে। এর আগে চলতি সপ্তাহে ভারতীয় নাবিক বহনকারী আরেকটি জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনায় ভারত সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়নি। সে কারণে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়ে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত আরও দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে এসব হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের নির্দেশ দেন। তার লক্ষ্য ছিল তেহরানকে এমন একটি চুক্তিতে রাজি করানো, যা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার জন্য ওয়াশিংটনের নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে নিতে বাধ্য করবে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই অবরোধ ইরানের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের দাবির কাছে নতি স্বীকার করার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা
এসএএইচ
What's Your Reaction?