‘ভুয়া’ চিকিৎসকের পরিচয় প্রকাশ করে প্রতিবেদন, প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা
মাহামুদুল হাসান, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ‘এমবিবিএস ডিগ্রিধারী’ পরিচয়ে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে সেই ‘ভুয়া’ চিকিৎসকের পরিচয় জানাজানি হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষোভে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে মামলা করেন মাহামুদুল। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা।
সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, গত ৫ মে দৈনিক কালবেলার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এবং পরবর্তীতে ১৮ মে বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে মাহামুদুল হাসানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত পরিচয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
মানহানি ও হুমকির প্রেক্ষিতে গত ১২ মে আদালতে একটি মামলা করেন ডিবিসি নিউজের বাগেরহাট প্রতিনিধি সৈকত মণ্ডল। যা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে, তদন্ত চলমান অবস্থায় মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে মাহামুদুল হাসান চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি পাল্টা মামলা করেছেন। ওই মামলায় সংবাদ সংগ্রহে অংশ না
মাহামুদুল হাসান, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ‘এমবিবিএস ডিগ্রিধারী’ পরিচয়ে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে সেই ‘ভুয়া’ চিকিৎসকের পরিচয় জানাজানি হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষোভে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে মামলা করেন মাহামুদুল। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা।
সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, গত ৫ মে দৈনিক কালবেলার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এবং পরবর্তীতে ১৮ মে বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে মাহামুদুল হাসানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত পরিচয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
মানহানি ও হুমকির প্রেক্ষিতে গত ১২ মে আদালতে একটি মামলা করেন ডিবিসি নিউজের বাগেরহাট প্রতিনিধি সৈকত মণ্ডল। যা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে, তদন্ত চলমান অবস্থায় মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে মাহামুদুল হাসান চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি পাল্টা মামলা করেছেন। ওই মামলায় সংবাদ সংগ্রহে অংশ না নেওয়া কয়েকজনের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, কয়েকজন সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, জনস্বার্থে প্রকাশিত অনুসন্ধানী সংবাদের জেরে সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা-হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ের করা মামলাগুলোর সুষ্ঠু পর্যালোচনার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে সাংবাদিক সৈকত মণ্ডল বলেন, ‘আমি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করিনি। যারা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আমার ও আমার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপতথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিচারাধীন একটি বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
এদিকে, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গেলে মাহামুদুল হাসান ও তার অনুসারীরা আমাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং মব সৃষ্টির মাধ্যমে হেনস্তা করেন। পরবর্তীতে একজন সহকর্মী আইনের আশ্রয় নেওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধেও পাল্টা মামলা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
স্থানীয় সাংবাদিক মহলের অভিযোগ, মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাব তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।’