‘ভুল তদন্তে ৪ জন মেয়ের জীবন নষ্ট’
রংপুর নগরীতে একটি সিনেমা হলে ‘ছোট ছোট কক্ষ’ ভাড়া দিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগ উঠে। এ অভিযোগে সেখান থেকে ৩৫ প্রেমিক যুগলকে আটক করে কার্যালয়ে নিয়ে যায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে পরিবারকে ডেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এ ঘটনায় উঠেছে ভিন্ন আরেক অভিযোগ।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর শাপলা সিনেমা হলে এ অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোছা. মোবাশ্বারা রয়েছেন। তবে এ ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ভুল তদন্তের’ অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আটকের পরপরই তার ছবি ও পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে নিজের ফেসবুক পোস্টে মোবাশ্বেরা দাবি করেন, নতুন একটি সিনেমা দেখতে মেসের চারজন তরুণী একসঙ্গে হলে গিয়েছিলেন। অভিযানের সময় গণহারে সবাইকে আটক করা হয় এবং পরে তাদের নির্দোষ বিবেচনায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে মোবাশ্বারা লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে একটা কথা বলি, সিনেমা হলে যাওয়াটা খারাপ না। কে কীভাবে যাবে এটাই বড় কথা। আজকে নতুন মুভি বের হওয়ায় মেসের চারজন মিলে ছবি দেখতে যা
রংপুর নগরীতে একটি সিনেমা হলে ‘ছোট ছোট কক্ষ’ ভাড়া দিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগ উঠে। এ অভিযোগে সেখান থেকে ৩৫ প্রেমিক যুগলকে আটক করে কার্যালয়ে নিয়ে যায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে পরিবারকে ডেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এ ঘটনায় উঠেছে ভিন্ন আরেক অভিযোগ।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর শাপলা সিনেমা হলে এ অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোছা. মোবাশ্বারা রয়েছেন। তবে এ ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ভুল তদন্তের’ অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আটকের পরপরই তার ছবি ও পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে নিজের ফেসবুক পোস্টে মোবাশ্বেরা দাবি করেন, নতুন একটি সিনেমা দেখতে মেসের চারজন তরুণী একসঙ্গে হলে গিয়েছিলেন। অভিযানের সময় গণহারে সবাইকে আটক করা হয় এবং পরে তাদের নির্দোষ বিবেচনায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে মোবাশ্বারা লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে একটা কথা বলি, সিনেমা হলে যাওয়াটা খারাপ না। কে কীভাবে যাবে এটাই বড় কথা। আজকে নতুন মুভি বের হওয়ায় মেসের চারজন মিলে ছবি দেখতে যাই। হঠাৎ গণহারে সবাইকে পুলিশ ধরে। আমরা চারজন মেয়ে ছিলাম। আমাদের সাথে সাথে অফিসে গিয়ে ছেড়েও দেয়। আমরা নির্দোষ ছিলাম তাই ধরেও রাখেনি। তবে সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে তা আমার জীবন শেষ করে দিচ্ছে। আমি এই দোষ নিতে পারছি না। পুলিশ ভুল তদন্তে আমাদের জীবন নষ্ট করে দিল। এখন আমাদের এই চারজনের মৃত্যু ছাড়া কোনো উপায় নেই। আল্লাহ হাফেজ। আমার ভুল হলে মাফ করিয়েন।’
এদিকে আটকের পর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সিনেমা হলটির তৃতীয় তলায় আটটি ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করে সেগুলো ৬০০ টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল। সিনেমা চলাকালীন সময়ে সেখানে অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছিল এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়।
তিনি জানান, এ সময় সাদা পোশাকে পুলিশের প্রবেশে বাধা দেয় হল কর্তৃপক্ষ। পরে সেই কক্ষগুলো থেকে আপত্তিকর অবস্থায় প্রেমিক যুগলদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১৯ জন নারী ও ১৬ জন পুরুষ রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এখানে অভিযোগ উঠতে পারে আমরা সিনেমা হলে অভিযান পরিচালনা করেছি কিনা। কিন্তু আমরা সিনেমা হলে বা সিনেমার বিরুদ্ধে অভিযান করিনি। বরং হলের ভেতরে আলাদা কক্ষে বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে অবাধ মেলামেশার জন্য একটা বিশেষ পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল, সেটার বিরুদ্ধে অভিযান করা হয়েছে।
ছাত্রশক্তি নেত্রীর এই অভিযোগের পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী কালবেলাকে বলেন, ‘এখন এটা যদি কেউ গায়ে পড়ে বা অন্যভাবে নিয়ে ব্যাখ্যা করে তাহলে কিছু করার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখলাম মেয়েগুলো বা ছেলেগুলোর বয়স কম। তাদের কথা চিন্তা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’