‘ভুল চিকিৎসায়’ প্রসূতির মৃত্যু, ১১ লাখ টাকায় রফাদফা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনা সালিশির মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বৈঠক করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এ ঘটনায় ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (০৯ এপ্রিল) পৌর সদরের একটি হোটেলে উভয় পক্ষের স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠক সভাপতিত্ব করেন আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা ও শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খবির উদ্দিন।
জানা গেছে, সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মোট ১১ লাখ টাকা প্রদান করতে বলা হয়। এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি ৯ লাখ টাকা আগামী এক মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা রয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, মোট অর্থের মধ্যে ৮ লাখ টাকা মৃত প্রসূতির নবজাতক পুত্রসন্তানের নামে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রাখা হবে। অবশিষ্ট ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার পরিবারের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে। তবে স্বামীর বাড়ির লোকজন তাদের ভাগের টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনা সালিশির মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বৈঠক করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এ ঘটনায় ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (০৯ এপ্রিল) পৌর সদরের একটি হোটেলে উভয় পক্ষের স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠক সভাপতিত্ব করেন আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা ও শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খবির উদ্দিন।
জানা গেছে, সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মোট ১১ লাখ টাকা প্রদান করতে বলা হয়। এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি ৯ লাখ টাকা আগামী এক মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা রয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, মোট অর্থের মধ্যে ৮ লাখ টাকা মৃত প্রসূতির নবজাতক পুত্রসন্তানের নামে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রাখা হবে। অবশিষ্ট ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার পরিবারের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে। তবে স্বামীর বাড়ির লোকজন তাদের ভাগের টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই একটি জীবনের বিনিময়ে অর্থের মাধ্যমে আপসকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছে যেখানে জীবনের মূল্য টাকায় নির্ধারিত হয়, সেখানে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিকতার অবস্থান কোথায়?
অপরদিকে, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছে।
মৃত প্রসূতি রাকিবার বাবা মিজান মিয়া কালবেলাকে জানান, ডাক্তারের অবহেলার কারণে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমি ভাবলাম- মেয়েকে কখনও আর ফিরে পাবোনা, নাতিটার জন্য আমি গতকাল সালিশিতে বসেছি। এতে সালিশকারীরা ১১ লাখ টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করেন।
হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বড় ভাই লিল মিয়া সর্দার কালবেলাকে বলেন, সালিশিতে ১১ লাখ টাকার রফাদফা হয়ে বিষয়টি শেষ হয়েছে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, সালিশি বৈঠকের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কেউ থানায় মামলা করেননি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে পুলিশ নিজ উদ্যোগে মামলা করবে।
উল্লেখ্য, গত (৪ এপ্রিল) রাকিবা নামে এক প্রসূতি নবীনগর সদরের আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসকের অবেহেলায় মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল।