ভালুকায় চিকিৎসা সংকট, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

ময়মনসিংহের ভালুকা দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পাঞ্চল। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই এলাকায় বর্তমানে দুই শতাধিক গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, ওষুধ শিল্প, সিরামিক এবং ভারী মোটরসাইকেল তৈরির কারখানা রয়েছে। পাশাপাশি এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিসিক শিল্প নগরী হিসেবেও পরিচিত। কয়েক লক্ষ মানুষের বসবাস এই শিল্পাঞ্চলে। কিন্তু বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা দিতে রয়েছে মাত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে এসে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। ২০০৭ সালে এখানে একটি ট্রমা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেটি এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে দুর্ঘটনাসহ জরুরি রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাওয়া নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নানা সংকট ও অনিয়মে জর্জরিত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখাতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় টেস্ট করা যায় না এবং হাসপাতাল থেকে সব ধরনের ওষুধও পাওয়া যায় না। বাটগাঁও এলাকার বুলবুল বেগম গলায় কাটা আটকে যাওয়ার সমস্যায় হাসপাতালে এসে জানান, দুই দিন ধ

ভালুকায় চিকিৎসা সংকট, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

ময়মনসিংহের ভালুকা দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পাঞ্চল। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই এলাকায় বর্তমানে দুই শতাধিক গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, ওষুধ শিল্প, সিরামিক এবং ভারী মোটরসাইকেল তৈরির কারখানা রয়েছে। পাশাপাশি এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিসিক শিল্প নগরী হিসেবেও পরিচিত।

কয়েক লক্ষ মানুষের বসবাস এই শিল্পাঞ্চলে। কিন্তু বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা দিতে রয়েছে মাত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে এসে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

২০০৭ সালে এখানে একটি ট্রমা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেটি এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে দুর্ঘটনাসহ জরুরি রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাওয়া নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নানা সংকট ও অনিয়মে জর্জরিত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখাতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় টেস্ট করা যায় না এবং হাসপাতাল থেকে সব ধরনের ওষুধও পাওয়া যায় না।

বাটগাঁও এলাকার বুলবুল বেগম গলায় কাটা আটকে যাওয়ার সমস্যায় হাসপাতালে এসে জানান, দুই দিন ধরে ডাক্তার দেখাতে এসেও সেবা পাননি। তিনি বলেন, ‘ডাক্তার বলছে এখানে মেশিন নাই, ময়মনসিংহ যেতে হবে।’

মেজরভিটা এলাকার আকলিমা শরীরে চুলকানির সমস্যায় চিকিৎসা নিতে এসে জানান, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখালেও হাসপাতাল থেকে সব ওষুধ পাননি।

মাস্টারবাড়ি এলাকার আব্দুল বারেক পাতলা পায়খানার সমস্যায় চিকিৎসা নিতে এসে বলেন, ডাক্তার দুই ধরনের ওষুধ লিখলেও হাসপাতাল থেকে একটি দেওয়া হয়েছে, আরেকটি বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।

ভালুকা কলেজ এলাকার স্বাধীন তার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে এসে জানান, এক্স-রে করা গেলেও কোনো সরকারি ওষুধ পাননি। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়েছে।

ধামশুর এলাকার আক্তার হোসেন মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসে বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার কম। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিছু ওষুধ দেওয়া হলেও বেশিরভাগই বাইরে থেকে কিনতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুতর রোগী হাসপাতালে এলে অনেক সময় যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে ময়মনসিংহে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

হাসপাতালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্য জাহিদ হাসান বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হাসপাতালে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে হাসপাতালে কোনো নিরাপত্তা সদস্য ছিল না। তখন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অটোরিকশা ও সিএনজি ঢুকে থাকতো এবং দালালদের দৌরাত্ম্য ছিল। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ট্রমা সেন্টারের বারান্দায় বেড, ফোমসহ বেশ কিছু দামি যন্ত্রাংশ পড়ে আছে। নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ওয়ার্ডের পাশেও কয়েকটি বেড অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

রোববার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ডাক্তারের চেম্বারে তালা ঝুলছে। কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, ডাক্তার কোনো পরীক্ষা দিলে তা হাসপাতালেই করা সম্ভব হয় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের সব ধরনের টেস্টই হাসপাতালে করা হয়। হাসপাতালের বারান্দায় দামি বেড, ফোম ও বিভিন্ন মেশিন পড়ে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। সেগুলো নিলামের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হবে। স্টোররুম না থাকায় আপাতত বারান্দায় রাখা হয়েছে।’ 

ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ‘বিষয়টি তিনি সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে খতিয়ে দেখবেন।’

ময়মনসিংহের ডেপুটি সিভিল সার্জন ও ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহ্‌মেদ বলেন, ‘ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যেগুলো নিলাম করা হবে। এছাড়া বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow