ভূয়াপুর-তারাকান্দি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার (২০ জুলাই) নদীর প্রবল স্রোতে মহাসড়কের একাধিক অংশ ঝুঁকির মুখে পড়ায় সকাল থেকে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে। এতে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর তীব্র স্রোতের আঘাতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফলে অনেক যানবাহনকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এলাকাবাসী জানান, ভাঙন শুরু হওয়ার পর রাতেই স্থানীয়রা বাঁশ ও গাছ ব্যবহার করে নিজ উদ্যোগে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘রাতভর আমরা নিজেরাই নদীর স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। স্থায়ী নদীশাসন না হলে প্রতিবছর একই সংকট তৈরি হবে।’ স্থায়ী বাসিন্দা হালিম

ভূয়াপুর-তারাকান্দি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার (২০ জুলাই) নদীর প্রবল স্রোতে মহাসড়কের একাধিক অংশ ঝুঁকির মুখে পড়ায় সকাল থেকে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে। এতে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর তীব্র স্রোতের আঘাতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফলে অনেক যানবাহনকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ভাঙন শুরু হওয়ার পর রাতেই স্থানীয়রা বাঁশ ও গাছ ব্যবহার করে নিজ উদ্যোগে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা শুরু করে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘রাতভর আমরা নিজেরাই নদীর স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। স্থায়ী নদীশাসন না হলে প্রতিবছর একই সংকট তৈরি হবে।’

স্থায়ী বাসিন্দা হালিম তালুকদার বলেন, ‘যমুনা কয়েকদিন ধরেই ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’

স্থানীয় দোকানদার নুরুল আলম জানান, গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় নলিন বাজারের উত্তরে স্লুইসগেট-সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে নদীর তীব্র স্রোতের আঘাতে ভাঙন শুরু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী একযোগে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করেন। তাদের আশঙ্কা, বাঁধটি ভেঙে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর জিওব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ীভাবে নদীশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তাই টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, খবর পেয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো সংস্কার করা হলে সড়কটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল মোর্শেদ জানান, ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ইতোমধ্যে দুদফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। সড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও বিকল্প পথে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে এবং মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত কমিয়ে আনতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow