ভূমি অফিসে দালালচক্র ঠেকাতে ১১ দফা পদক্ষেপ

উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে জেঁকে বসা দুর্নীতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ই-নামজারি থেকে শুরু করে হটলাইন ১৬১২২ পর্যন্ত মোট ১১টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে এই খাতের অনিয়ম দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। মন্ত্রণালয় থেকে গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে তিনি জানান,১. ডিজিটাল নামজারি ও অনলাইন কর (e-Mutation): দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধে শতভাগ ই-নামজারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনের প্রতিটি ধাপের আপডেট এখন আবেদনকারীকে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হয়। পাশাপাশি ভূমি কর্মকর্তাদের হাতে নগদ টাকা লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। নাগরিকরা এখন বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিতে পারছেন। ২. কর্মকর্তাদের কঠোর জবাবদিহিতা ও সারপ্রাইজ ভিজিট: মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে

ভূমি অফিসে দালালচক্র ঠেকাতে ১১ দফা পদক্ষেপ

উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে জেঁকে বসা দুর্নীতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ই-নামজারি থেকে শুরু করে হটলাইন ১৬১২২ পর্যন্ত মোট ১১টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে এই খাতের অনিয়ম দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রণালয় থেকে গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে তিনি জানান,
১. ডিজিটাল নামজারি ও অনলাইন কর (e-Mutation): দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধে শতভাগ ই-নামজারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনের প্রতিটি ধাপের আপডেট এখন আবেদনকারীকে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হয়। পাশাপাশি ভূমি কর্মকর্তাদের হাতে নগদ টাকা লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। নাগরিকরা এখন বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিতে পারছেন।

২. কর্মকর্তাদের কঠোর জবাবদিহিতা ও সারপ্রাইজ ভিজিট: মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলা বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক শোকজ ও বিভাগীয় মামলা দায়েরের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৩. ভূমি সেবা হটলাইন (১৬১২২): যে কোনো ভূমি অফিসে ঘুসের দাবি বা হয়রানির শিকার হলে ভুক্তভোগীরা সরাসরি ১৬১২২ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এটি সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে এবং মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি তদারকি করা হয়।

৪. ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ: ম্যাপ বা নকশা জালিয়াতি বন্ধে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল সার্ভে শুরু হয়েছে। এর ফলে রেকর্ড সংশোধনে মানুষের হস্তক্ষেপ কমবে এবং নিখুঁত ম্যাপ তৈরি হবে।

৫. ঘরে বসে ই-পর্চা ও ভূমি অ্যাপ সেবা : নাগরিকরা এখন land.gov.bd পোর্টাল থেকে ঘরে বসেই খতিয়ান দেখতে ও ডাকযোগে পর্চা সংগ্রহ করতে পারছেন। এছাড়া ভূমি অ্যাপ এবং কিউআর কোড যুক্ত ডিজিটাল খতিয়ান ব্যবস্থার ফলে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।

৬. নাগরিক সেবা কেন্দ্র ও অভিযোগ প্রতিকার: ঢাকার তেজগাঁওস্থ ভূমি ভবনের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে নাগরিক সেবা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া অনলাইনে অভিযোগ করার জন্য বিশেষ অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ভূমি অধিগ্রহণ এবং লিজ অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমকেও সফটওয়্যারের আওতায় আনার কাজ চলছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর সম্পন্ন হলে ভূমি খাতে দুর্নীতির সুযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এমওএস/এমআইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow