ভুয়া ছাপাখানা দেখিয়ে বই ছাপার কাজ, শাস্তির মুখে বর্ণমালা প্রেস

ভুয়া ছাপাখানা ও মেশিনারি যন্ত্রপাতি দেখিয়ে প্রায় ১০ লাখ পাঠ্যবই ছাপার কাজ বাগিয়ে নেয় মোজাম্মেল হোসেন খানের মালিকানাধীন ‘বর্ণমালা প্রেস’। পরে অন্যদের ছাপাখানা থেকে বই ছাপিয়ে সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি। তাতে নিম্নমানের বই যেমন দিয়েছে, পাশাপাশি সরবরাহেও দেরি করেছে এ ছাপাখানা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজ নিয়ে অন্যকে দিয়ে পাঠ্যবই ছাপানো এবং দেরিতে সরবরাহ করায় বর্ণমালা প্রেসকে শাস্তির আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। গত ৩ মে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক আবু নাসের টুকুর সই করা এক নোটিশে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের দরপত্র মূল্যায়নের সময় এনসিটিবির মনোনীত প্রতিনিধিদল বর্ণমালা প্রেসের দেওয়া ঠিকানায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে মুদ্রণ ও বাঁধাই যন্ত্র চালু অবস্থায় দেখতে পায় এবং সে অনুযায়ী প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বর্ণমালা প্রেসকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে। এতে আরও বলা হয়, ‘পরবর্তীতে মুদ্রণকালীন সময়ে বর্ণমালা প্রেস যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করেনি এবং নিজস্ব মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে মুদ্রণ না করে অ

ভুয়া ছাপাখানা দেখিয়ে বই ছাপার কাজ, শাস্তির মুখে বর্ণমালা প্রেস

ভুয়া ছাপাখানা ও মেশিনারি যন্ত্রপাতি দেখিয়ে প্রায় ১০ লাখ পাঠ্যবই ছাপার কাজ বাগিয়ে নেয় মোজাম্মেল হোসেন খানের মালিকানাধীন ‘বর্ণমালা প্রেস’। পরে অন্যদের ছাপাখানা থেকে বই ছাপিয়ে সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি। তাতে নিম্নমানের বই যেমন দিয়েছে, পাশাপাশি সরবরাহেও দেরি করেছে এ ছাপাখানা।

দরপত্রের মাধ্যমে কাজ নিয়ে অন্যকে দিয়ে পাঠ্যবই ছাপানো এবং দেরিতে সরবরাহ করায় বর্ণমালা প্রেসকে শাস্তির আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। গত ৩ মে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক আবু নাসের টুকুর সই করা এক নোটিশে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের দরপত্র মূল্যায়নের সময় এনসিটিবির মনোনীত প্রতিনিধিদল বর্ণমালা প্রেসের দেওয়া ঠিকানায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে মুদ্রণ ও বাঁধাই যন্ত্র চালু অবস্থায় দেখতে পায় এবং সে অনুযায়ী প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বর্ণমালা প্রেসকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে।

এতে আরও বলা হয়, ‘পরবর্তীতে মুদ্রণকালীন সময়ে বর্ণমালা প্রেস যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করেনি এবং নিজস্ব মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে মুদ্রণ না করে অন্য প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতি করে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করে। এটি একটি প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বিধায় পিপিআর বিধি ২০২৫-এর ১৪৯(৩) ধারা মোতাবেক আপনার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

এদিকে, বর্ণমালা প্রেসের পক্ষ থেকে শোকজ নোটিশের জবাব দেওয়া হলেও তা সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি বলে জানিয়েছে এনসিটিবি সূত্র। এ কারণে পিপিআর বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটছে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, মোজাম্মেল হোসেন খানের মালিকানাধীন বর্ণমালা প্রেস মোট ১০টি লট পাঠ্যবইয়ের কাজ পেয়েছিল। তার মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টমের বই ছিল। এসব বই তিনি নিজের প্রেস থেকে ছাপাননি। বিভিন্ন প্রেস থেকে নিম্নমানের ছাপানো বই সরবরাহ করেছেন। পাশাপাশি চুক্তির শর্ত মোতাবেক নির্ধারিত সময়েও তিনি বই দিতে পারেননি।

জানতে চাইলে বর্ণমালা প্রেসের স্বত্বাধিকারী মো. মোজাম্মেল হোসেন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাকে শোকজ করা হয়েছে। আমি জবাব দিয়েছি। দেখা যাক এনসিটিবি কী এমন ব্যবস্থা নেয়।’

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক আবু নাসের টুকু জাগো নিউজকে বলেন, ‘যারাই অনিয়ম করবে, তাদের বিরুদ্ধে বিধি ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এএএইচ/এমএএইচ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow