ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কমে অর্ধেক
ভারতের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। নতুন বাজেটে বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে ৬০ কোটি রুপি, যা আগের অর্থবছরের ১২০ কোটি রুপির তুলনায় অর্ধেক। ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে টানাপোড়েন এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানমুখী ঝোঁকের প্রেক্ষাপটেই এই বরাদ্দ কমানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যসভাকে জানায়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ সরকার ‘নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় পর্যায়েই একাধিকবার বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে ভারত। ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বিষয়টি উত্থাপন করেন। অন্যদিকে, বর্তমান প্রশাসনের আমলে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন গতি পাচ্ছে। ২০২৪ সালে মিশরে এক সম্মেলনের
ভারতের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। নতুন বাজেটে বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে ৬০ কোটি রুপি, যা আগের অর্থবছরের ১২০ কোটি রুপির তুলনায় অর্ধেক।
ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে টানাপোড়েন এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানমুখী ঝোঁকের প্রেক্ষাপটেই এই বরাদ্দ কমানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যসভাকে জানায়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ সরকার ‘নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় পর্যায়েই একাধিকবার বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে ভারত। ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বিষয়টি উত্থাপন করেন।
অন্যদিকে, বর্তমান প্রশাসনের আমলে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন গতি পাচ্ছে। ২০২৪ সালে মিশরে এক সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তখন তিনি ১৯৭১ সাল সংশ্লিষ্ট অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেন। শাহবাজ শরীফ বৈঠকটিকে ‘উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন।
এরপর দুই দেশ কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশে সম্মত হয়। পাশাপাশি যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন (জেইসি) পুনরুজ্জীবন এবং নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা ও ইসলামাবাদ। বাংলাদেশ–পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০০৫ সালে।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কার্গো জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের ফ্লাই জিন্নাহ ও এয়ার সিয়ালকে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ১৪ বছর পর ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইট করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন ভারতীয় বিশ্লেষকরা।
অন্য দেশগুলোর জন্য কত বরাদ্দ?
এবারের বাজেটে ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখেনি ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও চাবাহার প্রকল্পে ভারতের জন্য ছয় মাসের ছাড় দিয়েছিল ওয়াশিংটন, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৬ এপ্রিল।
ভারতের বৈদেশিক সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ পাচ্ছে ভুটান। দেশটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ২৮৯ কোটি রুপি, যা আগের অর্থবছরের ২ হাজার ১৫০ কোটি রুপির চেয়ে বেশি।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পার্লামেন্টে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। এটি তার উপস্থাপিত নবম বাজেট।
সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/
What's Your Reaction?