ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে হাইকমিশনের বর্ণাঢ্য আয়োজন

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকায় ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করেছে হাইকমিশন। গতকাল শনিবার হোটেল র‌্যাডিসনে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনীতিক, কূটনীতিক, সাংবাদিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের গণমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রজাতন্ত্র দিবসের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও তার স্ত্রী মানু ভার্মা আগত অতিথিদের স্বাগত জানান। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা প্রমু

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে হাইকমিশনের বর্ণাঢ্য আয়োজন

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকায় ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করেছে হাইকমিশন। গতকাল শনিবার হোটেল র‌্যাডিসনে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনীতিক, কূটনীতিক, সাংবাদিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের গণমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান মিলনমেলায় পরিণত হয়।

প্রজাতন্ত্র দিবসের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও তার স্ত্রী মানু ভার্মা আগত অতিথিদের স্বাগত জানান।

রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা প্রমুখ। এ ছাড়া আরও অনেক রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ভারতের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ আরও অনেক দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।  

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার ও সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।
অনুষ্ঠানে ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত একে অন্যকে এবং এই অঞ্চলকে অনেক কিছু দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

তিনি বলেন, ‘অগ্রসরমান সমাজ হিসেবে আমরা যখন একসঙ্গে কাজ করি, তখন আমরা আমাদের ভৌগোলিক নৈকট্যকে নতুন সুযোগে রূপান্তর করার মাধ্যমে একে অপরকে ও আমাদের অঞ্চলকে অনেক কিছু দিতে পারি।’

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, আমাদের অংশীদারত্ব কীভাবে উভয়পক্ষের জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুবিধা বয়ে আনে, সেটার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব সাফল্য আরও দূরদর্শী ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারষ্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রেরণা জোগায়।
তিনি বলেন, এই সহযোগিতা গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও অংশীদারত্বের প্রতি দুই দেশের যৌথ আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে।
প্রণয় ভার্মা বলেন, আজ তরুণ, দক্ষ ও উদ্ভাবনী জনগোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক, একে অপরের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির সহায়ক।

দুই দেশে দৃঢ় আঞ্চলিক সংহতির ভিত্তি হয়ে উঠতে সক্ষম মন্তব্য করে তিনি বলেন, একসঙ্গে আমরা আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও জ্বালানি করিডোর বিনির্মাণ করতে পারি, যা আমাদের উভয় অর্থনীতির উন্নতি ঘটাবে।

তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে, আমাদের অঞ্চলের জ্বালানির ভবিষ্যৎ হবে পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। একসঙ্গে আমরা আমাদের অভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের জন্য পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলা করার জন্য কাজ করতে পারি।
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের সুযোগে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ‘দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের মূল্য’ পুনর্ব্যক্ত করে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের জনগণের জন্য তাদের আগামীর যাত্রায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করছি। আমরা একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছি এবং সেটা অব্যাহত রাখব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow