‘ভুলবশত’ মুক্তি পাওয়া ৩ আসামিকে ফের কারাগারে পাঠানোয় লিগ্যাল নোটিশ

ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভুলবশত মুক্তিপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পরবর্তীতে আইন লঙ্ঘনপূর্বক পুনরায় গ্রেফতার ও সরাসরি কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় যথাযথ নির্দেশনা ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। লিগ্যাল নোটিশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং ময়মনসিংহের ১ নম্বর জি. আর আমলি আদালতের (অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) আদেশে প্রকাশ পায় যে, মামলার তিন আসামি— জাকিরুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম ও  আনিছ মিয়া ২৭ জানুয়ারি আদালতের কোনো আদেশ বা জামিন ব্যতিরেকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভুলবশত মুক্তি পান। পরবর্তীতে জেল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-১৪ তিন আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করা হলেও সংবিধানের ৩৩(২) অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ৬৭এ

‘ভুলবশত’ মুক্তি পাওয়া ৩ আসামিকে ফের কারাগারে পাঠানোয় লিগ্যাল নোটিশ

ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভুলবশত মুক্তিপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পরবর্তীতে আইন লঙ্ঘনপূর্বক পুনরায় গ্রেফতার ও সরাসরি কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় যথাযথ নির্দেশনা ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

লিগ্যাল নোটিশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং ময়মনসিংহের ১ নম্বর জি. আর আমলি আদালতের (অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) আদেশে প্রকাশ পায় যে, মামলার তিন আসামি— জাকিরুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম ও  আনিছ মিয়া ২৭ জানুয়ারি আদালতের কোনো আদেশ বা জামিন ব্যতিরেকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভুলবশত মুক্তি পান।

পরবর্তীতে জেল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-১৪ তিন আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করা হলেও সংবিধানের ৩৩(২) অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ৬৭এ ধারায় নির্ধারিত বাধ্যতামূলক আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাদের কোনো ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির না করে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন
জামিননামা ছাড়াই হত্যা মামলার ৩ আসামিকে ছেড়ে দিলো কারা কর্তৃপক্ষ
জামিননামা ছাড়াই কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া তিন আসামি গ্রেফতার

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী—গ্রেফতারের সময় মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট প্রস্তুত করা হয়নি, সাধারণ ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়নি এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়নি। যা সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার, আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘনের শামিল।

ঘটনাটি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দোষী কর্মকর্তা ও দায়িত্ব অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে  কোনো স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি, যা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও জনআস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।

অতএব উপরিউক্ত পরিস্থিতিতে জোর দাবি জানানো যাচ্ছে যে—ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষী কর্মকর্তা ও দায়িত্ব অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাবিসমূহ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আলোকে হাইকোর্ট বিভাগে যথাযথ নির্দেশনা চেয়ে রিট পিটিশনসহ সব আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।

এফএইচ/এমআইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow