ভারতের ভিসা আবেদনে দুর্ভোগ কেন, একটা ভালো ওয়েবসাইটও কি বানাতে পারে না?

  অনলাইনে ভারতের ভিসার জন্য আবেদন করতে গেছেন কখনো? যদি গিয়ে থাকেন, তবে হয়তো এক চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ল্যাপটপ নিয়ে ভারতীয় ভিসার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ঢুকলে মনে হবে আপনি ১৯৯৯ সালের কোনো ওয়েব পেজে চলে গেছেন। অথচ ভারত এখন বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাতের অন্যতম পরাশক্তি। এই সমস্যা শুধু বিদেশিদের জন্য নয়। ভারতের নাগরিকদের জন্য তৈরি রেলের টিকিট, ভোটার নিবন্ধন বা আয়কর জমার ওয়েবসাইটগুলোর অবস্থাও একই রকম। এসব সাইটে পপ-আপ, ঝাঁকুনি দেওয়া টেক্সট, নানারকম ফ্ল্যাশিং গ্রাফিক্স আর মন্ত্রীদের ছবির মেলা বসে। সঙ্গে থাকে প্রাচীন আমলের ক্যাপচা, যা এখন রোবট আটকাতে না পারলেও মানুষকে ঠিকই ভোগান্তিতে ফেলে। কেন এই আদিম দশা? বর্তমানে ২০২৬ সাল চললেও ভারতের সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর নকশায় আধুনিকতার ছোঁয়া নেই। এর মূল কারণ হলো, কাগজের ফাইলপত্রের কাজকে ডিজিটাল করার মানসিকতা। পুরো প্রক্রিয়াটিকে ব্যবহারকারী-বান্ধব বা ইউজার এক্সপেরিয়েন্স (ইউএক্স) দেওয়ার চিন্তা করা হয় না। ২০২৩ সালের আগে সরকারি নির্দেশনায় ইউএক্স শব্দটিই যুক্ত করা হয়নি। আরও পড়ুন দুই বছর পর চালু হচ্ছে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা ভারতের এই সর

ভারতের ভিসা আবেদনে দুর্ভোগ কেন, একটা ভালো ওয়েবসাইটও কি বানাতে পারে না?

 

অনলাইনে ভারতের ভিসার জন্য আবেদন করতে গেছেন কখনো? যদি গিয়ে থাকেন, তবে হয়তো এক চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ল্যাপটপ নিয়ে ভারতীয় ভিসার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ঢুকলে মনে হবে আপনি ১৯৯৯ সালের কোনো ওয়েব পেজে চলে গেছেন। অথচ ভারত এখন বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাতের অন্যতম পরাশক্তি।

এই সমস্যা শুধু বিদেশিদের জন্য নয়। ভারতের নাগরিকদের জন্য তৈরি রেলের টিকিট, ভোটার নিবন্ধন বা আয়কর জমার ওয়েবসাইটগুলোর অবস্থাও একই রকম। এসব সাইটে পপ-আপ, ঝাঁকুনি দেওয়া টেক্সট, নানারকম ফ্ল্যাশিং গ্রাফিক্স আর মন্ত্রীদের ছবির মেলা বসে। সঙ্গে থাকে প্রাচীন আমলের ক্যাপচা, যা এখন রোবট আটকাতে না পারলেও মানুষকে ঠিকই ভোগান্তিতে ফেলে।

কেন এই আদিম দশা?

বর্তমানে ২০২৬ সাল চললেও ভারতের সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর নকশায় আধুনিকতার ছোঁয়া নেই। এর মূল কারণ হলো, কাগজের ফাইলপত্রের কাজকে ডিজিটাল করার মানসিকতা। পুরো প্রক্রিয়াটিকে ব্যবহারকারী-বান্ধব বা ইউজার এক্সপেরিয়েন্স (ইউএক্স) দেওয়ার চিন্তা করা হয় না। ২০২৩ সালের আগে সরকারি নির্দেশনায় ইউএক্স শব্দটিই যুক্ত করা হয়নি।

ভারতের এই সরকারি ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করে ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার বা এনআইসি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে যখন সাইটে অপ্রয়োজনীয় ফিচার যুক্ত করার চাপ আসে, এনআইসি তা রুখতে পারে না। ফলে কাজের জিনিস বাদ দিয়ে সাইটগুলো অপ্রয়োজনীয় তথ্যে ভরে যায়।

বেসরকারি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা

বড় প্রকল্পের জন্য সরকারের আগ্রহ এখন বেসরকারি খাতের দিকে। কিন্তু সমস্যা হলো, এসব কেনাকাটার দায়িত্বে থাকা আমলাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকে না। তারা নামী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং নামকরা আইটি কোম্পানিকে কাজ দেয়। কিন্তু নিজেরা এর ভেতরের কারিগরি দিক বোঝে না।

মুম্বাইয়ের থিংক-ট্যাংক এক্সকেডিআরের বিশেষজ্ঞ সুসান থমাস তার সাম্প্রতিক গবেষণায় বলেছেন, সরকার কোনো ব্যবস্থা কিনে নেয় ঠিকই, কিন্তু নিজেরা না বোঝার কারণে পরে তা পরিচালনা করতে পারে না। ফলে একটি কৌশলগত সম্পদ শেষ পর্যন্ত ব্যয়বহুল ও অকেজো বোঝায় পরিণত হয়।

আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও ব্যর্থতা

সরকারি ওয়েবসাইটের এই দুর্দশার আসল কারণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি। আমলারা সবসময় ঝুঁকি এড়াতে চান। দুর্নীতি দমন সংস্থার ভয়ে তারা সবচেয়ে কম দরদাতাকে কাজ বুঝিয়ে দেন। কোনো আমলা যদি ঝুঁকি নিয়ে দারুণ কাজও করেন, তার জন্য কোনো পুরস্কার নেই। আবার ভুল পদ্ধতিতে খারাপ কাজ করলেও শাস্তি পেতে হয় না। সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার তথ্য ফাঁসের ঘটনার পরও দায়ী কর্মকর্তাকে কেবল অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

আধার কার্ডের সাফল্য কেন আলাদা?

ভারত তাদের ‘আধার কার্ড’ বা বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র ব্যবস্থা নিয়ে বেশ গর্বিত। এটি কিন্তু সফল হয়েছিল ভিন্ন কারণে। ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানি যখন এই প্রকল্পের দায়িত্ব নেন, তিনি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা চেয়েছিলেন। সেই ক্ষমতার কারণে তিনি ঝুঁকি নিতে পেরেছিলেন এবং সিলিকন ভ্যালির দক্ষ প্রকৌশলীদের নিয়োগ দিতে পেরেছিলেন।

ভারত আধার প্রকল্প থেকে শিক্ষা নেয়নি। প্রতিভাবান তরুণদের দেশপ্রেম বা ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে সরকারি আইটি খাতে আনা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য দরকার কাজের পরিবেশ। ভারতের আইটি খাতের নিয়মগুলো বদলানোর চেয়ে বড় প্রয়োজন আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিবর্তন।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow